fbpx
অফবিটলাইফস্টাইলহেডলাইন

বাড়ির ভিতরে শ্বাসতন্ত্ৰজনিত অ্যালাৰ্জির সমস্যা ও তার প্ৰতিকার

দোয়েল দত্তঃ চারপাশে যে হারে পরিবেশ দূষণ বেড়ে চলেছে তার সঙ্গে মানুষের অ্যালাৰ্জির সমস্যাও বাড়ছে৷ ভারতে প্ৰতি তিনজনে একজন ব্যক্তিই অ্যালাৰ্জির সমস্যায় ভোগে, কিন্তু তাদের যে সমস্যাটি আছে, সেটা অনেকেই তারা জানে না, এমনই তথ্য দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)৷ কিন্তু কী থেকে অ্যালাৰ্জি হয়, কেন হয়, কী তার উপসৰ্গ কীভাবে তার উপশম সম্ভব এগুলি না জানলে সমস্যা হয় স্বাভাবিক জীবনধারণে৷ কিন্তু শ্বাসতন্ত্ৰজনিত অ্যালাৰ্জির অন্যতম প্ৰধান কারণই হল অত্যধিক মাত্ৰায় দূষণ৷ কেননা এর ফলেই বায়ুতে অ্যালাৰ্জেনের পরিমাণ বেড়ে যায়, যেখান থেকে অ্যালাৰ্জি হয়৷ বিশ্বের যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি দূষণের কবলে পড়ে, তাদের মধ্যে প্ৰথম সারিতেই আছে ভারতের নাম৷ এখানে ৭৭ শতাংশ মানুষ শ্বাসতন্ত্ৰজনিত অ্যালাৰ্জির শিকার৷

 

 

বায়ুদূষণের নানা কারণ থাকতে পারে-বায়োমাস, জীবাশ্ম জ্বালানি, বাইরে যত্ৰতত্ৰ আবৰ্জনা ফেলা৷ এর পাশাপাশি আমাদের ঘরের ভিতরের দূষণের দিকেও নজর রাখতে হবে৷ কেননা এখান থেকেও অ্যালাৰ্জির সমস্যা দেখা দেয়৷

ঘরের ভিতরের দূষণ থেকে কীভাবে শ্বাসতন্ত্ৰজনিত অ্যালাৰ্জির সমস্যা হয়-

অভ্যন্তরীণ বায়ুদূষণ বলতে বোঝায় ঘরের ভিতরের বায়ুর গুণগত মান খারাপ হয় বিভিন্নরকম ক্ষতিকারক যৌগের সংস্পৰ্শে এসে৷ এবং কখনও কখনও এটা এতটাই মারাত্মক হয় যে বাইরের দূষণের থেকে ১০ গুণ পৰ্যন্ত বেশি হয়৷ কাঠ পোডানো, ঘরে গোবর গ্যাসে রান্না, কিংবা শহরাঞ্চলে রান্নাঘরের ধোঁয়া বের হওয়ার সঠিক জায়গা না থাকলে সেখান থেকে অভ্যন্তরীণ বায়ু দূষিত হয়ে অ্যালাৰ্জিজনিত শ্বাসকষ্ট হওয়া আশ্চৰ্যের কিছু নয়৷

 

 

উপসৰ্গ ও এর প্ৰভাব

অভ্যন্তরীণ বায়ুদূষণের ফলে অ্যালাৰ্জেনের সংস্পৰ্শে এসে দীৰ্ঘমেয়াদি ও অল্পমেয়াদি সমস্যা হতে পারে৷ যেমন শ্বাসকষ্ট, বুকে একটা চাপ ধরা অস্বস্তি, চোখ চুলকানি, চোখ লাল হওয়া, মাথাব্যথা, নাক সুড়সুড়, গলায় অস্বস্তি, ক্লান্ত লাগা ও ঝিমিয়ে পড়া৷ বাচ্চা, গৰ্ভবতী মহিলা ও বয়স্ক ব্যক্তিদের (যেহেতু তাদের রোগ প্ৰতিরোধক ক্ষমতা দুৰ্বল) সহজেই ঘরের ভিতরে শ্বাসতন্ত্ৰের অ্যালাৰ্জিতে কাবু হয়ে পড়েন৷ শুধু ঘরে নয়, বাইরে বেরোতে গেলেও এদের সতৰ্কতা নিতে হবে৷ আর কারও যদি আগে থেকে অ্যালাৰ্জির সমস্যা থাকে, তাহলে তো শিয়রে বিপদ৷ সেজন্যই এইসময়ে ঘর পরিষ্কারের পাশাপাশি বাইরে যতটা সম্ভব কম বেরোতে বলা হচ্ছে৷

 

 

সদ্যোজাত শিশুর অনেক সমস্যা হয়, হয় তারা কম ওজন নিয়ে জন্মায়, কিংবা জন্মের পরেই মারাত্মক শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকে৷ রান্নায় ফুয়েলের ব্যবহার ঘরের মধ্যে থেকেই মানুষের মধ্যে নিউমোনিয়া ও শ্বাসজনিত অন্যান্য অসুখের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়৷ রান্নার ধোঁওয়া টিউবারকিউলোসিসের রোগীদের জন্যও খুবই ক্ষতিকর৷ যেসব মহিলা ধূমপান করেন না তারা বায়োমাস জ্বালানির সংস্পৰ্শে এলে ফুসফুসের ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে৷

কীভাবে এর হাত থেকে মুক্তি মিলবে?

১. ঘরে থেকে অভ্যন্তরীণ দূষণ থেকে মুক্তি পেতে গেলে কিছু বিষয় অনুসরণ করতে হবে–

২. বাড়ির দরজা-জানালা যতক্ষণ পারবেন খুলে রাখুন৷ এতে বিশুদ্ধ বাতাস চলাচল করবে ও ক্রস ভেন্টিলেশনের সুযোগ থাকবে৷

৩. ফাৰ্নিচার সহ সব জিনিসের ধুলো ঝাড়ুন এবং বিছানার চাদর, বালিশ সবকিছুর ঢাকা কিছুদিন পর পর বদলান৷

৪. ঘরের মধ্যে ধূমপান করা কখনওই ভালো কাজ নয়, কেননা এতে অভ্যন্তরীণ বাতাসে অ্যালাৰ্জেনের মাত্ৰা বেড়ে যায়৷

৫ .ঘরে কোথাও ড্যাম্প লাগলে তা সারানোর ব্যবস্থা না করলেও সেখান থেকে অ্যালাৰ্জি হতে পারে৷

Related Articles

Back to top button
Close