fbpx
অন্যান্যপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পেয়ারা চাষে কীটনাশক প্রয়োগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: পশ্চিমবাংলার অগণিত ফলের মধ্যে পেয়ারা অধিক পরিচিত। বছরের বেশিরভাগ সময়ই এই ফলটি চোখে পড়ে। রাজ্যের বাইরে উত্তর ভারতে বিশেষ করে এলাহাবাদে পেয়ারা আমরুদ নামে পরিচিত এবং তা আকারেও বেশ বড়। সুস্বাদুও বটে।

আমাদের রাজ্যের প্রায় প্রতিটি জেলায় পেয়ারার ফলন মানুষের চাহিদা মতোই হয়। আর দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর, ধপধপি, চরণ ইত্যাদি অঞ্চলের বিরাট জায়গা জুড়ে পেয়ারার বাগান রয়েছে। সারা বছরই এখানে পেয়ারার ফলন ভালো মতই  হয়ে থাকে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে পেয়ারার চাষ শুরু করা যেতে পারে। চাষের সময় ৫০০ গ্রাম সুপারফসফেট ব্যবহার করতে পারলে ভালো হয়। এছাড়াও নাইেট্রাজেন ফসফারাস ও পটাশিয়াম প্রয়োগ করলেও গাছ বেড়ে ওঠে এবং প্রয়োজন মতো ফলন হয়। পেয়ারা গাছ বেড়ে ওঠার পক্ষে সূর্যের আলো অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। গ্রীষ্মকাল গাছের ফলনের পক্ষে ভালো। অধিক জলের প্রয়োজন পড়ে না। এই ক্ষেত্রে বাগানের মাটি শুকনো থাকলেই ভালো।

    আরও পড়ুন: যুদ্ধ আসন্ন? সৈনিকদের স্ত্রী-প্রেমিকাদের ‘বিদায়’ চিঠি লেখার নির্দেশ বেজিংয়ের

মাটির থেকে ১৮ ইঞ্চি নিচ পর্যন্ত পেয়ারা গাছের শেকড় ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে মাটির উপর নির্ভর করে পেয়ারার আকৃতি। বিশেষজ্ঞদের মতে, পেয়ারায় ভিটামিন-সি বর্তমান। এই ফল স্বাস্থের পক্ষে উপকারি হলেও অধিক মাত্রায় পেয়ারা খেলে কিডনিতে পাথরের সমস্যা হতে পারে। তবু এ কথা বলাই বাহুল্য যে সমস্ত ধরনের খাদ্যগুণই পেয়ারাতে রয়েছে। এটি একটি সাধারণ ও সহজলভ্য ফল। একটি পেয়ারাতে সমান আকৃতির একটি কমলার ৪ গুন এবং একটি লেবুর ১০ গুন বেশি ভিটামিন-সি রয়েছে।

পেয়ারা চাষ করার সময় দেখা যায় যে পোয়ার গাছ এবং ফলে অনেক রোগের আক্রমণ হয়। অনেক সময় দেখা যায় যে সাদা মাছি পোকা পাতার নিচের দিকে আক্রমণ করে রস চুষে খায়। এর ফলে পাতায সুটিমোল্ড ছত্রাক জন্মায় এবং পেয়ারা গাছের পাতা ঝরে যায়। আবার ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ হলে ফলের গায়ে কোথাও না কোথাও ছিদ্র হয়। ফল বিকৃত হয়ে যায়।

    আরও পড়ুন: শারীরিক অসুস্থতার জের, আত্মসমর্পণ করতে চায় মাওবাদীদের এই শীর্ষ নেতা

ছিদ্রের মুখ দিযে পোকার মল পড়তে থাকে।  ফলে মাছি পোকা আক্রমণ করলে গায়ে কোনও ছিদ্র হয় না, ফলও বিকৃত হয় না, রঙও ঠিক থাকে। শুধু ভিতরটা নষ্ট  হয়ে যায়।

এসব ছাড়াও অধিকাংশ সময়ই পেয়ারা গাছে ছাতরা পোকার আক্রমণ হয়। সাদা রঙের পোকাগুলিকে দেখতে অনেকটা সাদা ছাতা বা তুলোর মতো দেখায়। এরা কচিপাতা, বিটপ, প্রশাখা এমনকি ফুল থেকেও রস চুষে খেতে থাকে। ফলে আক্রান্ত অংশ শুকিয়ে যায় এবং ফলন হ্রাস পায়। একই সঙ্গে হোয়াইট ফ্লাই প্যাঁজা তুলার ন্যায় পাতার নিচে জমে এবং পাতা চুষে খেয়ে গাছকে মেরে ফেলে।

সাদা মাছি দমনের জন্য প্রতি লিটার জলে পাঁচ গ্রাম ডিটারজেন্ট পাউডার মিশিয়ে গাছে স্প্রে করা যেতে পারে। ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ ঠেকাতে ম্যালাথিয়ন ৫৭ সি বা ফেনিট্রথিয়ন প্রতি ১০ লিটার জলে ১০ মিলিলিটার পরিমাণ মিশিয়ে গাছে স্প্রে করতে হবে। গাছের নিচে ঝরে পড়া কোনও ফল রাখা চলবে না। অথবা ছত্রাকনাশক যেন কার্বসালফান ২৫ শতাংস ইসি (মিলি প্রতি লিটার জলে) অথবা ˆট্রায়াজোফস ৪০ শতাংস (মিলি প্রতি লিটার জলে) স্প্রে করতে হবে। ছাতরা পোকার আক্রমণের মাত্রা কম থাকলেও আক্রান্ত অংশ কেটে পুড়িযে ফেলাই ভালো। আক্রান্ত হলে ২০ মিলি ম্যালাথিয়ান ৫৭ ইসি ১০ লিটার জলে মিশিযে স্প্রে করা উচিত।

বর্ষা ঋতু এসে গেলে ফল পূর্ণ মাত্রায় বেড়ে উঠলে গাছ থেকে সংগ্রহ করে পেয়ারা চাষীরা খোলা বাজারে তা সরবরাহ করে থাকেন। ফ্রুট ব্যাগিং বা ফল ঢেকে দেওয়া হলে অর্থাৎ আম বা পেয়ারা ছোট ছোট অবস্থাতেই ব্যাগিং করলে রোগ ও পোকামাকড় থেকে রক্ষা করা যায়। অনেক  প্রজাতির পেয়ারা রয়েছে, তার মধ্যে কাজী পেয়ারা অন্যতম। অন্য আরও একটি জনপ্রিয় জাতের পেয়ারা হল ‘বারি পেযারা’।

 

এটির বিশেষত্ব হল ‘বারি পেয়ারা’ বীজমুক্ত। এই বিশেষ জাতের পেয়ারাটি বাংলায় না জন্মালেও বাজারে কিন্তু এটি ক্রমেই স্থান করে নিচ্ছে। বিশ্বের অনেক দেশেই পেয়ারার খুব ভালো ফলন হলেও গোটা উত্তর পূর্বাঞ্চল সহ এই রাজ্যের পেয়ারা ভীষণই জনপ্রিয়।

Related Articles

Back to top button
Close