fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ইন্টারনেট সেনসেশন রানু মন্ডলের দিন কাটছে অর্ধাহারে, পাশে নেই কেউ, অভিযোগ গায়িকার

অভিষেক আচার্য, কল্যাণী:  কখনো মুড়ি কখনো বা ডাল, ভাত খেয়েই তাঁর কাটছে দিন । করোনার দাপটে ভাঁটা পড়েছে তাঁর জীবনেও। লকডাউন, তাই বাড়ির চারপাশে নেই ভিড়। নেই লাইট, ক্যামেরার ঝলকানিও। কেমন আছেন “ইন্টারনেট সেনসেশন” রানু মন্ডল? নদিয়ার রানাঘাটের বেগো পাড়ায় বাড়ি রানুদির। অলিগলি পেরিয়ে দেখা মিললো বলিউডের প্লেব্যাক সিঙ্গার রানু মন্ডলের। প্রথম সাক্ষাৎ। বাড়ির টিউবওয়েল থেকে বোতলে জল ভরছেন তিনি। এলোমেলো চুল। পরনে সাধারণ পোশাক। একতলা পাকা বাড়ি। কবে বাড়িটির গায়ে রংয়ের প্রলেপ পড়েছিল তা হয়তো নিজেও ভুলে গিয়েছেন। বাড়ির সামনে বিস্তর জায়গা। জঙ্গলে পরিপূর্ণ। একটি ঘরেই তাঁর সাজানো সংসার। পরিপাটি করে গোছানো। বারান্দাই হচ্ছে রানুদির রন্ধনসালা। সিঁড়ির কাছে স্পষ্ট অপরিস্কারের ছাপ। এছাড়া ঘর মোটামুটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। বারান্দার এক কোনে কাঠ, চাল, ডাল, নুন, তেল, মুড়ি, রেডিও একসঙ্গে করছে সহবাস। একার সংসার। বয়সের বলিরেখা চোখে মুখে ফুটে উঠেছে।

ঠিক ধুমকেতুর মতোই বলিউডের সঙ্গীত দুনিয়ায় তাঁর আত্মপ্রকাশ হয়েছিল৷ ঠিক যেন ঘুমিয়ে দেখা কোনো স্বপ্ন। জীবনের একটা দীর্ঘ সময় কেটেছে রানাঘাটের স্টেশনে। রীতিমত ভিখারীদের সঙ্গে কাটিয়েছেন বছরের পর বছর। সেই জীবনের পাতাটার হিসেব নিকেশ এক লহমায় পাল্টে গিয়েছিল একটি গানে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন রানু মন্ডল। স্টেশনের গায়িকা রানু থেকে চেনা-অচেনা সবার কাছে তিনি হয়ে উঠলেন রানুদি।
শুরু হলো বাক্যালাপ। কেমন আছেন? রানুদি বলেন, ভগবান যেমন রেখেছে। হ্যাঁ, তিনি ভগবানে বিশ্বাসী।

লকডাউনে কেমন কাটছে দিন? তিনি বলেন, পাঁচদিন কিছুই খেতে পাইনি। এই খবর পেয়ে কয়েকজন চাল, ডাল, আটা দিয়ে গিয়েছে। সেটা এখনো চলছে। সেকি! লক ডাউনে তিনিই দিয়েছিলেন দুঃস্থদের ত্রাণ। আজ তাঁর ভাগ্যে জুটেছে ত্রাণের খাবার। একি ভাগ্যের পরিহাস! পরের প্রশ্ন করার আগেই থামিয়ে তিনি বলেন, কোনোদিন শুকনো লঙ্কা আবার কোনোদিন মুড়ি খেয়েই কেটেছে দিন। অবাক কান্ড! বলিউডের প্লেব্যাক গায়িকা। করেছেন দেশ-বিদেশে বহু শো। রোজগার করেছেন মোটা টাকা। কোথায় গেল সেই অর্থ? তিনি বলেন, আমি তো এইসব কিছুই জানিনা। নাম না করে রানুদি বলেন, আমাকে কয়েকজন ব্যাংকে নিয়ে যায় তাঁরাই সামান্য টাকা তুলে দেয় আমায়। প্রশ্ন এখানেই। টাকা যদি থাকে তাহলে অনাহারে থাকবেন কেন তিনি? কেনই বা তাঁকে ত্রাণের খাবার খেতে হচ্ছে? রানুদির সাফ কথা, ভগবানের ইচ্ছেটাই মেনে নিয়েছি।
সঙ্গীত পরিচালক হিমেশ রেশমিয়ার সঙ্গে গান গেয়ে খ্যাতির শিখরে পৌঁছে যান রানুদি। সেই গান সুপার-ডুপার হিট৷ এরপর স্টেজ শোয়ের অফারের বন্যা বয়ে যায় তাঁর কাছে৷ সেই হিমেশ রেশমিয়া একবারও লক ডাউনে খোঁজ নেননি রানু মন্ডলের। এমনটাই অভিযোগ তাঁর। তিনি বলেন, মুম্বাই থেকে ফিরে আসার পর একবার কথা হয়েছে হিমেশের সঙ্গে। তারপর মোবাইলের স্কিনে ভেসে ওঠেনি হিমেশের নাম।

আরও পড়ুন: অতীতের বাঘ শিকারের স্মৃতি নিয়ে আজও স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে রায়ডাক বন বাংলো

নেই টেলিভিশন, কাছে নেই ফোনও। অভিযোগ অনেক। সাথে রয়েছে আক্ষেপের সুর। না, লক ডাউনে মায়ের খোঁজ নেয়নি মেয়ে। এমনকি পাড়া প্রতিবেশীর কাছেও তাঁর খ্যাতি ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছে। দেখা নেই রানুদি কে “নেটদুনিয়ার সেনসেশন” গড়ে তোলার প্রধান কারিগর অতীন্দ্র চক্রবর্তীরও। রানুদি বলেন, মেয়ে, আত্মীয়-পরিজন কেউ খোঁজ রাখেনি। লক ডাউনে অতীন্দ্র আসতে পারবে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল।

তাহলে কি ফের রানাঘাটের স্টেশনে নতুন করে লিখবেন জীবনের হিসেব? নাকি এখানেই থমকে গেল রানুদির ভাগ্যের চাকা? তিনি বলেন, না, আর স্টেশনে নয়। ভগবান আর আমাকে সেই জীবনে ফিরে যেতে দেবে না এটা আমার বিশ্বাস।
গত বছর কুয়েত, আবু ধাবী-সহ দেশ-বিদেশে বিভিন্ন গানের অনুষ্ঠান করে যখন রানাঘাটের বেগোপাড়ায় ফিরলেন। তখন অসংখ্য ক্যামেরার ঝলকানি আর উৎসাহী মানুষজনদের যাতায়াত লেগেই থাকত তাঁর এক চিলতেকোঠা বাড়িতে৷ ঘরে জায়গার অভাবে ভক্ত ও অনুগামীদের ভিড়ের লাইন তাঁর বাড়ি ছাড়িয়ে পৌঁছে যেত জাতীয় সড়কের কাছাকাছি। এখন গলিতে মানুষের ভিড় চোখে পড়ে না৷ লকডাউন চলছে যে৷

করোনা বিপর্যয়ের ফলে দীর্ঘ লকডাউনের কারণে বন্ধ সংগীত অনুষ্ঠান৷ তাই অন্যান্য সেলেবদের মতো গৃহবন্দি হয়ে আছেন রানুও৷ এখন কেউ আর খুব একটা খোঁজখবর নেন না তাঁর৷ সকাল থেকে সন্ধ্যে শুনতে হয় প্রতিবেশীদের গঞ্জনা। বেশ আক্ষেপের সুরেই একথা জানালেন রানুদি। শুধু তাই নয়, আরো রয়েছে। বাড়িতে বিদ্যুৎ রয়েছে। কিন্তু তা চলে গেলে ঘর আলো করার মত নেই একটি মোমবাতিও। বিদ্যুৎ না আসা পর্যন্ত অন্ধকারেই কাটে সেই সময়টুকু। প্রশ্ন উঠছে এখানেই। কোথায় গেল রোজগারের টাকা? জীবনের খ্যাতির চূড়োয় থাকা রানু মন্ডলের একটা মোমবাতি কেনার সামর্থ্য নেই? লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভালো-মন্দ সবকিছু সেই ভগবানের উপর চাপিয়ে দিলেন “ইন্টারনেট সেনসেশন” তথা বলিউড গায়িকা রানু মন্ডল।

Related Articles

Back to top button
Close