fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

শাসকদলের শ্রমিক সংগঠনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, নিন্দার ঝড় শ্রমিক মহলে, আতঙ্কে দিশেহারা শিল্পাঞ্চল

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: লকডাউনের মাঝেই খুলছে কলকারখানা। সরকারি নিয়ম মেনেই উৎপাদন শুরু হয়েছে। শ্রমিক নিয়োগের দাবীতে শাসকদলের শ্রমিক সংগঠনের দফায় দফায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উত্তাল। নিন্দার ঝড় শ্রমিক মহলে। আতঙ্কে দীশাহারা দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল।

 

 করোনা আবহের মাঝে শিল্পকারখানায় উৎপাদনে শুরুতে লকডাউন শিথিল হয়েছে। সরকারি নিয়ম মেনে উৎপাদন শুরুর নির্দেশিকা জারি হয়েছে। সেই মতো শিল্পাঞ্চল আসানসোল-দুর্গাপুরে বেসরকারী কারখানাগুলিতে উৎপাদনও শুরু হয়েছে। উৎপাদন শুরু হলেও হতাশায় শিল্পাঞ্চলের শিল্পপতিরা। হতাশার কারন কি? কারখানায় ভাটি জ্বলতেই শ্রমিক নিয়োগের দাবীতে শুরু হয়েছে সাঁড়াশি আন্দোলন। কারখানায় ঢুকতে বাধার মুখে পরিযায়ী শ্রমিক। উৎপাদন শুরু হলেও শাসকদলের শ্রমিক আন্দোলনে দিশাহারা শিল্পপতিরা।
শুক্রবার দুর্গাপুরের এক বেসরকারী কারখানায় শাসকদলের গোষ্ঠী কোন্দলে উত্তালের ঘটনায় কার্যত সেই প্রশ্নই শিল্পাঞ্চলের ঘুরপাক খাচ্ছে। তাছাড়াও কয়েকদিন আগে আরও একটি কারখানায় স্থানীয়দের নিয়োগের দাবীতে দিনরাত পাহারা দেওয়া। চাপে পড়ে কারখানাটি শার্টডাউন করে দেয়। সিটু নেতা পঙ্কজ রায় সরকার বলেন, ” প্রায় ১০ ঘন্টা ধরে কারখানায় নৈরাজ্য। ভেতরে তান্ডব চলল। আমরা কারখানা বাঁচানোর পক্ষে। কারখানার মজদুর, কর্মচারীদের পক্ষে। ঠিকা মজদুরদের পক্ষে। ১৯৬৮ সালে উৎপাদন শুরু হওয়ার পর বামফ্রন্ট সরকারের সময় দুবার আধুনিকীকরণ এবং সম্প্রসারণ হয়েছে।
লকডাউনের পূর্বে মন্দার ধাক্কা এবং লকডাউনের ধাক্কা সামলে লাভজনক এই বেসরকারি শিল্প ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করেছিলো। তারপরে এদিনের নৈরাজ্য কি সম্মান বাড়ালো রাজ্যের? শাসকদলের দুপক্ষের নেতারাই আহত। সাধারণ শ্রমিক আহত। কারখানা ভাঙচুর, গাছ উপড়ে দেওয়া,শ্রমিকদের সাইকেল ভেঙ্গে দেওয়া কোন “উন্নয়নের” নিদর্শন? মাননীয়া একটা শিল্প এই সময়ে আনতে পারেন নি। যা আছে তা উঠিয়ে দেবেন? দুর্গাপুরের শিল্পপতি, ব্যাবসায়ীরা আতঙ্কে। কি হবে দুর্গাপুরের শ্রমিকদের, বেকার যুবকদের?”
আইএনটিইউসি নেতা দেবেশ চক্রবর্তী জানান,” নতুন শিল্পের দেখা নেই। বন্ধ হচ্ছে কারখানা। বিরোধীদের আন্দোলনে কোন অশান্তি নেই। কেবলমাত্র শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে প্রায় ১০ ঘন্টা অবরূদ্ধ একটা কারখানা।” তিনি আরও বলেন,” সিঙ্গুরে শিল্প তাড়িয়ে ক্ষমতায় এসেছে। আবার ক্ষমতায় এসেও একই খেলা খেলায় মেতেছে। লকডাউনের পর শিল্প নিয়ে নোংরা রাজনীতি বন্ধ হোক। সরকারের উচিত সকলকে নিয়ে শিল্প বাঁচানো।”
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে আইএনটিটিইউসির পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি বিশ্বনাথ পাড়িয়াল পাল্টা বিরোধীদের দিকে আঙ্গুল তুলেছেন। তিনি বলেন,” এদিনের ঘটনার নেপথ্যে বিরোধীদের হাত ছিল। আমাকে কালো পতাকা দেখানো থেকে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া সবই বিরোধীদের চক্রান্ত। তাদের হাতে আমাদের দলের কোন পতাকা ছিল না। কর্তৃপক্ষকে বলেছি, তদন্ত করে শো-কজ করতে। বাকি এখনও যারা ক্ষমতায় আসেনি, তারা রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা বিক্রি করে দিচ্ছে। কোলিয়ারি বিক্রি করে দিচ্ছে।”

Related Articles

Back to top button
Close