fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

সামরিক শক্তিতে ভারত-চিন টক্কর

রক্তিম দাশ, কলকাতা: সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যেই ‘মিলিটারি স্ট্রেন্থ র‍্যাকিং’ ২০২০ এর তালিকায়  সামরিক শক্তির নিরিখে চিনের পাশে জায়গা করে নিল ভারত।   গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার (জিএফপি) নামের একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষায় সামরিক শক্তিতে শীর্ষে রয়েছে আমেরিকা। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে রাশিয়া। অন্যদিকে, তৃতীয় চীন ও চতুর্থ স্থানে ভারত। এরপরেই রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, গ্রেট বৃটেস, মিশর এবং ব্রাজিল। এই তালিকায় প্রতিবেশি মায়নমার ৩৫তম এবং বাংলাদেশ ৪৬ তম অবস্থানে রয়েছে। ১৩৮ সামরিক শক্তিধর দেশের তালিকায় সর্বনিন্মে অবস্থান করছে ভূটান।

এই সমীক্ষায় জানা যাচ্ছে, চিনের সামরিক খাতে অর্থবরাদ্দের পরিমান ২৩৭০ কোটি, ভারতের ৬১০ কোটি এবং পাকিস্তানের ১১৪ কোটি ডলার। স্টকহোম ইন্টারন্যাশানল পীস রির্সাচ ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুসারে এই মূহুর্তে চিনের কাছে ২৮০, ভারতের ১৪০ এবং পাকিস্তানের কাছে ১৪০ টি পারমানবিক অস্ত্র রয়েছে। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার তথ্য অনুসারে চিনের সামরিক বাহিনীতে ২১ লক্ষ ২৩ হাজার সেনা এবং রির্জাভ সেনা রয়েছে ৫ লক্ষ ১০ হাজার। ভারতের সেনার সংখ্যা ১৪ লক্ষ ৪৪ হাজার হলেও চিনের তুলনায় রির্জাভ সেনার সংখ্যা বেশি। এই সংখ্যাটা ২১ লক্ষ। অপর দিকে পাকিস্তানের সেনা সংখ্যা ৬ লক্ষ ৫৩ হাজার ৮০০  এবং রির্জাভ সেনা রয়েছে ৫ লক্ষ ৫০ হাজার।

চিনা বিমানবাহিনীতে এয়ারক্রাফট ৩২১০, যুদ্ধবিমান ১২৩২ হেলিকপ্টার ৯১১ রয়েছে। ভারতের রয়েছে এয়ারক্রাফট ২১২৩, যুদ্ধবিমান ৫৩৮, হেলিকপ্টার ৭২২। পাকিস্তানের রয়েছে এয়ারক্রাফট ১৩৭২, যুদ্ধবিমান ৩৫৬ হেলিকপ্টার ৩৪৬।

চিনা স্থলবাহিনীতে ট্যাঙ্ক ৩৫০০, সংক্রিয় অ্যাটিলারি ৩৮০০, ফিল্ড অ্যাটিলারি ৩৬০০ এবং রকেট প্রজেক্টর রয়েছে ২৬৫০ টি। অপর দিকে ভারতের ট্যাঙ্ক ৪২৯২, সংক্রিয় অ্যাটিলারি ২৩৫, ফিল্ড অ্যাটিলারি ৪০৬০ এবং রকেট প্রজেক্টর রয়েছে ২৬৬ টি। আর পকিস্তানের ট্যাঙ্ক ২২০০, সংক্রিয় অ্যাটিলারি ৪২৯, ফিল্ড অ্যাটিলারি ১২২৬ এবং রকেট প্রজেক্টর রয়েছে ১০০ টি।

আরও পড়ুন: চলতি বছরেই বাজারে আসছে করোনা ভ্যাকসিন, আনছে দুই মার্কিন সংস্থা

চিনা নৌবাহিনীতে  নৌবহর ৭৭৭, যুদ্ধ বিমানবাহি জাহাজ ২, সাবমেরিন ৭৪, ডেস্ট্রয়ার ৩৬, ফ্রিগেট ৫২ টি রয়েছে। অপরদিকে ভারতের রয়েছে নৌবহর ২৮৫, যুদ্ধ বিমানবাহি জাহাজ ১, সাবমেরিন ১৬, ডেস্ট্রয়ার ১০, ফ্রিগেট ১৩ টি রয়েছে। আর পাকিস্তানের নৌবহর ১০০, যুদ্ধ বিমানবাহি জাহাজ ০, সাবমেরিন ৮, ডেস্ট্রয়ার ০, ফ্রিগেট ৯ টি রয়েছে। ভারতের হাতে আছে ভূমি থেকে ভূমি অগ্নি-৩, ব্রহ্মাসহ ৯ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র। এগুলোর পাল্লা ৩ থেকে ৫ হাজার কিলোমিটার। এছাড়াও অগ্নি-৫ ইন্টারকন্টিলেন্টাল ব্যালেস্টিক মিসাইল যার পাল্লা ৫ থেকে ৮ হাজার কিলোমিটার। এছাড়া সমুদ্র থেকে আঘাত হানার জন্য ধনুশ ব্যালিস্টিক মিসাইল যার পাল্লা ৩৫০ কিলোমিটার, সাগরিকা (কে -১৫) সাবমেরিন থেকে পরিচালিত মিসাইল যার পাল্লা ৭০০ কিলোমিটার এবং কে-৪ সাবমেরিন থেকে পরিচালিত মিসাইল যার পাল্লা ৩৫০০ কিলোমিটার। এছাড়াও ভারতের হাতে রয়েছে সর্বাধুনিক সমরাস্ত্র কালি ৫০০০। এই মুহূর্তে চিন্তিত চিন। যেকোনও মিসাইল হামলা শিধু প্রতিহত করা নয়, কালি মহাকাশে ভাস্মান স্যাটেলাইটও ধ্বংস করে দিতে পারে। লক্ষ্যবস্ততে আঘাত হানার আগেই আকাশেই ধ্বংস করে দিতে পারে শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান, মিসাইলকেও। এই মারণাস্ত্রটি ভারতকে চিনের তুলনায় সামরিক ভাবে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের হাতে আছে শাহিন-২ ক্ষেপণাস্ত্র। এর পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটার।  ভারতের সুখোই ৩০ এমকেআই, মিরাজ ২০০০, মিগ ২৯, মিগ ২১ বাইসন, ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস এবং নেত্র , রাফায়েল, জাগুয়ার যুদ্ধ বিমান রয়েছে। এছাড়াও  চিনুক এবং অ্যাপাচের মতো যুদ্ধ হেলিকপ্টার রয়েছে।

 

Related Articles

Back to top button
Close