fbpx
আন্তর্জাতিকহেডলাইন

জেগে উঠল ইন্দোনেশিয়ার সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, ছাইয়ের স্তম্ভে ঢাকল গ্রামের পর গ্রাম

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  ২০১৬ সালে তাণ্ডব দেখিয়েছিল এই আগ্নেয়গিরি। ফের ফুঁসে উঠেছে মাউন্ট সিনাবাং। জেগে উঠেছে ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট সিনাবাং আগ্নেয়গিরি। ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল ভলক্যানিক এজেন্সি বা এনভিএ শনিবারই সবাইকে অবগত করেছিল যে, উত্তর সুমাত্রা দ্বীপে অবস্থিত ২৪৭৫ মিটার উচ্চতার আগ্নেয়গিরি থেকে ছাই উদ্‌গিরণ শুরু হয়েছে। গলগলিয়ে ধোঁয়া বেরোচ্ছে আগ্নেয়গিরির মুখ থেকে। বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে উত্তর সুমাত্রার একাধিক গ্রাম। কালো ধোঁয়া আর ছাইয়ের স্তর বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অবধি। দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার একাধিক সক্রিয় আগ্নেয়গিরির মধ্যে ভয়ঙ্কর এই মাউন্ট সিনাবাং।

উত্তর সুমাত্রার কারো উপত্যকায় লেক টোবা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে এই আগ্নেয়গিরি। ৮ হাজার ৭০ ফুট উচ্চতার এই আগ্নেয়গিরির সংলগ্ন এলাকাকে রেড জ়োন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মাঝে মাঝেই ফুঁসে ওঠে মাউন্ট সিনাবাং। প্রবল বেগে গ্যাস ও পোড়া ছাই উদ্গীরণ করে। ‘আবার জেগেছে মাউন্ট সিনাবাং। সারা আকাশ কালো হয়ে গেছে। মাত্র ২০ মিনিটেই সবকটা গ্রাম ঢেকে গেছে ধোঁয়ায়। রাস্তায় পুরু হয়ে জমেছে ছাইয়ের স্তূপ। গ্রাম থেকে লোকজনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০.‌১৬ মিনিটে জোরাল বিস্ফোরণ হয়। সঙ্গে সঙ্গে প্রায় ১৬,৪০০ ফুট উঁচুতে ছিটকে ওঠে ছাই, ধোঁয়া, পাথর, লাভা। শুধু ছাইয়ের কুণ্ডলীই পর্বতের শিখর থেকে পাঁচ কিলোমিটার উঁচু হয়ে উঠেছে। আগ্নেয়গিরিতে বিস্ফোরণ ঘটতেই ভূমিকম্প হয় উত্তর সুমাত্রায়। ভূতত্ত্ববিদরা সিনাবাং-এর জন্য লেভেল-৩ সতর্কতা জারি করেছে। আরও বিস্ফোরণ এবং অগ্ন্যুত্‍পাতের পূর্বাভাস দিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার শনিবার প্রথম বিস্ফোরণের পরই আগ্নেয়গিরির মূল গহ্বরের তিন কিলোমিটার ব্যাসার্ধ অঞ্চলজুড়ে কারও যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এদিনের বিস্ফোরণের পর মূল গহ্বরের পাঁচ কিলোমিটার অঞ্চল থেকে সরে থাকতে সবাইকে নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। আবহাওয়া দফতর।

আরও পড়ুন: হোয়াইট হাউসের সামনে গুলি, সরানো হল ডোনাল্ড ট্রাম্পকে

১৯১২ সালে প্রথম ফুঁসে ওঠে সিনাবাং। এরপরে সুপ্ত হয়েই ছিল এই আগ্নেয়গিরি। ২০১০ সালের অগস্টেই ভয়ঙ্কর তাণ্ডব শুরু করে সিনাবাং। লাগাতার বিস্ফোরণ, প্রবল বেগে লাভাস্রোত, ধোঁয়া বেরিয়ে আসে আগ্নেয়গিরির মুখ থেকে। বাতাসে দেড় কিলোমিটার অবধি ছড়িয়ে পড়ে গ্যাস-ছাইয়ের স্তর। ৬ হাজার গ্রামবাসীকে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয় নিরাপদ স্থানে। আগ্নেয়গিরির সংলগ্ন এলাকাকে রেড জ়োন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ওই বছরেরই সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ফের বিস্ফোরণ ঘটয় সিনাবাং। প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয় গ্রাম থেকে। ২০১৩-১৪ সালে ফের অগ্ন্যুত্‍পাত ঘটায় মাউন্ট সিনাবাং। ২০১৬ সালে আরও ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ হয়। অগ্ন্যুত্‍পাতের ঘটনায় সাত জনের মৃত্যুর খবর মেলে। ছাইয়ের বৃষ্টি শুরু হয় গ্রামগুলিতে। ঘরবাড়ি, গাছপালা ঢেকে যায় পুরু ছাইয়ের স্তরে। বিদ্যুত্‍ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১৮ হাজার গ্রামবাসীকে কয়েক সপ্তাহের জন্য ত্রাণ শিবিরে রাখতে হয়।

Related Articles

Back to top button
Close