fbpx
অফবিটআন্তর্জাতিকআমেরিকাহেডলাইন

TIME ম্যাগাজিনে প্রথম ‘কিড ডক্টর ইয়ারে’ স্থান পেল ভারতীয় বংশোদ্ভুত মার্কিন কিশোরী গীতাঞ্জলি রাও

নিউইয়র্ক, সংবাদসংস্থা:  বয়সে ছোট, তবে ভাবনা এবং কাজে অনেকের থেকে এগিয়ে। আর সেই কৃতিত্বের জন্য এবার টাইম ম্যাগাজিনের বছরের সেরা শিশুর তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে ভারতীয়–বংশোদ্ভুত ১৫ বছরের কিশোরী গীতাঞ্জলি রাও। যে একজন উজ্জ্বল তরুণ বিজ্ঞানী এবং গবেষক। এবছর বিজ্ঞান, শিল্পসহ নানাক্ষেত্রে অবদানের ভিত্তিতে ৮ থেকে ১৬ বছর বয়সী ৫০০০ জনের মধ্যে থেকে পাঁচ শিশুকে বেছে নিয়েছে টাইম ম্যাগাজিন। সেখানেই সবাইকে পিছনে ফেলে ‘সেরা শিশু ২০২০’ হয়েছে ভারতীয়-মার্কিনি গীতাঞ্জলি রাও।

 

যখন সে দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তো, তখন থেকেই গীতাঞ্জলী চিন্তাভাবনা করতে শুরু করেছিল, কীভাবে সামাজিক পরিবর্তন আনতে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারেন। বছর চারেক আগে চেস্টার ফল হিসাবে, দ্রুত ও কম খরচে দূষিত জলে সীসা শনাক্ত করার যন্ত্র ‘টেথিস’ আবিষ্কার করে ১১ বছর বয়সেই ‘আমেরিকার শীর্ষ তরুণ বিজ্ঞানী’ হিসেবে চিহ্নিত হয় গীতাঞ্জলি। গতবছর ফোর্বসের অনূর্ধ্ব ত্রিশ বছর বয়সী সফলদের তালিকাতেও স্থান পেয়েছিল কলোরাডোর বাসিন্দা এই কিশোরী। সেই গীতাঞ্জলিকে এবার টাইম ম্যগাজিনের পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। যেখানে গীতাঞ্জলি জানায়, তার প্রজন্ম অনেক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে যা তারা আগে কখনও দেখেনি। তার মতে, ‘একই সময়ে, আমরা এখনও পুরোনো সমস্যাগুলির মুখোমুখি হয়েছি। যেমন, আমরা এখানে মহামারীর মাঝে বসে আছি এবং আমরা এখনও মানবাধিকার সম্পর্কিত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি।’

সমাজ সচেতনতার পাশাপাশি সাক্ষাৎকারে দূষিত পানির সমস্যা, মাদকাসক্তি এবং সাইবারবুলিং এর মতো সমস্যা মোকাবেলায় প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে তার কাজ করে যাওয়ার কথা জানিয়েছে গীতাঞ্জলী। লক্ষ্য হিসাবে জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী নানা সমস্যা সমাধানে তরুণ উদ্ভাবকদের একটি ‘গ্লোবাল কমিউনিটি’ গড়ে তোলা। যেখানে সারা বিশ্বের তরুণ গবেষকরা সমস্যার সমাধানে কাজ করবে। সেই পরিপেক্ষিতেই সাক্ষাৎকারে গীতাঞ্জলি বলেছেন, ‘চিন্তা করুন, গবেষণা করুন, তৈরি করুন এবং সেটির বিষয়ে কথা বলুন।’ একইসঙ্গে বলেছে, ‘প্রতিটি সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন না। বরং, আপনি এমন বিষয়ে মনোযোগ দিন যা আপনাকে অনুপ্রাণিত বা উৎসাহিত করে। আমি যদি এটি করতে পারি তবে যে কেউ এটি করতে পারে।’ এদিকে, টাইম ম্যাগাজিনের ‘টাইম ফর কিডস’ বিভাগের সম্পাদক আন্দ্রে ডেলবাঙ্কো এ সাক্ষাতকারের বিষয়ে বলেন, ‘ছোট ছোট প্রচেষ্টাগুলোই বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।’ টাইম ম্যাগাজিনের তরফে গীতাঞ্জলিকে নিয়ে লেখা হয়েছে, ‘এই বিশ্বকে যাঁরা বদলাতে চান, এই লেখা তাঁদের জন্য। আগামী প্রজন্মের শিশুরা নিজেদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা দিয়ে অনেক কিছু করতে চায়। সেই ৮–১৬ বছর বয়সী ৫ হাজার শিশুদের পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে গীতাঞ্জলি।’

 

টাইম ম্যাগাজিনের বছরের প্রভাবশালী পাঁচ শিশুর তালিকায় সর্বপ্রথম গীতাঞ্জলি ছাড়াও আরও যে চার শিশু স্থান পেয়েছে তারা হল: ক্যালিফোর্নিয়ার চিত্রশিল্পী টাইলর গর্ডন (১৪), মিসৌরির ডিজাইনার জর্ডান রিভস (১৪), ভার্জিনিয়ার ক্রেয়ন শিল্পী ব্যালেন উডওয়ার্ড (১০) এবং অস্টিনের হাঙ্গার কর্মী আয়ান ম্যাককেনা (১৬)। এই শিশুরা সংকটে পড়া মানুষের জন্য খাবার উৎপাদন থেকে শুরু করে, অক্ষম শিশুদের জন্য ভাল খেলনার নকশা তৈরি করা এমনকী বর্ণবাদের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close