fbpx
অন্যান্যঅফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

জামাইদের পাতে পড়ল না ইলিশ, দুধের স্বাদ এবছর ঘোলেই মেটাতে হল

নিজস্ব প্রতিনিধি, দিনহাটা: জামাইষষ্ঠীর দিন জামাইয়ের পাতেও বাংলাদেশের ইলিশ তুলে দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে হল শ্বশুর শাশুড়িদের। লকডাউনের ফলে বাইরে থেকে মাছ না আসায় ইচ্ছা পূরণ সম্ভব হল না। তাই বাজারে এসে বাংলাদেশের পদ্মার সেই ইলিশ না পেয়ে ডায়মন্ডহারবার থেকে আসা ছোট ছোট ইলিশ কিনেই ফিরতে হলো তাদের।

বৃহস্পতিবার জামাইষষ্ঠীর দিন দিনহাটার বিভিন্ন বাজারে বাংলাদেশের ইলিশ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন শ্বশুরের অনেকেই। পরিবর্তে অন্যান্য মাছ নিয়ে যেতে হয় তাদের। পাশাপাশি এদিন বাজারে বিভিন্ন মাছের দাম ছিল অনেকটাই নাগালের বাইরে। পকেট কাটলেও জামাইয়ের পাতে ইচ্ছে মত জিনিস তুলে দিতে না পারায় কিছুটা হলেও আক্ষেপ থেকে গেল ভোজন রসিক বাঙালির।

অনেক আশা করে থাকলেও পদ্মার ইলিশ না পেয়ে হতাশ তারা। বাজারে এসে বিভিন্ন দোকান ঘুরে বাংলাদেশের ইলিশ না মেলায় বাধ্য হয়ে অনেকটাই চড়া দামে ডায়মন্ডহারবারের থেকে আসা ছোট ছোট ইলিশ ১৬০০ থেকে দুই হাজার টাকা কেজি দরে কিনে ফিরতে হল শ্বশুরদের। এদিন দিনহাটার চওড়াহাট বাজার, প্রত্যুষা বাজার সহ বিভিন্ন বাজারে জামাইষষ্ঠী উপলক্ষে ভিড় ছিল যথেষ্ঠ।

বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা দিনহাটায় এদিন চওড়াহাট বাজার সহ অন্যান্য বাজারগুলিতেও শ্বশুররা অনেকেই এসেছিলেন ইলিশ মাছ কিনতে। বাজারে এসে পরিবর্তে নিয়ে যেতে হয় ডায়মন্ডহারবারের ইলিশ সহ অন্যান্য মাছ। ইলিশের পাশাপাশি এদিন চড়া দামে বিক্রি হয় আইর মাছ থেকে শুরু করে অন্যান্য মাছ। মাছের পাশাপাশি এদিন পাঁঠার মাংস থেকে শুরু করে মুরগির মাংস বিক্রি হয় অনেকটাই বেশি দামে।

এদিন দিনহাটার বিভিন্ন বাজারে পাঁঠার মাংস বিক্রি হয় ৮০০ থেকে হাজার টাকা কেজি দরে। এছাড়াও দেশি মুরগির মাংস বিক্রি হয় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা প্রতি কেজি। বাজারে পিছিয়ে ছিল না বয়লার মাংস। এই মাংস এদিন বিক্রি হয় প্রায় ৩০০ টাকা কেজি করে। মাছ ব্যবসায়ীদের অনেকে জানান লকডাউনের ফলে গত প্রায় দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বাইরে থেকে মাছ আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে পদ্মার ইলিশ অমিল হয়ে পড়েছে।

এদিন দিনহাটা চওড়াহাট বাজারে মাছ কিনতে আসা সমীর সাহা, বিদ্যুৎ কুমার সাহা প্রমুখ জানান বছরখানেক আগেই তাদের মেয়ের বিয়ে হয়েছে। এবছর প্রথম মেয়ে ও জামাইরাষষ্ঠী তে এলে বাংলাদেশের ইলিশ মাছ জামাইয়ের পাতে দেওয়ার জন্য ইচ্ছা ছিল তাদের। কিন্তু সেই মাছ না পাওয়ায় অন্যান্য মাছ নিয়ে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে হল।

এদিন বাজারে আসা আরও কয়েকজন জানালেন ইচ্ছে ছিল জামাইয়ের পাতে বাংলাদেশের ইলিশ মাছ তুলে দেওয়ার। কিন্তু না পেয়ে অগত্যা ডায়মন্ডহারবার থেকে আসা ইলিশ মাছ অতিরিক্ত দামে কিনতে হয়। এদের অনেকে আবার বলেন ইলিশ মাছ না মেলায় আড় মাছ এক হাজার টাকা কেজি দরে কিনতে হয়। এদিন বিক্রি হয় কাতল মাছ ছয়শো টাকা, রুই মাছ সাড়ে পাঁচশ টাকা এবং চিংড়ি মাছ ও পাবদা মাছ বিক্রি হয় সাতশো থেকে আটশো টাকা কেজি করে।
মৎস্য ব্যবসায়ীদের মঙ্গল দাস বলেন, একদিকে জামাইষষ্ঠী অন্যদিকে দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে লকডাউনের ফলে বাইরে থেকে মাছ না আসায় জোগান কমে যাওয়ায় দাম কিছুটা হলেও বেড়ে যায়।

দিনহাটা মহকুমা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রানা গোস্বামী, ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক উৎপলেন্দু রায় বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় লকডাউনের ফলে বাইরে থেকে মাল সেভাবে না আসায় কিছুটা হলেও সমস্যা শুরু হয়েছে। এর ফলে ক্রেতারা যেমন নিজের চাহিদা অনুযায়ী পাচ্ছে না তেমনি কিছু কিছু মাছ বিক্রি হচ্ছে অনেকটাই চড়া দামে।

Related Articles

Back to top button
Close