fbpx
কলকাতাহেডলাইন

‘শিল্প সম্মেলনে লগ্নির চেয়ে কি জাঁকজমকের খরচই বেশি, অর্থসচিবের থেকে হিসেব চাইলেন রাজ্যপাল

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  ফের রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত। রেশন, পুলিশ, শিক্ষার পর এবার রাজ্যপালের  নিশানায় রাজ্যের শিল্প সম্মেলন।  ফি বছর অনুষ্ঠিত হওয়া বেঙ্গল বিজনেস সামিট তথা শিল্প সম্মেলনে এ পর্যন্ত কত টাকা খরচ হয়েছে তার হিসেব চাইলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। টুইট করে রাজ্যপাল জানিয়েছেন, তিনি অর্থসচিবের থেকে হিসেব চেয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি এও লিখেছেন, ‘মনে করা হচ্ছে, এই সম্মেলন থেকে যা লগ্নি এসেছে তার চেয়ে সম্মেলন করতে খরচ বেশি হয়ে গিয়েছে।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বিতীয়বার সরকারে আসার পর থেকে রাজারহাটের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে শিল্প সম্মেলন বেশ জাঁকজমক করেই হয়েছে। ধারাবাহিক ভাবে সেই সামিট থেকে শিল্পের প্রতিশ্রুতি এসেছে অনেক। কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ মউ সাক্ষরের নামে স্রেফ বুজরুগি হয়েছে। আর জনগণের টাকা ধ্বংস হয়েছে। আর আমজনতার করের টাকা ধ্বংস হয়েছে। এবার পরোক্ষে সেই একই অভিযোগ তুলে রাজ্যকে বিঁধলেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান জগদীপ ধনকর। রাজ্যপালের এ হেন কার্যকলাপ রাজ্যের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেঅ দাবি করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

রাজ্যপালের ধারণা, “এই সম্মেলন থেকে যা লগ্নি এসেছে তার চেয়ে সম্মেলন করতে খরচ বেশি হয়ে গিয়েছে।” অর্থসচিবের কাছ থেকে বিজনেস সামিট নিয়ে মোট ছটি বিষয় জানতে চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ধনকর। বিষয়গুলি হল-২০১৬ থেকে এখনও পর্যন্ত প্রতি বছর কত টাকা খরচ হয়েছে? কোন কোন সংস্থার মাধ্যমে এই টাকা খরচ হয়েছে? সংস্থাটি কি সরাসরি টাকা পেয়েছে নাকি, FICCI,-র মাধ্যমে পেয়েছে? প্রতি বছর কতগুলি মউ সই হয়েছে, লগ্নি ও চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে? প্রতি বছর আসলে কত বিনিয়োগ এসেছে, ক’জন কাজ পেয়েছেন?

আরও পড়ুন: অযোধ্যা সফর কি বাতিল! তবে কি রাম মন্দিরের ভূমিপুজোয় থাকছেন না যোগী?

গ্লোবাল বিজনেস সামিট তথা জিবিএস নিয়ে বিরোধীরা আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, নিজেদের কিছু পেটোয়া সংস্থাকে পাইয়ে দেওয়ার বন্দোবস্ত করা ও বাইরে থেকে লোক ডেকে এনে কয়েক দিন ধরে খাওয়াদাওয়া করে ফুর্তি করা ছাড়া ওই সম্মেলনের আর কোনও গুরুত্ব নেই। টুইটারে একাধিক প্রশ্ন তুললেও রাত পর্যন্ত এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। আজকে ইদের কারণে নবান্নও বন্ধ ছিল। ফলে অর্থ দফতরের কর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়নি। এ নিয়ে রাজ্য সরকারের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা এই প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।

বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি তথা বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বলেন, ‘যতদিন তৃণমূল সরকার আছে এ রাজ্যে কেউ শিল্প করতে আসবে না। আর কয়েক মাস বাদেই এই বন্ধ্যাদশা কেটে যাবে।’ এক বাম নেতার কথায়, ‘আমরা তো কবে থেকেই তৃণমূলকে জিজ্ঞেস করছি যে, মুখ্যমন্ত্রী এই ন’বছরে কয়েকশো দুর্গাপুজো, কালীপুজোর মণ্ডপের ফিতে কেটেছেন, এখনও বাংলার মানুষ কেন দেখল না যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটা কারখানার ফিতে কাটছে? শাসকদলের মুখ নেই জবাব দেবে!’

 

Related Articles

Back to top button
Close