fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মঙ্গলকোট থানার পুলিশ কর্তাদের কাঁদিয়ে দিয়ে গেল যীশু

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: যীশুর মায়ায় চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না খোদ পুলিশ আধিকারিকরা। তবে এই যীশু প্রভু যীশু নয়। ঘরথেকে বেরিয়ে পথ হারিয়ে ফেলা খুদে শিশু যীশু ছিল মঙ্গলকোট থানার পুলিশের আশ্রয়ে। কয়েকদিন থানার আশ্রয়ে থেকে যীশু সবাইকে আন্তরিকতা ও ভালবাসা দিয়ে মুগ্ধ করে ফেলেছিল। যীশু হয়ে উঠেছিল মঙ্গলকোট থানার সকল পুলিশ আধিকারিকদের নয়নের মণি। শনিবার মা ও দিদিমা যীশুকে থানা থেকে বাড়ি নিয়ে যেতে এলে ঘটে যায় ছন্দপতন।
থানা ছেড়ে বাড়ি চলে যেতে হবে জেনে যীশু কন্নায় ভেঙে পড়ে। যা দেখে পুলিশ আধিকারিকরাও চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে , খুদে বালক যীশুর বাড়ি গুসকরার ধারা পাড়ায়। গত ২২ জুলাই একা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যীশু পথ হারিয়ে ফেলে। তাঁকে তার বাড়ির লোকজন আর খুঁজে পায়না। ওইদিন রাত্রি ৯ টা নাগাদ মঙ্গলকোটের নতুনহাট বাসস্ট্যান্ডে অসহায় ভাবে ঘোরাফেরা করছিল বছর ৫ বয়সী যীশু। স্থানীয়রা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে মঙ্গলকোট থানায় নিয়ে আসে। সেদিন থেকে যিশু মঙ্গলকোট থানার আশ্রয়েই ছিল।

দিন গড়ানোর সাথে সাথে যীশু মঙ্গলকোট থানার সমস্ত আধিকারিকদের নয়নের মণি হয়ে হয়ে উঠে। জিমনাস্টিক ও ফুটবল খেলায় পারদর্শীতা দেখিয়ে যীশু থানার আধিকারিকদের মুগ্ধ করত। যীশুর খাবার দাবার ও পোষাক পরিচ্ছদেরও কোন অভাব রাখেননি পুলিশ আধিকারিকরা। পুলিশ আধিকারিকদের কেউ না কেউ কখনো চকলেট, বিস্কুট তো আবার কখনো ঝালমুড়ি কিনে তার হাতে তুলে দিতেন। যীশু স্নেহের বাঁধনে বেধে ফেলেছিল মঙ্গলকোট থানার অফিসার ইন-চার্য মিঠুন ঘোষকেও। তিনি যীশুকে নতুন জামা প্যান্ট কিনে দিয়েছিলেন। সবমিলিয়ে মঙ্গলকোট থানাতেই যীশুর মহানন্দে দিন কাটাচ্ছিল।

এদিন যীশুর মা ও দিদিমা যীশুকে থানা থেকে বাড়ি নিয়ে যেতে এলে যীশু কান্নায় ভেঙে পড়ে। সে তার মা ও দিদি মাকে বলতে শুরু করে, ’সে থানাতেই থাকবে । বাড়িতে আর যাবে না। যীশুর এমন কান্না দেখে পুলিশ আধিকারিকদেরও চোখে জল চলে আসে। পরে পুলিশ কর্তারা যীশুকে বুঝিয়ে বলেন ,তুমি এখন বাড়ি ফিরে যাও। তোমার যখন ইচ্ছা হবে মঙ্গলকোট থানায় বেড়াতে আসবে ।’ এই কথা শুনে কান্না থামে যীশুর। তারপর সে তাঁর মা ও দিদিমার হাত ধরে নিজের বাড়ি ফিরে যেতে রাজি হয়। তবুও যীশু থানা ছেড়ে চলে যাওয়ায় পুলিশ আধিকারিকদের সকলের মন ভারাক্রান্ত হয়ে রয়েছে।

যীশুর দিদিমা মালতি মাড্ডি এদিন জানান, গত ২২ জুলাই থেকে নাতিকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। নাতি মঙ্গলকোট থানায় আছে খবর পেয়ে এদিন নিতে আসি। কিন্তু আমি অবাক হয়ে গেলাম থানা ছেড়ে যেতে না চাওয়ার জন্য নাতির কান্না দেখে। পুলিশ বাবুদেরও যে হৃদয় আছে , ওনারাও যে কাউকে ভালবাসতে পারেন তা আমার নাতিকে দেখে বুঝতে পারলাম। মঙ্গলকোট থানার পুলিশের ভালবাসা হয়তো নাতি যীশু কোনদিন ভুলতে পারবে না। হয়তো নাতি ফের নিজের বাড়ি ছেড়ে মঙ্গলকোট থানার পুলিশ বাবুদের কাছেই চলে আসবে।

Related Articles

Back to top button
Close