fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

শাসকদলে গোষ্ঠীকোন্দল, কাঁকসার বনকাটি পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জ্ঞাপন, কটাক্ষ বিজেপির

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ততই শাসকদলের গোষ্ঠীকোন্দল আসতে শুরু করেছে পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসা জঙ্গলমহলে। পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণ ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে অনাস্থা প্রস্তাব জ্ঞাপন করল কাঁকসার বনকাটি পঞ্চায়েতের দলের ৯ বিক্ষুব্ধ সদস্য। বৃহস্পতিবার ঘটনাকে ঘিরে বিস্তর শোরগোল পড়ছে রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন উঠেছে, বোর্ড গঠনের আড়াই বছরের আগেই কিভাবে অনাস্থা প্রস্তাব আনল? তৃণমূলের এই কোন্দল প্রকাশ্যে আসতেই কটাক্ষ শুরু করেছে বিজেপি।

ঘটনায় জানা গেছে, বৃহস্পতিবার কাঁকসা বিডিও অফিসে বনকাটি পঞ্চায়েতের প্রধান পিন্টু বাগদীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেয় ৯ জন বিক্ষুব্ধ সদস্য। অনাস্থা প্রস্তাব জ্ঞাপন করা জামালআরা বেগম, রাহুল পাতর, লিপিকা গোলদার, রীনা গাইন, ছবি রুইদাস, নয়নমনি মেটে, পরিমল মুর্ম্মু, সন্দীপ কর্মকার, কৈলাস মাহাত প্রমুখ জানান, “বর্তমান প্রধানের স্বেচ্ছাচারিতায় আমাদের কোনও বোর্ড মিটিংয়ে ডাকা হয়না। স্বজনপোষন করেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জ্ঞাপন করেছি। আমরা চাই নতুন করে প্রধান নির্বাচিত করা হোক।”

আর এই অনাস্থা প্রস্তাব আনাকে ঘিরেই বিস্তর শোরগোল পড়েছে যেমন, তেমনই প্রশ্ন উঠেছে। আর তার জেরে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল আবারও প্রকাশ্য এসেছে। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে রাজ্যে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচন হয়। ফল ঘোষনার পর কাঁকসার বনকাটি পঞ্চায়েত তৃণমূল এককভাবে জয়ী হয়ে বোর্ড গঠন করে। ওই বছরের ১৮ অক্টোবর বোর্ড গঠন হয়। পঞ্চায়েতের সংবিধান অনুযায়ী আড়াই বছরের আগে অনাস্থা আনা যায় না। আর প্রশ্ন এখানেই, তাহলে আড়াই বছরের আগেই কিভাবে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিল ওই সদস্যরা? উল্লেখ্য, মাসখানেক আগে তৃণমূলের রাজ্যের সমস্ত ব্লকের নতুন করে ব্লক সভাপতি ঘোষনা হয়। কাঁকসা ব্লকে দেবদাস বক্সী সভাপতি হয়। দেবদাসবাবুর নাম ঘোষনা হতেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। কেন্দ্রের কৃষিবিল বিরোধী দলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর প্রতিবাদ মিছিলে দেবদাসবাবু যোগ দিতেই ধুন্ধুমার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর এদিনের অনাস্থা প্রস্তাবে আবার কোন্দল প্রকাশ্যে আসে। প্রশ্ন, প্রধানের বিরুদ্ধে এই সদস্যদের ক্ষোভ কেন? বনকাটির প্রধান পিন্টু বাগদী অভিযোগ অস্বীকার করে জানান,” আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত সৈনিক।

[আরও পড়ুন- ১ নভেম্বর থেকে খুলছে মঙ্গল পাড়া জুটমিল: সাংসদ লকেট চ্যাটার্জী]

ওনার নীতি আদর্শ ও নির্দেশ মেনে চলি।” তিনি পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন,” বোর্ড মিটিং সকল সদস্যকে ডাকা হয়। তার রিসিভ কপি আছে। যারা অভিযোগ তুলছেন, তারা হাজির থাকেন না মিটিংয়ে। এলাকার উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করেন, উন্নয়নকে স্তব্ধ করে বিরোধীদের হাত শক্ত করতে চায়ছেন।” তিনি আরও বলেন,” যারা অনাস্থা আনতে চাইছেন, তাদের এলাকার মানুষের ভুরি ভুরি অভিযোগ আসছে। ওইসব সদস্যদের মাসের পর মাস দেখা পাওয়া যায় না। কেউ আবার গত দেড় বছর এলাকা থেকে উধাও। ভারী বর্ষায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাদের এলাকার মানুষের সঙ্গে কোন সম্পর্ক রাখেনি। অনেকে গত লোকসভা নির্বাচনে বিরোধীদের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে বিরোধীদের হাত শক্ত করেছিল। তাই আমার মনে হয়, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধীদের হাত শক্ত করতেই এটা একটা ষড়যন্ত্র। বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানাবো।”

কাঁকসার বিজেপি নেতা রমন শর্মা জানান,” গনতান্ত্রিক উপায়ে জনগনের ভোটে এরা ক্ষমতায় আসেনি। বোমা, বন্দুকের ভয় দেখিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে। এখন হয়তো স্বার্থে আঘাত লেগেছে না হলে ‘কাটমানি’ ভাগ না পাওয়ায় অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছে।” তবে কাঁকসার তৃণমূলের ব্লক সভাপতি দেবদাস বক্সী জানান,” প্রধানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে করেছে। বিষয়টি দলের মধ্যে আলোচনা করে মিটিয়ে নেওয়া হবে।”

 

Related Articles

Back to top button
Close