fbpx
অন্যান্যঅফবিটহেডলাইন

করোনার সঙ্গে বসবাস

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: করোনার সঙ্গে বসবাস আমাদের জীবনের ক্রমশ একটা অঙ্গ হয়ে উঠছে৷ প্ৰতিদিনই করোনা নিয়ে ঘুম থেকে ওঠা আর করোনার একরাশ দুশ্চিন্তা নিয়ে ঘুমোতে যাওয়া৷ কীভাবে মানুষ মানিয়ে চলবে এই বদলে যাওয়ার সঙ্গে, তা জানালেন বিশিষ্ট সাইকিয়াট্ৰিস্ট ডা. কেদাররঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়৷ শুনলেন দোয়েল দত্ত৷

 

 

এই করোনা ভাইরাস, লকডাউনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এই ব্যাপারগুলো অনেকটা লাইফ ইনসিওরেন্সের মতো৷ ওটা যেমন সেভিংস, তেমনি এই ব্যাপারটাও জোর করে সেভিংস৷ কীরকম? লাইফ ইনসিওরেন্সে বছরে যখন প্ৰিমিয়াম দিতে হয়, আমরা ভাবি এতগুলো টাকা, কিন্তু মৃত্যুর পরে বাড়ির লোক সেটা পাবে৷ লকডাউনও অনেকটা সেরকম৷ এটা আমাদের জোর করে নতুন রাস্তয় যেতে বাধ্য করেছে যার সুফল পরের প্ৰজন্ম পাবে৷ আমাদের জীবন একটা নিৰ্দিষ্ট গতিপথে চলে এসেছে৷ এই যে গ্লাভস, মাস্ক ব্যতীত কোথাও না যাওয়া, অতিরিক্ত খরচ না করা, এটা পরের প্ৰজন্মের জন্য একটা ভালো উদাহরণ নিয়ে আসবে বই কী৷

 

 

লকডাউন আমাদের প্ৰয়োজন আর বিলাসিতার পাৰ্থক্য বুঝিয়েছে৷ এরকম নয় যে আমরা না খেয়ে আছি৷ প্ৰতিদিন বাজারে না গেলেও হয়৷ কিন্তু মাছ-মাংসের বাজারে গেলে মনে হবেই এখনও এক শ্ৰেণির হাতে প্ৰচুর অৰ্থ রয়ে গেছে৷ মাংসভাত খেতে খেতেও আমরা ভাবছি তাদের কথা রাস্তায় অনাহারে যেসব মানুষগুলো আছে৷ তার মানে তাদের জন্যও আমাদের মনের মধ্যে একটা অনুভূতি আছে৷

 

 

লকডাউন ধাপে ধাপে উঠবে এবং করোনার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া আমাদের শিখতে হবে,এটাই মূল কথা৷ এবং তার সঙ্গে কতগুলো সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে–বাইরে গেলেই মাস্ক ও গ্লাভসের ব্যবহার আবশ্যিক, স্যানিটাইজার দিয়ে বার বার হাত ধুতে হবে৷ এবং সবৰ্বাপরি সোশ্যাল ডিসটেন্সিং৷ ছয়ফুট দূরে দূরে দাঁড়াতে বা বসতে হবে৷ এবং দীৰ্ঘদিন এই ব্যাপারগুলো যে আমাদের জীবনের অঙ্গ থাকবে, সেটা মনে হয় মানিয়ে নেওয়াই শ্ৰেয়৷

 

 

অনেকের মধ্যে একটা কথা শোনা যাচ্ছে, এখন রিক্রিয়েশনের অভাব৷ সিনেমা হল বন্ধ কোথায় যাব৷ মনে রাখবেন নিজেকে আনন্দ দেওয়া মানেই কিন্তু সবসময়ে শপিং মল, আইনক্স বা পাবে যাওয়া নয়৷ নিজের কীসে আনন্দ হবে সেটা নিজেকেই খুঁজে নিতে হবে৷ অনেক সময়ে বাড়ির অনেক ছোটখাটো কাজ যা দীৰ্ঘদিন করব করব বলেও হয়তো করা হয়নি, সেইসব কাজের মাধ্যমেও আনন্দ খুঁজে নেওয়া যায়৷ হয়তো ওয়াডৰ্ড্ৰব পরিষ্কার করলাম, কাগজ, ফাইলগুলো গোছালাম৷ সারাদিনে এরকম অনেক বাকি থাকা কাজগুলো করতে করতে দেখা যাবে দিনের শেষে একটা অজানা আত্মতুষ্টিতে মন ভরে উঠেছে৷

 

 

লকডাউনের আরও একটা সমস্যা হল আৰ্থিক ক্ষেত্ৰে৷ অনেক কোম্পানি কর্মী ছাঁটাই করছে৷ ফলে অনেক মানুষ চাকরি হারিয়েছেন৷ এক্ষেত্ৰে অবসাদগ্ৰস্ত হয়ে পড়াটা খুব স্বাভাবিক৷ কিন্তু উলটো দিক থেকে ভাবুন এখন তো এর হাত থেকে বাঁচার আর কোনও রাস্তা নেই৷ ফলত বাড়িতে থাকাটা কিছুদিনের জন্য অভ্যেস করে, আবার নতুন উদ্যমে চাকরি খুঁজতে হবে৷ থেমে থাকলে চলবে না৷ আৰ্থিক অবস্থা ঠিক হতে অনেকটা সময় লাগবে৷ অনেককে হয়তো শুনতে হতে পারে এখন চাকরি কোথায়? কিন্তু এই পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়লে চলবে না৷ মাথা ঠান্ডা করে চলতে হবে৷ মনে রাখবেন আপনি একা নন, আমরা সকলেই বিভ্ৰান্ত হয়ে আছি৷

 

 

যদিও বলতে গেলে জীবন হয়তো আর আগের মতো হবে না, কিন্তু কোনওকিছুই চিরকালীন নয়, পৃথিবীতে সবকিছুরই একটা শেষ আছে৷ মানুষ আবার জীবনের গতিতে ফিরবে৷ কিন্তু সেটা হবে অন্যরকম৷

Related Articles

Back to top button
Close