fbpx
দেশহেডলাইন

দক্ষিণ ভারতে সক্রিয় আইএস জঙ্গি গোষ্ঠী আল-হিন্দ, চার্জশিট জমা NIA’র

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: দক্ষিণ ভারতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইসমালিক স্টেট জঙ্গি গোষ্ঠী। এখানে তাদের সংগঠনের নাম আল-হিন্দ। সম্প্রতি এই জঙ্গি সংগঠনের ১৭ জন সদস্যের বিরুদ্ধে তৈরি করা চার্জশিটে এমন তথ্য তুলে ধরেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের বেশিরভাগ ঘাঁটিই ধ্বংস করা হয়েছে। সিরিয়াতেও কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এই জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যরা। এই পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে এবার দক্ষিণ ভারতের গভীর জঙ্গলগুলিতে ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে আইএসআইএসের ভারতীয় শাখা আল হিন্দ জঙ্গি সংগঠন।

ওই চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, বেঙ্গালুরুর মেহবুব পাশা ও তামিলনাড়ুর কুড্ডালোরের খাজা মইদীনের নেতৃত্বে ২০ জন জঙ্গির একটি দল কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কেরলের গভীর জঙ্গলগুলিতে ২০১৯ থেকে ঘাঁটি তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। এর জন্য পাশা ও মইদীন কুখ্যাত চন্দনদুস্য বীরাপ্পনের জীবন নিয়ে লেখা বইও কিনেছিল। কিন্তু, তাদের উদ্দেশ্য পূরণ হওয়ার আগেই গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে ২০ জনের মধ্যে ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর জানা যায়, তাদের ভয়ানক পরিকল্পনার কথা।

জানা গিয়েছে, জঙ্গলে বেঁচে থাকার জন্য জঙ্গলদস্যু বীরাপ্পানের বেশ কিছু বই তাদের কাছে ছিল। সেগুলো পড়ে বিভিন্ন পদ্ধতি শিখেছিল তারা। এমনকি ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে পাশা আরও চারজনকে নিয়ে কর্নাটকের শিবানাসমুদ্র এলাকায় জঙ্গলের মধ্যে একটি জায়গা চিহ্নিতও করে আসে যেখানে তারা প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। সেই সঙ্গে সেখানে আল-হিন্দ সদস্যদের ডেরা তৈরির পরিকল্পনাও হয়। এখানেই দেশের প্রথম ইসলামিক স্টেট প্রদেশ তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছিল তারা। এনআইএ-র তরফে পেশ করা চার্জশিটে আরও বলা হয়েছে, খাজা মইদিনের নির্দেশে আল-হিন্দ সদস্যরা তাঁবু, রেনকোট, স্লিপিং ব্যাগ, দড়ি, মই, পুলি, তীর, ধনুক, জঙ্গলের জুতো, ছুরি, অস্ত্র ও গোলাবারুদের ব্যবস্থা করে ফেলেছিল। এমনকি আইইডি তৈরির উপকরণও যোগাড় করে ফেলেছিল তারা। এছাড়া কর্নাটকের কোলার, কোডাগু, গুজরাতের জাম্বুসার, মহারাষ্ট্রের রত্নাগিরি, অন্ধ্রপ্রদেশের চিত্তুর, পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান ও শিলিগুড়িতে ডেরা চিহ্নিত করে ফেলেছিল তারা, এমনটাই জানিয়েছে এনআইএ-র চার্জশিট। তাদের পরিকল্পনা ছিল রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তা, পুলিশ আধিকারিক ও সেলিব্রিটিরা। নাশকতা চালিয়ে জঙ্গলে নিজেদের ডেরায় গিয়ে লুকনোর পরিকল্পনা ছিল তাদের।

আরও পড়ুন: রাজস্থানে ধর্ষণের পর বিষ খাইয়ে খুন, “এটা ছোট ঘটনা”, বললেন কংগ্রেস বিধায়কের

ভারতে এই প্রথম এনআইএ বা কোনও তদন্তকারী সংস্থার তরফে আইএসআইএস জঙ্গিদের এই ধরনের ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস করা হয়েছে বলেও প্রশাসন সূত্রে খবর। ওই চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সালে মেহবুব পাশা আরও চার জন আইএসআইএস জঙ্গিকে নিয়ে কর্ণাটকের শিবসমুদ্র এলাকার জঙ্গলে গিয়ে ঘাঁটি তৈরির উপযুক্ত জায়গার সন্ধান চালায়। যেখানে গোপন একটি ঘাঁটি তৈরি করে সমস্ত আল হিন্দ জঙ্গিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ভারতে প্রথম ইসলামিক স্টেটের মুক্তাঞ্চল বানানোর ছক ছিল তাদের। এর জন্য তাঁবু, রেনকোট, স্লিপিং ব্যাগ. দড়ি, ল্যাডার, তিরধনুক, আগ্নেয়াস্ত্র, ছুরি, আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ এবং জঙ্গলে ব্যবহারকারী জুতো-সহ শক্তিশালী আইডি বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জামও জোগাড় করেছিল।

জঙ্গি ঘাঁটির তৈরি উপযুক্ত জায়গার সন্ধানে আল হিন্দের সদস্যরা কর্ণাটকের কোলার ও কোডাগু-সহ একাধিক জায়গা, গুজরাটের জাম্মুসার, মহারাষ্ট্রের রত্নগিরি, অন্ধ্রপ্রদেশের চিত্তুর এমনকী পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান ও শিলিগুড়িতে খোঁজ চালিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close