fbpx
অফবিটকলকাতাহেডলাইন

মোদির এক দেশ এক হেল্থ কার্ড প্রকল্পের ভাবনায় বাঙালি চিকিৎসক ইন্দ্রনীল খান

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: ‘হোয়াট বেঙ্গল থিঙ্কস টুডে, ইন্ডিয়া থিনকস টুমোরো।’ দেশজুড়ে আরও একবার প্রমাণিত হয়ে গেল বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও মেধার অগ্রগণ্যতা। যখন শনিবার লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক বাঙালি চিকিৎসকের মস্তিষ্কপ্রসূত হেলথ আই কার্ড বা স্বাস্থ্য পরিচয় পত্রের ঘোষণা করলেন। এই বাঙালি চিকিৎসক হলেন বিশিষ্ট ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডক্টর ইন্দ্রনীল খান। বছর তিনেক আগে বিশিষ্ট চিকিৎসকের পরিকল্পনার কথা তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার  কাছে জানিয়েছিলেন। রীতিমত গবেষণা করে তিনি যে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন তার ব্যাখ্যা সহকারে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। রিপোর্টে ওই চিকিৎসক কেন্দ্রীয়ভাবে একটা ডেটাবেস তৈরির কথা জানান। যাতে রোগীদের বারবার টেস্ট করতে  না হয়।

বর্তমানে বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেকটাই ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। আর তার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রোগ নিরাময়ের জন্য বিভিন্ন প্রকারের টেস্ট। সেই খরচের হাত থেকে বাঁচতেই এই ইউনিক আইডির ‘কনসেপ্ট ওয়ার্ক’। যুগশঙ্খ কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে একথা জানান ডা. ইন্দ্রনীল খান। পাশাপাশি, প্রতিটি ভারতবাসী আগামী দিনে একটি ইউনিক হেলথ আই কার্ড বা স্বাস্থ্য পরিচয়পত্র পাবেন। যা হবে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর। সেখানে ওই ব্যক্তির যাবতীয় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নথি রাখা থাকবে। যা থেকে জানা যাবে তাঁর শারীরিক অবস্থা। এই কার্ড তাঁরা ব্যবহার করতে পারবেন চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে। ব্যবহার করতে পারবেন ওষুধ কেনার সময়।

ডক্টর ইন্দ্রনীল খান বর্তমানে ঢাকুরিয়া আমরির চিকিৎসক। বাটানগরে কেটেছে ছোটবেলা। সাউথ পয়েন্টের প্রাক্তনী এমবিবিএস পাশ করেছেন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ থেকে। তারপর কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমডি।

আরও পড়ুন:দেশজুড়ে করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ৫০ হাজার, আক্রান্ত ২৬ লক্ষের বেশি

এছাড়াও, ডা. ইন্দ্রনীল খানের গবেষণায় দেশের সমস্ত হাসপাতাল এবং ল্যাবরেটরিকে একটি ছাতার তলায় আনার কথা বলা হয়। সে ছাতার নাম ‘ন্যাশনাল হেলথ গ্রিড’। এ জন্য প্রথমেই প্রতিটি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমকে এই ন্যাশনাল হেলথ গ্রিডের অ্যাক্রিডিয়েশন পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে। পরে তা খতিয়ে দেখে দেওয়া হবে শংসাপত্র। এরপর অ্যাক্রিডেটেড স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রত্যেকটি মানুষের জন্য একটি ইউনিক হেলথ আইডি খোলা হবে। সেই ইউনিক আইডি টাইপ করলেই একজন ব্যক্তির স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যাবতীয় নথি এক নিমেষে জানা যাবে। প্রকান্তরে কবে কোথায় শেষবার টেস্ট করেছিলেন, তার সমস্ত রিপোর্ট ও  তথ্য জানা যাবে। জাতীয় স্তরের এই ডেটাবেস থেকে দেশের যেকোনও প্রান্তে বসে রোগী সম্পর্কে জানা যাবে। এতে যেমন কাগজ হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না, তেমনই বারবার ভিন রাজ্যে গিয়ে টেস্ট করাতে হবে না। এক প্রকার বলা যেতে পরে কাগজের ব্যবহারকে তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্ন ডিজিটাল ইন্ডিয়ার দিকে এগোবে ভারতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। ২০১৭-এর ২১ জুলাই নির্মাণ ভবনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার কাছে সম্পূর্ণ রিসার্চ ওয়ার্ক জমা দিয়েছিলেন বঙ্গ চিকিৎসক। তাঁর এই গবেষণায় আস্থা রেখেই প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুগান্তকারী ঘোষণা।

প্রায় ১৩৫ কোটি ভারতীয়র কাছে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া কোনও ছোটখাটো চ্যালেঞ্জ নয়। দেশের ২১.৯ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন। চিকিৎসা পরিষেবায় তাঁদের পক্ষে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করা একেবারেই অসম্ভব।

আরও পড়ুন:করোনায় লক্ষাধিক মৃত্যু, তবুও বোলসোনারোর পক্ষেই অর্ধেক মানুষ: সমীক্ষা

এবিষয়ে ডা. ইন্দ্রনীল খান বলেন, ‘সাধারণত স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিপুল খরচের একটা বড় কারণ ডায়গনস্টিক টেস্ট। কোনও রোগীর চিকিৎসা বাবদ বিল ৬ লক্ষ হয় তবে ৪ লক্ষ টাকা ব্যয় হয় রোগীর একাধিক টেস্ট করতে গিয়ে। এক রাজ্য থেকে কোনও রোগী যখন অন্য রাজ্যে চিকিৎসা করাতে যান, টেস্ট রিপোর্ট হাতে থাকলেও সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল তাঁকে পুনরায় সেই টেস্ট করতে বলে। বারবার এই টেস্ট করাতে খরচ অনেক। দিস্তা দিস্তা কাগজ জমতে থাকে। ৮/১০ বছর চিকিৎসা চলছে এমন অনেক ক্যানসার রোগীকে দেখেছি টেস্টের কাগজ রাখার জন্যেই আলাদা ঘর করেছেন। অনেক সময়ে প্রযোজনীয় টেস্টের নথি হারিয়েও ফেলেন অনেকে। তাই প্রথম থেকেই আমার প্রচেষ্টা ছিল ভারতের সাধারণ হত দরিদ্র মনুশের জন্য কিছু করার। এর পরেই গবেষণা শুরু করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী আমার পরিকল্পনায় সিলমোহর দিয়েছেন। ওনার হাত ধরে দেশ আগামী দিনে আরও এগিয়ে যাবে। আমার গবেষণা যদি সাধারণের উপকারে আসে তাহলেই পরিশ্রম সার্থক।’

Related Articles

Back to top button
Close