fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

‘মাত্র একদিনেরই তো ব্যাপার, অপেক্ষা করতে পারবেন না কেন’? রাজস্থান কংগ্রেসকে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের

অক্সিজেন পেলেন শচীন পাইলট এবং তাঁর অনুগামী বিধায়করা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:   এবার সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা খেল গেহলট শিবির। বৃহস্পতিবার ডিসকোয়ালিফিকেশন মামলার শুনানিতে বাড়তি অক্সিজেন পেলেন শচীন পাইলট এবং তাঁর অনুগামী বিধায়করা। গণতন্ত্রে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে থামিয়ে দেওয়া যায় না। বৃহস্পতিবার রাজস্থান বিধানসভার স্পিকারকে এমনই বলল সুপ্রিম কোর্ট। স্পিকার সি পি যোশি শীর্ষ আদালতে আবেদন করে বলেন, রাজস্থান হাইকোর্ট যেন কোনও ব্যাপারে তাঁকে বাধা না দেয়। সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে বলে, আপনি আর একদিন অপেক্ষা করতে পারলেন না? একইসঙ্গে বিচারপতি বলেন, স্পিকার তো নিরপেক্ষ। তিনি কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন কেন?

এদিন বিচারপতি একে মিশ্র, বিআর গাভাল এবং কৃষ্ণ মুরারির ডিভিশন বেঞ্চের পক্ষ থেকে রাজস্থান বিধানসভার স্পিকার সিপি যোশির আইনজীবী কপিল সিব্বলকে প্রশ্ন করা হয়, দলের কোনও নেতার শীর্ষনেতৃত্বের সঙ্গে মতের অমিল থাকতেই পারে। তাই বলে ডিলকোয়ালিফাই করা হবে? পাশাপাশি এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নে বেজায় অস্বস্তিতে রাজস্থানের স্পিকারও। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, “স্পিকার তো নিরপেক্ষ হওয়ার কথা। আপনি আদালতে মামলা করেছেন কেন?”

সচিন পাইলট ও তাঁর অনুগামীদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আপাততভাবে রদের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে যান রাজস্থানের স্পিকার। আজ সর্বোচ্চ আদালতে ছিল তার প্রথম শুনানি। আর তাতে আদালতের রায় গেল সচিনেরই পক্ষে।বুধবার রাজস্থানের স্পিকার সি পি জোশীর হঠাত্ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পর বসে ছিলেন না শচীনের টিমও। সেদিনই সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন করে তাঁরা কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে একবার শুনানির দাবি জানান। শুক্রবার রাজস্থান হাইকোর্ট সচিনের মামলায় নিজেদের শুনানি দিতে পারবে কিনা তার সিদ্ধান্ত নেন সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ।

রাজনৈতিক সংকটের কথা উল্লেখ করে বিচারপতি এ কে মিশ্র বলেন, ‘ধরা যাক কোনও নেতা কয়েকজনের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। তাঁদের কি ডিসকোয়ালিফাই করা যায়? তাহলে তো কেউ প্রতিবাদ করতেই সাহস পাবে না। গণতন্ত্রে এভাবে কাউকে প্রতিবাদ জানাতে বাধা দেওয়া যায় না।’ স্পিকারের হয়ে এদিন সওয়াল করেন আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি বলেন, কয়েকজন বিধায়ক পরপর দু’বার দলের ডাকা মিটিং-এ অনুপস্থিত হয়েছিলেন। এরপর তাঁদের ডিসকোয়ালিফিকেশনের নোটিস দেওয়ার পূর্ণ অধিকার আছে স্পিকারের। এই পরিস্থিতিতে হাইকোর্ট কাউকে বাঁচানোর জন্য কোনও নির্দেশ দিতে পারে না। স্পিকার যখন কোনও ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন, কোর্ট তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

আরও পড়ুন: বিধায়কপদ বাতিল হলে রাজনীতির ময়দান থেকে বিদায় নেবে পাইলট, দাবি ঘনিষ্ঠ সূত্রের

বিচারপতি বলেন, ‘বিধায়কদের জনগণ নির্বাচিত করেছেন। তাঁরা কি ক্ষোভের কথা জানাতে পারেন না?’ কপিল সিব্বল বলেন, ‘তাঁদের ব্যাপারে স্পিকারই সিদ্ধান্ত নেবেন। কোর্ট এক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।’ আগামী শুক্রবার রাজস্থান হাই কোর্টের রায় প্রদানে কোনও বাধা রাখল না সুপ্রিম কোর্ট। তবে, শেষ রায় সুপ্রিম কোর্টই দেবে। তবে, মামলার দাঁড়িপাল্লা আবার হাইকোর্টের দিকে ফিরে যাওয়ায় বেজায় চাপে রাজস্থান কংগ্রেস।

গত সপ্তাহে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোট দু’বার কংগ্রেস পরিষদীয় দলের বৈঠক ডাকেন। সেখানে বিদ্রোহী নেতা শচীন পাইলট সহ ১৯ জন বিধায়ক উপস্থিত হননি। এরপরে স্পিকার নোটিস দিয়ে জানতে চান, তাঁদের ডিসকোয়ালিফাই করা হবে না কেন? বিদ্রোহীরা বলেন, তাঁরা কংগ্রেস ত্যাগ করেননি। তাঁরা চান, দলের নেতৃত্ব বদলানো হোক। কপিল সিব্বল অবশ্য এদিন সুপ্রিম কোর্টে বলেন, বিদ্রোহীরা যেভাবে পরিষদীয় দলের বৈঠকে অনুপস্থিত থেকেছেন, তা দলত্যাগ করারই শামিল। ডিসকোয়ালিফিকেশনের নোটিসের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীরা গিয়েছিলেন হাইকোর্টে। তার পালটা স্পিকার যান সুপ্রিম কোর্টে।

Related Articles

Back to top button
Close