fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সভাপতি বদলে ক্ষুব্ধ পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের বড় অংশ, প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বিধানসভা ভোটে!

সাথী প্রামানিক, পুরুলিয়া: ভোটের মুহূর্তে পুরুলিয়া জেলা সভাপতি বদলকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না তৃণমূলের একটা বড় অংশ। দলে  এর  বড় রকম প্রভাব পড়তে পারে পুরুলিয়া জেলায়। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনেও এর প্রভাব পড়বে, যার সুফল পাবে বিজেপি।  এমনটাই মনে করছেন প্রাক্তন সভাপতি তথা রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিষয়ক দফতরের মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতোর অনুগামীরা।

ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠতে শুরু হয়েছে। হাই কমান্ডের কু-নজরে পড়ার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে এখনও এর বিরোধিতায় নামেন নি। তবুও আড্ডাস্থলে, ফোনে কথা চালাচালি চলছে জোর কদমে। জেলার অন্যান্য প্রাক্তন নেতা ও সংগঠকরা জানান, এই মুহূর্তে সভাপতি শান্তিরাম মাহাতোকে সরিয়ে কার্যত বিজেপিকে জেলায় জায়গা করে দেওয়ারই সামিল। দলীয় হাই কমান্ডের কঠোরভাবে সমালোচনা করে ওই সংগঠকরা বলেন, এর আগে যখন পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে জেলায় খারাপ ফল হল তখন কেন সভাপতি বদল করল না হয় কমান্ড? ভোটের মুখে যখন একটা ভালো জায়গায় পৌঁছানোর মুখে রয়েছে তখন নেতৃত্ব বদল করল। নেতৃত্বে নতুন মুখ সফল হবে না বলেই তৃণমূল ওই সংগঠকদের অনুমান।

প্রসঙ্গত, জেলা সভাপতি শান্তিরাম মাহাতোর  স্থানে আদিবাসী নেতা তথা পুরুলিয়া জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ গুরুপদ টুডুকে জেলা সভাপতি করে তৃণমূল কংগ্রেস। গুরুপদ বাবু এর আগে জেলা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী সন্ধ্যা রানি টুডুর স্বামী গুরুপদ টুডু। মানবাজারের কাদলাগোড়া গামে তাঁর বাড়ি। পেশায় হাইস্কুলের শিক্ষক তিনি।

এক দশক পর পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পরিবর্তন হল। রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিষয়ক দফতরের মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতোকে জেলা সভাপতি পদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় তৃণমূলের হাইকমান্ড। তাঁকে জেলা কমিটির চেয়ারম্যান করা হল। ২০১০ সালে জেলা সভাপতি কামাখ্যা প্রসাদ সিংয়ের স্থলাভিষিক্ত হন শান্তিরাম। তার পর থেকে ওই পদের জন্য দলীয় হাইকমান্ড চিন্তাভাবনা করেনি। টানা ১০ বছর জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন শান্তিরাম। দল বিস্তার করার ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিতণ্ডা, দ্বন্দ্ব শান্তি বজায় রেখে সামলেছেন তিনি।  সভাপতি থাকাকালীনই বলরামপুর থেকে টানা দুবার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন তিনি। রাজ্যে তৃণমূলের শাসন ক্ষমতায় দুটি মেয়াদে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর হয়েছেন  এবং এখনও  সামলাচ্ছেন সেই দায়িত্ব।

করোনা আবহে এবং লক ডাউনের বাজারে পুরুলিয়া জেলায় এখন এই নিয়েই চর্চা চলছে জোর কদমে। আড়াল পড়েছে পুরুলিয়া শহরে বিলাসবহুল হোটেলে বিয়ে বাড়ি থেকে সংক্রমণের আলোচনা।

Related Articles

Back to top button
Close