fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

ফের অমানবিক কলকাতা! মাঝরাতে করোনা আক্রান্তের ঘরে তালা ঝোলালো প্রতিবেশী

নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: করোনা আবহে শহর কলকাতায় একাধিকবার প্রমান মিলেছে অমানবিকতার। কিন্তু এবার সবকিছুকে ছাপিয়ে এক অন্য অমানবিক রূপ দেখল শহর  কলকাতা। মাঝরাতে করোনা আক্রান্তের দরজায় তালা ঝোলাল প্রতিবেশীরা। ঘটনাটি ঘটে কেষ্টপুর ঘোষপাড়া এলাকার অভিজাত আবাসনে। আবাসনের ছ’তলার এক বাসিন্দার স্ত্রী করোনা পজিটিভ হয়ে ভর্তি বাগুইআটির এক বেসরকারি হাসপাতালে। স্বাস্থ্যদপ্তরের নির্দেশমতো বাড়ির সকলেই করোনা পরীক্ষা করান। রিপোর্টে দেখা যায়, গৃহকর্তার মা-ও করোনা পজিটিভ। তাঁকে হোম আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। এই খবর কানে পৌঁছতেই পাঁচতলার বাসিন্দা পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার দীপ সেনগুপ্ত আশঙ্কায় প্রতিবেশীর ফ্ল্যাটে তালা লাগিয়ে দেন। যাতে ওই ফ্ল্যাট থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।
আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে প্রমাণিত, দীপ সেনগুপ্ত মাস্ক, ফেসশিল্ড পরে বৃহস্পতিবার মাঝরাতে চুপিসাড়ে উপরে উঠে ছ’তলার ওই ফ্ল্যাটে দরজার বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। এরপর সকালে ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলতে গিয়ে বিষয়টি টের পান গৃহকর্তা। অনেকক্ষণ চেষ্টার পরও দরজা না খোলায় তিনি বুঝতে পারেন যে বাইরে থেকে লক করা হয়েছে।

এরপর তিনি ১০০ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সাহায্য চান। নিউটাউন থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। দীর্ঘক্ষণ ধরে তালা খোলার চেষ্টা চলে। তালা ভাঙা হবে কি না, সেই ভাবনাতেও বেশ খানিকটা সময় চলে যায়। এরপরই আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়। তাতে পাঁচতলার ফ্ল্যাটের প্রতিবেশী দীপ সেনগুপ্তকে চিহ্নিত করেন তালাবন্দি ফ্ল্যাটের ব্যক্তি। বোঝা যায়, বাইরে থেকে কে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। এরপরই দীপকে ডেকে পাঠিয়ে পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে তালা খোলান। পুলিশি জেরার মুখে পড়ে দীপ স্বীকার করেন যে তিনি সংক্রমণের ভয়েই ওই কাজ করেছিলেন। বিধাননগর কমিশনারেট সূত্রে খবর, করোনা পরিস্থিতিতে এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত শুরু করেছে নিউটাউন থানার পুলিশ। তবে কলকাতার অভিজাত আবাসনে এই ঘটনায় বাসিন্দাদের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। যদিও কেন্দ্র বা রাজ্য উভয় সরকারের পক্ষ থেকেই বারেবারে করণা রোগের থেকে দূরে না থাকার প্রচার চালানো হয় তবুও মানুষ একের পর এক অমানবিক কাজ করে যাচ্ছে শহরের বুকে।

Related Articles

Back to top button
Close