fbpx
পশ্চিমবঙ্গশিক্ষা-কর্মজীবনহেডলাইন

মিড ডে মিলের জন্য বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে পোকায় খাওয়া, ছত্রাক ধরা ছোলা…. ক্ষোভ

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: করোনা অতিমারীর মধ্যে পড়ুয়াদের পুষ্টির কথা ভেবে ছোলা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্যের মিডডে মিল দফতর। আগস্ট মাস থেকে মিডডে মিলে পড়ুয়াদের ১ কেজি আলু ও সঙ্গে ১ কেজি ছোলা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই মত পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পৌঁছে গিয়েছে ছোলা। তবে গলসির বিদ্যালয়গুলিতে যে ছোলা ইতিমধ্যে পৌঁছেছে তা দেখে কার্যত চোখ কপালে উঠে গিয়েছে শিক্ষক শিক্ষিকাদের। তাই তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পোকায় খেয়ে নেওয়া ও ছত্রাক ধরে যাওয়া ছোলা পড়ুয়াদের হাতে তুলে তাঁরা অবিভাবকদের রোষের মুখে পড়তে চান না। এই পরিস্থিতিতে মিডডে মিল দফতর কি সিদ্ধান্ত নেয় সেদিকেই এখন তাকিয়ে গলসির শিক্ষক মণ্ডলী ও পড়ুয়ারা।

গলসি ২ ব্লকে ১৬৭ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া সংখ্যা ১৭৮৩৭ জন। ইতিমধ্যে ব্লকের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছে গিয়েছে মিডডে মিলের জন্য বরাদ্দ ছোলা। ৯ অক্টোবর থেকে ধারাবাহিকভাবে সেই ছোলা বিলি হওয়ার কথা। গলসির অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকারা এদিন বলেন, মিডডে মিলের জন্য যে ছোলা পাঠানো হয়েছে তা পোকায় খেয়ে নিয়েছে। তাছাড়াও ছোলায় ছত্রাক জন্ম গিয়েছে। এই ছোলা খেয়ে পুষ্টি তো দূরের কথা উল্টে পড়ুয়ারা অসুস্থ হয়ে পড়বে বলে শিক্ষকরা মনে করছেন। ছোলা বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর পরেই শিক্ষক শিক্ষিকারা তার মান নিয়ে গলসি ২ ব্লক বিডও দফতরে অভিযোগ জানিয়েছেন। শিক্ষক শিক্ষিকারা ওই ছোলার ছবি তুলে জেলার বিদ্যালয়ের মিড ডে মিলের হোয়াটস আপ গ্রুপেও পাঠিয়েছেন। ব্লক প্রশাসনের কর্তাদের ও স্কুল পরিদর্শকে শিক্ষক শিক্ষিকারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ছত্রাক ধরে যাওয়া ও পোকায় খেয়ে নেওয়া ছোলা পড়ুয়াদের বিলি করে তাঁরা অবিভাবকদের রোষের মুখে পড়তে চান না। কারণ ওই ছোলা মানুষের খাবার যোগ্য নয়। অতীব নিম্নমানের ছোলা যারা সাপ্লাই দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার আর্জি প্রশাসনের কর্তাদের জানিয়েছেন গলসির প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকারা।

আরও পড়ুন:২০০১ থেকে ২০১৯… NOT OUT প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইনিংস

যদিও ছোলা নিয়ে শিক্ষিক শিক্ষিকাদের তোলা অভিযোগের কোন গুরুত্ব দিতে চাননি সাপ্লাইকারী মসজিদপুর ইউ.সি.এস.ই.এস ,এ সমিতির ম্যানেজার কেনারাম মাকর। তিনি বলেন, ‘যে ছোলা পেয়েছি তাই সাপ্লাই দিয়েছি। সিল করা বস্তার ভিতরে ছোলা খারাপ রয়েছে না ভালো রয়েছে সেটা বলতে পারব না।” তবে গলসি চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক জয়ন্ত ঢালি জানিয়েছেন,‘ শিক্ষক শিক্ষিকারা ছোলার খারাপ মানের কথা তাঁকে জানিয়েছেন। কেউ কেউ ছোলার ছবি তুলেও পাঠিয়েছেন। তাতে খারাপ ছোলা সত্যি আছে।

জয়ন্ত বাবু বলেন, বিডিও শঙ্খ বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি জেলা শাসককেও জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনিও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেএই বিষয়ে জানিয়েছেন।’

তৃণমূল শিক্ষক সংগঠনের গলসি চক্রের সভাপতি সেখ সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষক শিক্ষিকারা তাঁকেও বিষয়টি জানিয়েছেন। শিক্ষক সংগঠনের পক্ষথেকে তাঁরা বিষয়টি জেলা শাসক ও জেলাপরিষদে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।’ অতিরিক্ত জেলা শাসক (শিক্ষা) হুমায়ুন বিশ্বাস এই বিষয়ে বলেন ,
‘বিডিও কাছ থেকে বিষয়টি জেনেছি। ছোলার মান সংক্রান্ত বিষয়ে বিডিওকে দ্রুত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে । বিডিওর রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ’

Related Articles

Back to top button
Close