fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

গঙ্গার পাড়ে মিলছে নেট, বাড়ছে ভিড়

আসাদ মল্লিক, হুগলি : চন্দননগরের তেলেনিপাড়ায় কিছুদিন থেকে চলছে সংঘর্ষ। ফলত গোলমাল সংক্রান্ত গুজব ছড়িয়ে পড়া রুখতে গত বৃহস্পতিবার থেকে শ্রীরামপুর-চন্দননগর মহকুমায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করেছে প্রশাসন। এদিকে লকডাউনের জেরে গৃহবন্দি জেন-ওয়াইয়ের লৰধান চাহিদা ইন্টারনেট সংযোগ। ফলে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট বা টিকটকে ভিডিও করা থেকে বিরত থাকতে হচ্ছিল তরুণ-তরুণীদের!

এসবের মাঝেই নেটের খোঁজ পাওয়া গেল গঙ্গার ধারে। গঙ্গার অপর পার থেকে ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়ার কথা ছড়িয়ে পড়তেই দুপুরের তীব্র রোদকে হার মানিয়েই হাজির হল অনেকে। আর সন্ধ্যা নামার পর যেন মেলা বসে গেল। ক’দিন ধরেই দুই মহকুমার গঙ্গাঘেঁষা শহরগুলির ঘাটে ঘাটে ভিড় জমাচ্ছেন নেট-উৎসাহীরা। রাত পর্যন্ত চলছে চ্যাটিং, গেমিং বা খবর আদানপ্রদান।

কোন্নগর বারোমন্দির সংলগ্ন ঘাটে, শ্রীরামপুরের ভ্রাতৃ সঙ্ঘ মাঠের কাছে, কলেজ ঘাটে, বৈদ্যবাটীতে গঙ্গার পাড়ে ভিড় জমছে। এক যুবকের বক্তব্য, ‘‘লকডাউনে মোবাইল ঘেঁটেই সময় কাটে। এদিকে নেট বন্ধ হওয়ায় মনে হচ্ছিল সব শেষ। ও পার থেকে নেট-সংযোগ পেয়ে ভাল লাগছে।’’ অপর এক তরুণী জানান, ‘‘এখানে বসে গেম খেলি। চার্জ শেষ হয়ে গেলে বাড়ি যাই। চার্জ দিয়ে আবার আসি।’’ এক কলেজ পড়ুয়া তরুণীর কথায়, ‘‘সারাক্ষণ বাড়িতে বসে ভাল লাগে? তাই বন্ধুদের সঙ্গে গঙ্গার ধারে যাচ্ছি। গেম, টিকটক, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক সবই করছি।’’

গোলমালহীন গঙ্গার ঘাটগুলিতে সকলেরই মোবাইলে মাথা হেঁট। কিন্তু লকডাউন তো চলছেই, ফলত মাঝেমধ্যে পুলিশ ভ্যান টহল দিতে এলেই পালাচ্ছেন নেটপ্রেমীরা। পরে ফের ভরে উঠছে ঘাট। এ যেন এক অন্য রকমের চোর-পুলিশ খেলা! চন্দননগর কমিশনারেটের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘‘নব প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা তো মোবাইল অন্তপ্রাণ। ওঁদের সতর্ক করে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’’

Related Articles

Back to top button
Close