fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণদেশপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ইসলামি ভারতের চক্রান্ত ফাঁস! কাশ্মীর ও বাংলাকে টার্গেট করছে আল কায়দা জঙ্গিরা

রক্তিম দাশ, কলকাতা: ভারত সহ উপমহাদেশে ইসলামিক শাসনতন্ত্র অর্থাৎ খেলাফত কায়েম করতে চায় আল কায়দা। শনিবার পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলে ৯ জন আল কায়দা জঙ্গি ধরা পড়ার পর এই বিস্ফোরক তথ্য হাতে পেয়েছেন গোয়েন্দারা। তারা জানতে পেরেছেন ইসলামি ভারতের লক্ষ্যে ছোট ছোট মডিউল তৈরি করে লোন উলফ অর্থাৎ আত্মঘাতী হামলার চক্রান্ত করছে আল কায়দা জঙ্গিরা।

লোন উলফ হামলার ছক নিয়ে দেশের গোয়েন্দারা অনেক আগেই সতর্কতা জারি করেছিলেন।তাদের কাছে খবর ছিল ‘আল কায়দা ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ (আইকিউআইএস) হিন্দুত্ববাদী নেতা, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার কর্তা, বড় ব্যবসায়ী ও বেশ কিছু বিখ্যাত ব্যক্তিদের উপর লোন উলফ হামলার পরিকল্পনা করেছে। এর পিছনে বাংলাদেশের কয়েকজন ইসলামিক ধর্মগুরুর মদত রয়েছে। বাংলাদেশি ধর্মগুরুদের সেই একই টার্গেট- ইসলামি ভারত।

ক’বছর আগে অনলাইনে এক ভিডিও বার্তায় আল কায়দা প্রধান আইমান আল জাওয়াহিরি আইকিউআইএস চালুর ঘোষণা দেন। ভারতীয় উপমহাদেশ জুড়ে ইসলামি জিহাদের পতাকা তুলে ধরতেই এই শাখার সূচনা বলে জানান তিনি। ভিডিও বার্তায় আল কায়দা নেতা বলেছিলেন, ‘নিজেদের ভূমি মুক্ত করতে, এর সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে আনতে এবং খেলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে হবে।’

আরও পড়ুন:বিধায়ক-সংসদের বিরুদ্ধে মামলা নিষ্পত্তি করতে উদ্যোগ হাইকোর্টের

লোন উলফ অর্থ হল একক শিকারি বা একক জেহাদি। নাশকতা করার জন্য একজন জেহাদি নিজেই হামলা চালায়। এছাড়াও অল্প কয়েকজন জেহাদি স্লিপার সেল তৈরি করেও হামলা করে।

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ভারত এবং বাংলাদেশে জঙ্গিদের টেলিগ্রামভিত্তিক চ্যানেল বালাকোট মিডিয়া থেকে প্রকাশিত বাংলা ভাষায় লেখা একটি ম্যাগাজিনে এই হামলার বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছিল। জঙ্গিরা হামলার কলা-কৌশল ও কাদের টার্গেট করা হতে পারে তা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল।

জঙ্গিরা হামলার কলা-কৌশল ও কাদের টার্গেট করা হতে, তা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল। ওই ম্যাগাজিনে লোন উলফ হামলা কী, অপারেশনের মূলনীতি, নিজেকে প্রস্তুত করা, যোগাযোগের কৌশল, সিসি ক্যামেরা এড়িয়ে চলা, টার্গেট সিলেকশন, টার্গেট প্রোফাইলিং, যাতায়াতের কৌশল, রেইকি করার পদ্ধতি, অপারেশনের পরিকল্পনা, সিকিউরিটির জন্য কী করা যাবে আর কী করা যাবে না, প্রয়োজনে টিম সিলেকশন, প্র্যাকটিস, অপারেশন পরিকল্পনার নমুনা, নিরাপত্তা সতর্কীকরণ, কিলিংয়ের বিষয়ে নির্দেশনা, স্যাবোটাজ, অপারেশনের পর বিবৃতি দেওয়ার কৌশলগুলো বিস্তারিত বলা হয়েছিল।

ইরাক-সিরিয়া থেকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের পতনের পর থেকে বিশ্ব জুড়ে জিহাদের কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য জঙ্গিরা বেশি বেশি লোন হামলার আহ্বান জানাতে থাকে জঙ্গি মাস্টারমাইন্ডরা। সারা বিশ্ব এখন এই লিডারলেস জিহাদ ছড়িয়ে পড়া নিয়ে চিন্তিত। ওই ম্যাগাজিনে ‘আমাদের টার্গেট’ শিরোনামের একটি অধ্যায়ে ভারতে এবং বাংলাদেশে কাদের ওপর হামলা করা যেতে পারে তার কিছু নমুনা দেওয়া হয়েছে। ওই নমুনায় আরও বলা হয়েছে, আমেরিকা, ইসরায়েল, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ন্যাটো জোটভুক্ত দেশের (তুরস্ক বাদে) যে কোনও অমুসলিম বা উঁচু পদের কেউ। এসব দেশের ব্যবসায়িক কোম্পানিতে যারা কাজ করে তাদেরকেও টার্গেটের তালিকায় রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:দীর্ঘ ৬ মাস পর, আজ থেকে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হল তাজমহল

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, লোন উলফ পদ্ধতিতে কোনও ব্যক্তি বিশেষকে মগজ ধোলাই করে একা আত্মঘাতী হামলা চালাতে উৎসাহী করে তোলা হয়। এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির সরাসরি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে কোন যোগ থাকে না। ইন্টারনেট বা জিহাদি বইপত্রের মাধ্যমে তার মধ্যে পরোক্ষে ধর্মীয় উন্মাদনা জাগিয়ে তোলা হয়। ‘লোন উলফ’ হামলাকারীকে খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। জঙ্গি সংগঠনগুলির উপর নিয়মিত নজর রাখছেন গোয়েন্দারা। তবে নিজের বাড়িতে বসে ইন্টারনেটে জেহাদি ওয়েবসাইট দেখে কেউ হামলা চালানোর পরিকল্পনা করলে তা ধরা মুশকিল!

গোয়েন্দারা আরও জানিয়েছেন ইন্টারনেটে চিহ্নিত করা জঙ্গি সাইটগুলো বন্ধ করা হলে ফের অন্য নামে জেহাদি ওয়েবসাইট খুলছে আল কায়দা। এর মধ্যে এক ডজনের বেশি ওয়েবসাইট রয়েছে বাংলায়। ওয়েবসাইটগুলোতে আল কায়দার জেহাদি আর্দশ থেকে শুরু করে সংগঠনের শীর্ষ জঙ্গি নেতাদের আররী ভাষায় বক্তব্যকে বাংলায় অনুবাদ করে প্রচার করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে শেকড় আরও দৃঢ় করতে উঠে পরে লেগেছে আল কায়দা। সূত্রের খবর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে গোয়েন্দারা একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতে আল কায়দার সংগঠন বিস্তারে মূল লক্ষ্য দুটি এলাকা। প্রথমত কাশ্মীর এবং দ্বিতীয়ত পশ্চিমবঙ্গসহ বাংলাভাষী এলাকাগুলো।

Related Articles

Back to top button
Close