fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

Asian giants conflict! শুধু লাদাখ নয়! ভারত-চিন কূটনৈতিক যুদ্ধে উত্তপ্ত হচ্ছে মায়ানমার-থাইল্যান্ডেও

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: লাদাখ ছাড়িয়ে ভারত-চিন সংঘাতের ব্যাপ্তি ক্রমেই বেড়ে চলেছে এশিয়াজুড়ে। চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এশিয়া জুড়ে বিস্তৃত হচ্ছে ক্রমে ততই সংঘাতে লিপ্ত হচ্ছে এশিয়ার বৃহত্তম দেশ ভারত ও চিন। পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দর থেকে পাক অধিকৃত কাশ্মীর হয় একটা চলেগেছে সিল্ক রোড ধরে। তেমনই সমুদ্রে ভারতকে কোণঠাসা করতে শ্রীলংকার হাম্বানতোতা ঘাঁটি গেড়েছে চিনা নৌসেনা। চিনের এই আগ্রাসী বলয়ে রয়েছে মালদ্বীপ মরিশাসের মতো ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপগুলোও।

পশ্চিমে পাকিস্তান-দক্ষিণ শ্রীলংকা মালদ্বীপ এরপর মায়ানমারকে করায়ত্ত করতে হাত বাড়াচ্ছে বেজিং। কিন্তু সেক্ষেত্রে জিংপিং প্রশাসনের উদ্যোগে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে নয়াদিল্লি। ‌ ভারতের অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি অনুযায়ী সম্প্রতি মায়ানমারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে উদ্যোগী হয়েছে মোদি সরকার। করোনাভাইরাস আবহে মায়ানমারে যখন ক্রমেই বেড়ে চলেছে সংক্রমণের হার, বেকায়দায় সেদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা। তখন বন্ধুর মত পাশে দাঁড়াল ভারত। সম্প্রতি বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা ও সেনাপ্রধান এমএম নারাভানে সফরের মধ্যে দিয়ে ৬০০০ ভায়াল স্বদেশী ও করোনা প্রতিষেধক রেমডিসিভির তুলে দেওয়া হল অংসান সুচি প্রশাসনের হাতে। পাশাপাশি চিনকে প্রতিহত করতে মিয়ানমারের সঙ্গে নৌ সামরিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে ক্ষুব্ধ কি হয়েছে ভারত। মায়ানমারের উত্তরাংশে ছয় বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার সঙ্গে পেট্রোলিয়াম রিফাইনারি কেন্দ্র নির্মাণে সহযোগিতা করবে, এমনই আশ্বাস দিয়েছে নয়াদিল্লি। ‌মোদি সরকারের এই আশ্বাসের যথেষ্টই সন্তোষ প্রকাশ করেছে সুচি প্রশাসন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে গিয়ে করণা মোকাবেলায় ও অন্যান্য কূটনৈতিক সম্পর্ককে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে এসেছেন বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধন।

গত ছ’মাস ধরে একদিকে যখন লাদাখ সীমান্তে সংঘাতে লিপ্ত দু দেশের সেনা, সেই পরিস্থিতিতে এবার ভারতের বিরুদ্ধে পূর্বাংশে চীনের দ্বিতীয় ফ্রন্ট খোলার কৌশল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। উল্লেখ্য বেশ কিছুদিন আগে মায়ানমারের আরাকান বিদ্রোহী বা আরসা চিন সামরিক মদত জুগিয়ে আসছে সুচি সরকারের বিরুদ্ধে, এমনটাই অভিযোগ করেছিলেন সে দেশের সেনা প্রধান। চেয়ে ছিলেন ভারতীয় সহযোগিতাও। তবে কি এবার সেই ডাকে সাড়া দিয়ে পূর্বের প্রতিবেশীকে পাশে থাকার আশ্বাস দিল ভারত? শুধু তাই নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ চিন সাগরে চীনের নৌ-মহড়া বাড়বাড়ন্ত নিয়ে যথেষ্টই নাজেহাল ভিয়েতনাম সিঙ্গাপুর দেশগুলো। ভিয়েতনামের পাশে দাঁড়িয়ে দক্ষিণ চিন সাগরের যুদ্ধজাহাজ প্রেরণ করে আমেরিকা-ভারত দুজনেই। এছাড়াও মালাক্কা প্রণালী রিজিওন এশিয়া প্যাসিফিক এলাকায় ভারত অস্ট্রেলিয়া জাপান আমেরিকার একটি চতুর্মুখী গোষ্ঠীর গঠনেও উদ্যোগী হয়েছে নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন ক্যানবেরা-টোকিও। ‌ এই গোষ্ঠীর মালাক্কা প্রণালী ব্লক করে দিতে তৎপর হতেই নড়েচড়ে বসে বেজিং। কারণ মালাক্কা প্রণালী দিয়ে চিনের যাবতীয় জাহাজ চলাচল করে আফ্রিকা ও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে। এই প্রণালীর বিকল্প হিসেবে চিন থাইল্যান্ড মায়ানমার সংলগ্ন তারা কেন্দ্রকে সংস্কারের কথা বললে তা বাতিল করে দেয় থাইল্যান্ড প্রশাসন। যার ফলে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত হয়েছে বেজিং ব্যাংকক সম্পর্ক।

এশিয়া-প্যাসিফিকের বর্তমান কূটনৈতিক অবস্থান ও ভারত চিন সম্পর্কে স্থিতাবস্থা করোনা পরবর্তী সময়ে কোন দিকে বিস্তার লাভ করে সেটাই দেখার।

Related Articles

Back to top button
Close