fbpx
কলকাতাহেডলাইন

রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ না জানানো চেয়ারপার্সনের গুরুতর অপরাধ: জয়দীপ মুখোপাধ্যায়

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের সরকারি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ নেই মুখ্যমন্ত্রীর। প্রথা অনুসারে মুখ্যমন্ত্রী ও কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণ জানানো উচিত। এর আগেও কমিশনের চেয়ারপার্সেন হিসেবে যখন শ্যামল সেন বা চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায় ছিলেন তখনও এই রীতি মেনে কাজ করা হয়েছে। কিন্তু এই প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধান বিচারপতি কাউকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। উল্টে রাজ্যের সাংবিধানিক পদে না থাকা বিরোধী নেতৃত্বকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আর তাতেই এবার ক্ষোভ প্রকাশ করলেন অল ইন্ডিয়া লিগাল এড ফোরামের সাধারণ সম্পাদক তথা সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়।

শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি রাজ্যের মানবাধিকার কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান গিরীশ গুপ্তের আইন বহির্ভূত কার্যকলাপে জন্য তার পদত্যাগের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী যেকোনও সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো উচিত। কিন্তু তা না করে কমিশনের চেয়ারম্যান গিরীশ গুপ্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। রাজ্য মানবাধিকার কমিশন গঠিত হয়েছিল হিউম্যান রাইটস এক্ট ১৯৯৩ আইন অনুসারে। বর্তমানে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি গিরীশ গুপ্ত। প্রতিবছরই ১০ ডিসেম্বর দিনটিকে মানবাধিকার দিবস হিসেবে পালন করা হয় বিশ্ব তথা ভারতবর্ষে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ ছাড়াও সাংবিধানিক পদে আছেন তাদেরকে আমন্ত্রণ করা হয়। এই প্রথা চলে আসছে দীর্ঘদিন যাবত এর আগেও যারা এই পদে ছিলেন তারা সবাই এই প্রথা মেনে কাজ করেছেন। বর্তমান মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সেন বিরোধীদের আমন্ত্রণ জনিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী আখড়া গড়ে তুলেছেন।’

রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের এই কার্যকলাপ প্রটোকল বিরোধী বলে দাবি করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের এইরূপ কার্যকলাপ ব্যথিত করেছে আইনজীবী মহলকেও। এটি অত্যন্ত গুরুতর অন্যায় বলে দাবি করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি একজন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং লেবার ওয়েল ফেয়ার বোর্ডের চেয়ারপার্সন হিসাবে দীর্ঘ চার বছর কাজ করেছি তাই প্রটোকল অনুযায়ী বলতে পরি বোর্ড বা কমিশন বা যে সরকারি দফতরে মুখ্যমন্ত্রী সংবিধানিক পদ অনুসরে প্রধান। তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো সরকারি দফতরের দয়িত্বের মধ্যে পরে। এক্ষেত্রে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন গিরীশ গুপ্তের মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ না জানানোর এই কাজ রাজনৈতিক ভাবে অভিস্বন্ধি মুলক।

তার কথায়, গিরীশ গুপ্তের যদি রাজনীতি করার ইচ্ছা থাকে তবে মানবাধিকার কমিধনের চেয়ারপার্সন থেকে পদত্যগ করে যে কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য পদ গ্রহণ করে রাজনীতি করতে পারেন। কিন্তু সরকারি পদে থেকে এই প্রকার রাজনীতি করা মতেই সমীচীন নয়। মানবাধিকার কমিশনের মঞ্চকে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে রাজনীতিকরণ করবার জন্য ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তার এই কাজ ধরা পরে গেছে।

Related Articles

Back to top button
Close