fbpx
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

‘কবির আশ্রম কুস্তির আখড়ায় পরিণত হয়েছে’, বিশ্বভারতীকাণ্ডে খোলা চিঠি বিদ্বজ্জনেদের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্বভারতীর মুক্ত শিক্ষাঙ্গনে পাঁচিল নির্মাণ ঘিরে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করলেন রাজ্যের সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্টরা। এই ঘটনা তাঁদের কতখানি ব্যথিত করে তুলেছে, তা জানিয়ে খোলা চিঠি লিখলেন বিদ্বজনেরা। এই ঘটনা নিয়ে এ বার উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বঙ্গের তরুণ মজুমদার, শঙ্খ ঘোষ, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, মনোজ মিত্র, বিভাস চক্রবর্তীর মতো বিদ্বজ্জনেরা। শান্তিনিকেতনে ‘বেদনাদায়ক’ পরিবেশের অবসান চেয়ে বৃহস্পতিবার একটি খোলা আবেদন প্রকাশ করেছেন তাঁরা। সকলেই তীব্র নিন্দায় মুখর।

শান্তিনিকেতনে পৌষমেলার মাঠে পাঁচিল দেওয়া নিয়ে এ সপ্তাহের শুরুতেই সেখানে অশান্তির আবহ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত ধুন্ধুমার বাধে বিশ্বভারতী চত্বরে। উপাচার্য নিজে দাঁড়িয়ে থেকে মেলার মাঠে পাঁচিল তোলার কাজ করালেও, স্থানীয় বাসিন্দা ও পড়ুয়াদের একাংশ পে-লোডার নিয়ে এসে সেই নির্মাণ ভেঙে দেন। এরপর রাজনীতির আঁচ আরও বেশি করে এসে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে।

এই ঘটনায় এবার আশঙ্কা প্রকাশ করলেন রাজ্যের বিদ্বজনরা। এবার খোলা আবেদন জানালেন শঙ্খ ঘোষ, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, বিভাস চক্রবর্তী, পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ২৬ জন। ওই আবেদন লেখা হয়েছে, ” বহুদিনের ঐতিহ্য-বাহিত স্মৃতি, শান্তিনিকেতনের সুষমা ও বিশ্বভারতীর শিক্ষা … সবই সমূলে নষ্ট হতে বসেছে। এই দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতিতে আমাদের উদ্বিগ্ন ও বিচলিত করে তুলেছে। রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতী নিকট সময়ে যে কর্মকাণ্ড এবং ঘটনাবলীর মধ্য দিয়ে চলেছে, তা ক্রমাগত আমাদেরর হৃদয় ভারাক্রান্ত করে তুলেছে। কিন্তু অতি সম্প্রতি উপযুক্ত ঐকমত্য ও সহযোগিতার প্রস্তুতি ছাড়াই কর্তৃপক্ষের বিশ্বভারতীর সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, তার ফলে এক অরাজক ভাঙচুর এবং পরবর্তী সময়ে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, বিশ্বকবির আশ্রম তাতে রাজনীতির কাদামাখা কুস্তির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।”

আরও পড়ুন: ইতিহাসের আলোকে গণেশ চতুর্থী…

ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কোনও পক্ষকেই সমর্থন করা হচ্ছে না বলে জানিয়ে ওই আবেদনে বলা হয়েছে, ”সদর্থক ও সংবেদনশীল এক অবিচল পক্ষপাতহীনতা থেকে অবিলম্বে এই বেদনাদায়ক পরিবেশের অবসান চাইছি। আমরা মনে করি, সম্মিলিত শুভবোধ-উদ্যোগ ও উদারতাই পারে বাংলা ও বাঙালির আবেগজড়ানো বিশ্বভারতীর শান্তি ও মর্যাদা রক্ষা করতে।” এই বিবৃতিতে দাবী করা হয়েছে,অবিলম্বে যেন এই পরিবেশের অশান্তির পরিবেশের অবসান হয়। সব পক্ষকেই বিশ্বভারতীর শান্তি ও মর্যাদা রক্ষা করার আবেদন জানানো হয়েছে।

এদিকে, মেলার মাঠে পাঁচিল তোলা কাণ্ডে শাস্তির মুখে ৪ পুলিশ কর্মী। শান্তিনিকেতন থানার ওই পুলিশকর্মীদের ক্লোজ করে শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্ত। অভিযোগ, বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের কথায় তাঁরা কাজ করেছিলেন, নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেননি। এই ঘটনার জেরে যে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়টি বিজ্ঞপ্তি জারি করে নতুন বর্ষে পড়ুয়াদের ভরতি বন্ধ রেখেছে, তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জবাব তলব করেছে শিক্ষামন্ত্রক।

 

Related Articles

Back to top button
Close