fbpx
দেশহেডলাইন

কারাগারে বন্দি থাকা কয়েদিরা এবার স্ত্রী’র সঙ্গে সহবাস করতে পারবে, অনুমতি পঞ্জাব রাজ্যে

যুগশঙ্খ, ওয়েবডেস্ক: ভারতের পঞ্জাব প্রদেশের কারাগারে এখন থেকে কয়েদিরা তাঁদের স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার সুযোগ পাবেন। কয়েদিদের মধ্যে এর ফলে কমবে মানসিক চাপ।

সম্প্রতি পঞ্জাব রাজ্য সরকার ভারতের প্রথম কারাগার হিসেবে রাজ্যের টার্ন টারান জেলার গোইন্দাল কারাগারে কয়েদিদের এ সুবিধা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। পঞ্জাবের গোইন্দাল কারাগারে প্রথম এ সুবিধা পেয়েছেন হত্যা মামলার আসামি ৬০ বছর বয়সী গুরজিৎ সিং। তিনি ওই কারাগারে বেশ কয়েক মাস ধরে বন্দী।

কারাগারে স্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে গুরজিৎ সিং বলেন, ‘কারাগারে একা ও বিষণ্ন হয়ে পড়েছিলাম। স্ত্রীর সঙ্গে কারাগারেই ব্যক্তিগত মুহূর্ত কাটানোর সুযোগ পাওয়ায় বেশ স্বস্তি বোধ করেছি।’ পঞ্জাব কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, যেসব কয়েদি আচার-আচরণে ভালো, প্রতি দুই মাসে দুই ঘণ্টার জন্য তাঁদের স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সময় কাটানোর সুযোগ দেওয়া হবে। রাজ্য সরকার কারা কর্তৃপক্ষকে অনুমতি দেওয়ার পর এক হাজারের বেশি কয়েদি এ সুযোগ চেয়ে আবেদন করেছেন। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০০ কয়েদি এ সুযোগ পেয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুনীল সিং বলেন, ভারতের কিছু রাজ্য, যেমন রাজস্থান ও মহারাষ্ট্রের কারাগারে যেসব কয়েদি ভালো আচরণ করেন, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কারাগারে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া ‘সন্তান জন্ম’ বা ‘বৈবাহিক সম্পর্ক’ বজায় রাখার জন্য কয়েদিদের ছুটির অনুমতিও দেন আদালত। তবে সারা দেশের পাঁচ লক্ষের বেশি কয়েদি বছরের পর বছর এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে নতুন স্কিম চালু হওয়ায় কারাগারের ভেতর কয়েদিদের এ ধরনের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে পঞ্জাব প্রথম ভারতীয় রাজ্য। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজ্যের ২৫টি কারাগারের মধ্যে তিনটি কারাগারে এ সুবিধা চালু হয়েছে। স্কিম অনুযায়ী ৩ অক্টোবরের মধ্যে ১৭টি কারাগারে এই সুবিধা চালুর কথা বলা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, অন্য কারাগারগুলো আয়তনে অনেক ছোট এবং একটি শিশুদের জন্য। এ কারণে এসব কারাগারে এ সুবিধা চালু করা যায়নি। সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, কারাগারে কয়েদিদের স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সময় কাটানোর সুবিধা দিতে সংযুক্ত বাথরুমসহ একটি কক্ষ নির্ধারণ করতে হবে। ওই কক্ষে কয়েদি তাঁর স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সংসর্গ করতে পারবেন। যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে ওই কক্ষের ভেতর জন্মনিরোধকও সরবরাহ করতে হবে। কারা বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হারপ্রীত সিধু বলেন, কয়েদিদের মানসিক চাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সমাজে তাঁদের পুনঃপ্রবেশ নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সংসর্গের সুবিধা তাঁদের জৈবিক চাহিদাও পূরণ করবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, স্পেন, ফিলিপাইন, কানাডা, সৌদি আরব, ডেনমার্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যের কারাগারে কয়েদিদের দাম্পত্য সাক্ষাতের ব্যবস্থা আছে। ব্রাজিল ও ইসরায়েলে সমলিঙ্গের সঙ্গীদের সঙ্গে থাকারও অনুমতি দেওয়া হয়। ভারতের কারাগারগুলোর ভেতরে আগে বন্দীদের সঙ্গে দর্শনার্থীদের শারীরিক সাহচর্যেরই অনুমতি ছিল না। কয়েদিদের দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন তাঁদের মৌলিক মানবাধিকার। এ কারণে আইনজীবী অমিত সাহনি ২০১৯ সালে জনস্বার্থে দিল্লি হাইকোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করেন। আইনজীবী অমিত সাহনি বলেন, কয়েদিদের সঙ্গে যখন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা কারাগারে দেখা করতে আসেন, তখন তাঁদের হাত ধরতে চাওয়া ও আলিঙ্গন করতে চাওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে কারা কর্মকর্তারা সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ কারণে ইচ্ছা থাকলেও কয়েদিরা লজ্জা ও ভয়ে সেসব করতে পারেন না। তিনি আরও বলেন, যিনি অপরাধ করেছেন তাঁকে শাস্তি দেওয়া যৌক্তিক। কিন্তু যে স্বামী-স্ত্রী নির্দোষ, তাঁর কী হবে? তাঁর অধিকার কেন কেড়ে নেওয়া হচ্ছে?

Related Articles

Back to top button
Close