fbpx
কলকাতাহেডলাইন

গুণ্ডা বলতে গর্ববোধ করাটা বাংলার সংস্কৃতি নাকি! মমতাকে তোপ দিলীপের

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: কবিগুরুর আদর্শ ও ঐতিহ্য রক্ষায় ‘গুণ্ডা’ অপবাদ মাথায় নিতেও রাজি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ প্রশ্ন তুললেন, ‘ গুণ্ডা বলতে গর্ববোধ করাটা বাংলার সংস্কৃতি কি না?’
বিশ্বভারতীর মেলার মাঠ পাঁচিল দিয়ে ঘেরার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন চলছে কার্যত সেই কাজকে সমর্থন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘ আমি স্পষ্ট বলতে চাই , রবীন্দ্রনাথের মুক্তচিন্তা, মুক্তশিক্ষার পীঠস্থান শান্তিনিকেতন শুধু আমাদের নয়, সারা পৃথিবীর গর্ব। তার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি যারা ধ্বংস করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিবাদ স্বাভাবিক। সেই প্রতিবাদের পাশে থাকার জন্য আমাদের কেউ গুণ্ডা বললেও পরোয়া করিনা।’

এ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘ গুণ্ডা বলতে গর্ববোধ করাটা কি বাংলার সংস্কৃতি! যাঁরা বুদ্ধিজীবী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি তাঁদের কাছে এটা আমার প্রশ্ন। মুক্তচিন্তা মানে কি ভূমি মাফিয়াদের দাপাদাপিকে সমর্থন করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে দোকানঘর করা, জমি দখল করা, ভাঙচুর চালানো? রবীন্দ্রনাথ কি এই মুক্তচিন্তার কথা বলেছিলেন?’  তিনি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ উনি যে মুক্তচিন্তার কথা বলছেন, বাংলায় সেই পরিবেশ আছে? সরকার বিরোধী কোন মন্তব্য করলে, কেউ তা ফেসবুকে লাইক করলেও তার বাড়িতে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ হাজির। সাইবার আইনে আটকাতে না পেরে মিথ্যে অস্ত্র আইনে জেলে পচাচ্ছে। এমনকি সাংবাদিকরা সমালোচনা করলে তাঁদেরও জেলে ভরা হচ্ছে। এটা মুক্তচিন্তার পরিচয়?’

আরও পড়ুন:  লকডাউনের মধ্যে কাজ, চিড়িয়াখানায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত ২, আশঙ্কাজনক ১

তৃণমূল কংগ্রেসের যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ যুবশক্তির’ প্রথম ভার্চুয়াল সভায় বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বাংলায় একটি রাজনৈতিক দল যুবদের মধ্যে উগ্রবাদী চিন্তাভাবনাকে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সেই উগ্রবাদ থেকে বাঁচার জন্য যুবশক্তিতে যোগ দেওয়া প্রয়োজন।’ একইসঙ্গে তিনি বলেছেন ‘যুবযোদ্ধা’ হতে গেলে তৃণমূলে যোগ দিতে হবে না। এ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ যুবকদের জন্য ভালো আদর্শ, নীতি সামনে রাখতে পারছেন কি? মারপিট, গুণ্ডামিইতো শেখাচ্ছেন। ‌ শুধু চমক আর বিভ্রান্তিমূলক প্রচার। আর কারা যুবযোদ্ধা হবেন, বাংলায় যুবকরা আছেন কি? সবাইতো পেটের তাগিদে, রুটির তাগিদে ভিন রাজ্যে পাড়ি জমান। বাংলায় না আছে শিক্ষা, না আছে শিল্প, আছে শুধু কাটমানি, দুর্নীতি আর সিণ্ডিকেটরাজ। কোন ভরসায় যুবকরা রাজ্যে থাকবেন?’

Related Articles

Back to top button
Close