fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দিলীপ ঘোষের সভা ঘিরে রণক্ষেত্র চেহারা নিল জামালপুর

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান : হামলা, ইটবৃষ্টি ও পুলিশের লাঠিচার্য কোন কিছুকেই তোয়াক্কা করলেন না বিজেপি কর্মীরা। রণক্ষেত্র পরিস্থিতির মধ্য নিজেরা আক্রান্ত হয়েও শনিবার বিকালে তারা রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষকে নিয়ে পৌঁছালেন সভামঞ্চে ।

কৃষি বিলের সমর্থনে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের সাহাপুরে অনুষ্ঠিত জনসভা মঞ্চ থেকে এরপর তৃণমূল কংগ্রেস ও রাজ্য সরকারকে কার্যত তুলোধনা করলেন দিলীপ ঘোষ । একই সঙ্গে তিনি পুলিশকে উদ্দেশ্য করেও দিলেন চরম হুঁশিয়ারি ।

এদিন সকালে বর্ধমানের উল্লাস মোড়ের জেলা পার্টি অফিসে পৌঁছান দিলীপ ঘোষ । সেখানে দলীয় কর্মসূচি সেরে বিকালে তিনি জামালপুরের সাহাপুরের জনসভার উদ্দেশ্যে রওনা হন । দিলীপ ঘোষকে স্বাগত জানিয়ে সভামঞ্চের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বহু বিজেপি কর্মী ও সমর্থক হাজির হয়েছিলেন জামালপুরের জৌগ্রাম নুড়ির মোড়ে। দিলীপ ঘোষের গাড়ি নুড়ির মোড়ের কাছে পৌছাতেই উত্তেজনা চরমে ওঠে।

জেলা বিজেপি সভাপতি সন্দীপ নন্দি অভিযোগে বলেন , নুড়ির মোড়ের কাছে থাকা তৃণমূলের পার্টি অফিসের সামনে বহু তৃণমূল কর্মী জড়ো হয়ে থাকে । দিলীপ ঘোষের গাড়ি ওই এলাকায় ঢুকতেই তারা কালো পতাকা হাতে নিয়ে গাড়ির পথ আটকায় । পুলিশের উপস্থিতিতেই তৃণমূলের কর্মীরা চড়াও হয় বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের উপর । তাদের মারধোর ও শুরু হয়েযায় ।

মারধোরে চারজন বিজেপি কর্মী জখম হয় ।এলাকা রণক্ষেত্রর চেহারা নিলে পুলিশ লাঠি চার্য করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে । সন্দীপ নন্দী দাবি করেন ,তৃণমূলের লোকজন অশান্তি সৃষ্টি করলো । অথচ পুলিশ একাধিক বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে গেছে । এই রাজ্যে বিজেপি কর্মীদের উপরে কিছু পুলিশ ও তৃণমূলের লোকজন যৌথ ভাবে সন্ত্রাস চালাচ্ছে বলে সন্দীপ নন্দী অভিযোগ করেন ।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ এদিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন , নবান্ন অভিযানের দিনেও বিজেপির জনসমাগম দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিল শাসক দল । তাই পুলিশ দিয়ে আমাদের কর্মীদের পিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করলো । ঠিক একই ভাবে এদিন নুড়ির মোড়ে আমাদের উপর আক্রমন চললো । আমরা চাইলে ওই হামলাকারী তৃণমূল কর্মীদের পায়ে পিষে দিয়ে চলে আসতে পারতাম । তৃণমূলের পার্টি অফিসের সব ইট খুলে দিয়ে আসতে পারতাম । কিন্তু আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি । তাই আমরা ওই পথে যাইনি । তা সত্ত্বেও পুলিশ আমাদের চারজন বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ।

এরপরেই দিলীপ ঘোষ পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন , আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করবেন না । যদি চার বিজেপি কর্মীকে মিথ্যা মামলায় পুলিশ ফাঁসায় তবে ফের আমি জামালপুরে আসবো । সব হিসেব সেদিন বুঝে নেব । দিলীপ ঘোষ এদিন দাবি করেন ,পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল যতই সন্ত্রাস চালাক তাতে লাভ কিছু হবে না । আগামী মে মাসে হবে বিধান সভা নির্বাচন ।সর্বক্ষেত্রে কাটমানি খাওয়া দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল সরকার কে রাজ্য থেকে উৎখাতের জন্য প্রস্তুত হয়ে রয়েছে বাংলার মানুষ ।২০১৪ সালে মোদিজী ২৮৩ সিট পেয়ে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে ।এখন বিজেপি সিট দাঁড়িয়েছে ৩০৩ । আমরা গতবারে ১৭ কোটি ভোট পেয়েছিলাম । এবারে সারা দেশে ৩৬ কোটি ভোট পেয়েছি । অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ভোট ছিল ৮৬ লক্ষ , এবার তা বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৩০ লক্ষ । দিদিমনির সমান সমান হয়ে গেছে। বাংলায় আগে বিজেপির ভোট ছিল ১৭ শতাংশ । এখন তা বেড়ে ৪০ শতাংশ পেরিয়ে গিয়েছে । আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বর্ধমান , হুগলী ও বীরভূমে তূণমূল একটাও আশন পাবে না । ২ শোর বেশী আশন পেয়ে বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসছেই । একই সঙ্গে দিলীপ ঘোষের হুঁশিয়ারি, এখনও সময় আছে তৃণমূলের গুণ্ডারা শুধরে যান । নয়তো আগামী মে মাসের পর হাসপাতালেও জায়গা হবে না ।

জামালপুরের সভা সেরে মায়াপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন দিলীপ ঘোষ । ম মায়াপুর যাবার পথে তিনি মন্তেশ্বরের ইচু ভাগড়া বাজারে একটি চায়ের দোকানে চা খাওয়ার জন্য নানেন । চায়ের দোকানের বৈঞ্চিতে বসেন । দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেণ চা খেতে না খেতেই সেখানে ২০০- ৩০০ তৃণমূল কর্মী তাদের দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে জড়ো হয়ে যায় । তারা দিলীপ ঘোষ দুরহাটো শ্লোগান এলাকা উত্তপ্ত করে তোলে । মাড়মুখি হয়েহঠে লোকজন দিলীপ ঘোষের উপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে নিরাপত্তা রক্ষিরা ব্যারিকেড করে দিলীপ ঘোষকে চায়ের দোকান থেকে নিয়ে গিয়ে গাড়িতে তোলেন । এই খবর পেয়ে মন্তেশ্বর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনে ।

দিলীপ ঘোষকে কালো পতাকা দেখানো ও বিজেপি কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামালপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি শ্রীমন্ত রায় । পাল্টা অভিযোগে তিনি বলেন ,জামালপুরের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ দিলীপ ঘোষের নোংরামোর বিরুদ্ধে কালো পতাকা দেখাচ্ছিল। এর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কোন যোগ নেই ।

তবুও বিজেপির কিছু বহিরাগত গুণ্ডা জৌগ্রামের তৃণমূল পার্টি অফিসে ভাঙচুর করে ও লুঠপাট চালায় । মারধোর করে ২০ জন তৃণমূল কর্মীকে জখম করেছে বিজেপির গুণ্ডারা। বেশ কয়েকটি মোটর বাইকের উপর দিয়ে জিপগাড়ি চালিয়ে নিয়ে বাইক নষ্ট করে দিয়েছে । পুলিশ সেভাবে না থাকায় বিজেপির গুন্ডারা একতরফা হামলা চালিয়েছে । তৃণমূল রাজনৈতিক ভাবেই বিজেপির এই সন্ত্রাসের মোকাবিলায় নামবে ।

Related Articles

Back to top button
Close