fbpx
আন্তর্জাতিকহেডলাইন

ইজরায়েল-আমিরশাহির ‘ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি’, মিশ্র প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যে

সেখ আবদুল হামিদ, কলকাতা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইজরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে যে মৌখিক শান্তিচুক্তি হয়েছে সেটিকে ভালো চোখে দেখছে না মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ফিলিস্তিন, ইরান এবং তুরস্ক। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, “ইজরায়েল-আমিরশাহির চুক্তিটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল এবং এটি বাতিল হওয়া উচিত।”

এই ঘটনাকে ‘ফিলিস্তিনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে মন্তব্য করেছে তুরস্ক। অন্যদিকে ইরান বলছে, এই চুক্তির মাধ্যমে ‘মুসলিম বিশ্বের পিঠে ছুরি চালানো’ হয়েছে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইট করে জানান, “ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে।এই চুক্তির মাধ্যমে পশ্চিম তীরের এলাকায় সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ স্থগিত করতে রাজি হয়েছে ইজরায়েল। পাশাপাশি আমিরশাহির সঙ্গে ইজরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুরোদমে শুরু হবে।”

এরপরেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয় মধ্যপ্রাচ্যে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে ইজরায়েলের সাথে আমিরশাহির “ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি’কে মেনে নিতে পারছে না ফিলিস্তিন সহ ইরান এবং তুরস্ক। এক বিবৃতিতে ইরানের বিদেশ মন্ত্রণালয় জানায়, ‘এটি আমিরাতের কৌশলগত নির্বুদ্ধিতা এবং নিঃসন্দেহে এটি এই অঞ্চলের প্রতিরোধ শক্তিকে আরও জোরাল করবে।”

 

এরপরেই তুরস্কের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সমর্থনে এক বিবৃতিতে জানায়, “ইজরায়েলের সঙ্গে চুক্তিতে সম্মত হওয়ার মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ‘ভণ্ডামিপূর্ণ আচরণ’র কথা এই অঞ্চলের মানুষ কখনও ভুলে যাবে না এবং ক্ষমা করবে না।” বিষয়টি এখানেই থেমে থাকেনি। শুক্রবার ইস্তাম্বুলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান বলেন, “আবু ধাবিতে দূতাবাস বন্ধ এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিতের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে তুরস্ক। ইজরায়েলের সঙ্গে আমিরশাহি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তিতে পৌঁছানোয় এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে তার দেশ।”

বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক সংগঠন হামাস। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলছেন, “এই সমঝোতা ফিলিস্তিনি জাতির স্বার্থ রক্ষা করবে না। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ইহুদিবাদী ইজরাইলের দখলদারিত্ব ও ফিলিস্তিনবিরোধী অপরাধযজ্ঞের ‘প্রতিদান’ হিসেবে তেল আবিবের সঙ্গে এই সমঝোতায় পৌঁছেছে।” চুক্তির বিষয়ে হামাসের আরেক মুখপাত্র ফাউজি বারহুম বলেছেন, “তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ফিলিস্তিনি জাতির পিঠে ছুরি বসিয়েছে।এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ইহুদিবাদী ইজরাইলের স্বার্থ রক্ষা করবে।”

এদিকে ফিলিস্তিনের জিহাদ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা দাউদ শিহাব জানান, “এই সমঝোতার মাধ্যমে ইজরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভাকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করা হয়েছে।আরব আমিরশাহি এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইজরাইলের মোকাবিলায় নতজানু নীতি গ্রহণ করেছে এবং এর ফলে তেলআবিবের ফিলিস্তিন বিদ্বেষী তৎপরতা আরও জোরদার হবে।”

উল্লেখ্য, চুক্তিতে পৌঁছানোর মাধ্যমে ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলির মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-ই প্রথম দেশ। এবং মিশর এবং জর্ডানের পর আরব বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসেবে ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পূর্ন কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করছে আমিরশাহি। প্রসঙ্গত, ইজরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে যে শান্তি চুক্তি হয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

 

তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ‘এই অঞ্চলে চুক্তিটি শান্তি বয়ে আনবে”। অন্যদিকে, জর্ডানের বিদেশ মন্ত্রী আয়মান আল-সাফাদ বলেছেন, ‘শান্তি প্রক্রিয়াতে এই চুক্তির প্রভাব নির্ভর করছে ইজরায়েল কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে তার ওপর। তবে, ইজরায়েলকে অবশ্যই ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং অবৈধ পদক্ষেপ গ্রহণ বন্ধ করতে হবে।’ সূত্রের খবর, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে ইজরায়েল এবং আমিরশাহির রাষ্ট্রনেতারা শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন।

 

Related Articles

Back to top button
Close