fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

জীবানু মুক্ত করে দু’দিন পর ফের চালু হল জামালপুর হাসপাতাল

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: চিকিৎসক , নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মী মিলেয়ে নয় জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তার জেরে গত শনিবার তালা পড়ে যায় পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আউটডোর বিভাগে। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন জামালপুরের বাসিন্দারা। দু’দিন ধরে হাসপালের সমস্ত বিভাগ ও হাসপাতাল চত্ত্বরে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়। নেওয়া হয় নানা প্রতিষেধক ব্যবস্থা। এরপর সোমবার থেকে ফের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরল জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্র। হাসপাতাল স্বাভাবিক ছন্দে ফেরায় খুশি জামালপুরবাসী।

পূর্ব বর্ধমান জেলায় প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সোমবার রাতে আসা রিপোর্ট অনুযায়ী জেলায় এখনও পর্যন্ত ১০৮০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। তারমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের। চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ইতিমধ্যে ৭০২জন বাড়ি ফিরেছেন।তার মধ্যে এদিন পর্যন্ত জামালপুর ব্লকের প্রায় ৬৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে ।গত শুক্রবার রাতে জামালপুরের ৩৯ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে । সপ্তাহ খানেক আগে জামালপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা ১২ জনের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছিল। তার মধ্যে ছিলেন বন্ধ্যাত্বকরণের অস্ত্রপচার জন্য জামালপুর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া তিন বধূ ।ওই রিপোর্ট আসার পরেই জামালপুর হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্স সহ ৮ জনকে আইসোলেশনে পাঠানো হয়।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে ,গত শুক্রবার রাতে রিপোর্ট আসলে জানাযায় জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ১ চিকিৎসক ,৩ নার্স ,১ জন স্বাস্থ্য কর্মী(এনএম) ও ২ জন গ্রুপ ডি স্টাফের নাম রয়েছে । এছাড়াও জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অধীন চকদিঘী প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মুখ্য চিকিৎসক ও ১ জন ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্টেরও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের সবাইকে হোম আইসোলেশানে পাঠানো হয়। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মী মিলিয়ে মাত্র ২০ জন জামালপুর হাসপাতালে পরিষেবা দেবার দায়িত্ব সামলান। তাদের মধ্যে ৯ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসার পরেই হাসপাতালের কর্মী মহলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিষেবা চালু রাখার ব্যাপারে
তারা অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। সেই কারণে শনিবার সকাল থেকেই হাসপাতালের আউটডোর বিভাগে তালা পড়ে যায়।হাতে গোনা এক চিকিৎসক এবং দু-এক জন নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীকে নিয়ে হাসপাতালের জরুরী বিভাগ কোন রকমে চালু রাখা হয়।

জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিএমওএইচ আনন্দমোহন গড়াই এদিন বলেন , “আউটডোর পরিষেবা দু’দিন বন্ধ থাকায় রোগীদের সমস্যায় পড়ত হয়েছিল ঠিকই। তবে তা শুধু চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের স্বার্থেই বন্ধ রাখা হয়নি। হাসপাতালে আসা সকলের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। কারণ হাসপাতালের সমস্ত বিভাগে জীবানু নাশক স্প্রে করার প্রয়োজন ছিল। গত দু দিন ধরে হাসপাতালের আউটডোর সহ প্রতিটি বিভাগে এবং গোটা হাসপাতাল চত্ত্বরে জীবানু নাশক স্প্রে করার কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর সোমবার থেকে ফের আটডোর পরিষেবা চালু করে দেওয়া হল।”

বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন , “করোনা চিকিসায় সবথেকে বড় ভূমিকা পালন করছেন চিকিৎসক নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীরা। যে চিকিৎসক নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীরা জামালপুর হাসপাতালে পরিষেবা দিতেন তাদের করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়াটা সত্যি দুঃশ্চিন্তার বিষয়। সংক্রমন যাতে আর না ছড়ায় তার জন্য গোটা হাসপাতাল স্যানিটাইজ করার দরকার ছিল। সেই কাজ সম্পূর্ণ হবার পর এদিন থেকে হাসপাতালের আউটডোর বিভাগ ফের চালু করে দেওয়া হয়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে সবাই হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসতে পারেন। পরিষেবা দেবার জন্য চিকিৎসক , নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীরা সবাই প্রস্তুত রয়েছে।”

Related Articles

Back to top button
Close