fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রেকর্ড সময়ে ঘাস বন তৈরি জলদাপাড়ায়  

নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার: লকডাউনের মধ্যেও রেকর্ড সময়ে একশৃঙ্গ গন্ডারদের আবাসস্থল জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে ফডার প্ল্যানটেশনের কাজ সম্পুর্ন করলো জলদাপাড়া বনবিভাগ। ঢাড্ডা, চেপ্টির মত পরিচিত ঘাষ লাগানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল এবছর এপ্রিল মাসের শুরুতেই। জুন মাসের মধ্যেই ২৭০ হেক্টর বনভূমিতে ঢাড্ডা, চেপ্টি লাগানো শেষ হয়েছে।একইসাথে ট্রি ফডার কাজ শেষ হয়েছে ২৫ হেক্টর জমিতে। বাকি বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানো হয়েছে আরও ৭৫ হেক্টর জমিতে।

উল্লেখ্য, একশৃঙ্গ গন্ডারদের আবাসভূমির সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই ঘাস বন। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, জলদাপাড়ায় গন্ডার সংরক্ষণ করতে গিয়ে গত ৩০ বছরে যেভাবে ঘাস বনকে নির্দিষ্ট নিয়মে রক্ষা করা হয়েছে তা দেশের মধ্যে নজিরবিহীন। ১৯৯০ সালে যেখানে জলদাপাড়ায় মাত্র ১০টি গন্ডার ছিল, সেই সংখ্যাই এখন ২৫০ এর উপরে। জাতীয় উদ্যানের কোর এলাকার ঘাস বন ছেড়ে গন্ডার লোকালয়তে চলে এসেছে, এমন ঘটনাও প্রায় কদাচিত দেখা যায়।

জলদাপাড়া বনবিভাগের সহ বন্যপ্রাণ সহায়ক দেবদর্শণ রায় বলেন, “ফডার প্ল্যানটেশন করার পরই আমরা শক্তিশালী বেড়া দিয়ে ঘাস বন কিছুদিন ঘিরে রেখেছি। সময় মেনে সেই বেড়া তুলে দেওয়া হয়। শুধু একশৃঙ্গ গণ্ডার নয়, জাতীয় উদ্যানে প্রায় ১০০টির বেশি হাতি, ১০০০ এর উপর অন্যান্য তৃনভোজী প্রাণী রয়েছে। পাখিদের একটি অংশকেও নির্ভর করতে হয় ঘাস বনের উপর। জাতীয় উদ্যানে জীব বৈচিত্র্য স্বাভাবিক রাখায় অন্যতম ভূমিকা থাকে ঘাস বনের।”

জলদাপাড়া বনবিভাগের ডিএফও কুমার বিমল জানান, এবার প্রথম থেকেই বেশ কিছু আলাদা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাধারণত বর্ষার শুরুতেই কাজ শুরু হয়। তবে এবার অনেকটা আগেই তাদের  কাজ সম্পুর্ন হয়েছে।

উল্লেক্ষ্য, ২১৬ বর্গকিমির কিছুটা বেশি এলাকা নিয়ে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান ছড়িয়ে রয়েছে। যার মধ্যে একটি বড় অংশ ঘাস বন। জানা গিয়েছে, প্রতিবছর স্বাভাবিক নিয়ম মেনে ঘাস বনের যেমন ক্ষয় হয়, আবার নতুন বনও তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের মতে, মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত রুখতেও অনেকটা ভূমিকা নেয় বন। শুধু তাই নয়, এবছর আরেকটি বিষয় উঠে এসেছে। করোনা পরিস্থিতির জেরে স্থানীয় গ্রামবাসীদের অনেকের হাতে কাজ ছিলনা। তবে এপ্রিল, মে মাসের সময় ঘাস বন তৈরিতে মানুষের সক্রিয়তা ছিল সবচেয়ে বেশি। প্রচুর মানুষের কর্মসন্ধান দিয়েছে জলদাপাড়া। সামাজিক সুরক্ষা বিধি মেনেই একটানা কাজ চলছিল।

Related Articles

Back to top button
Close