fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ঝাড়গ্রামের রঘুনাথপুরে সার্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হল পরিযায়ী শ্রমিকদের আত্মকথা

সুদর্শন বেরা, ঝাড়গ্রাম: অরণ্য সুন্দরী ঝাড়গ্রাম শহরের অফিসার্স ক্লাব প্রাঙ্গণে রঘুনাথপুর সার্বজনীন দুর্গোৎসব এবছর ৭১ তম বর্ষে পড়েছে । তাদের পুজোর থিম করোনাকালীন নারীশক্তি।

সেইসঙ্গে মন্ডপে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পরিযায়ী শ্রমিক দের আত্মকথা । তাই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিশ্ব বাংলার বিশেষ সম্মান করোনা সচেতনতা জন্য জেলার প্রথম পুরস্কার পেয়েছে রঘুনাথপুর সার্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটি।ওই পুজো কমিটি আদালত ও রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পূজার অনুষ্ঠান আয়োজন করে।


ওই পুজো কমিটির সদস্যরা বলেন প্রতিদিন পূজামণ্ডপ স্যানিটাইজার করা হয়, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সপ্তমী থেকে দশমীর দিন পর্যন্ত সমস্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই পুজো কমিটির পক্ষ থেকে মণ্ডপে প্রতিমা দর্শন করতে আসা প্রত্যেকের হাতেই স্যানিটাইজার দিয়ে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে যাদের মাস্ক নেই তাদের হাতে মাস্ক তুলে দেওয়া হয়।

এছাড়াও লাগাতার পুজো মণ্ডপে মাইক এর মাধ্যমে করোনা নিয়ে সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়। এক অভিনব পদ্ধতি ছিল এবার পূজা কমিটির উদ্যোক্তাদের মধ্যে। তাই পূজামণ্ডপে লকডাউন পরিস্থিতিতে পরিযায়ী শ্রমিক দের আত্মকথা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ।প্রতিমা করা হয়েছে সম্পূর্ণরূপে আলাদা মায়ের হাতে কোন অস্ত্র নেই রয়েছে সে সমস্ত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।

সেইসঙ্গে অসুরের জায়গায় রাখা হয়েছে করোনার ছবি যা দেখতে বহু মানুষের ইচ্ছা থাকলেও করোনার জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বেশি মানুষ ভিড় করতে পারেনি। পুজো কমিটির প্রতিটি সদস্য যথেষ্ট সচেতন তাই করোনার কথা মাথায় রেখেই আদালতে ও রাজ্য সরকারের কথা কে মান্যতা দিয়ে তারা দর্শকদের প্রতিমা দর্শন করার জন্য ব্যবস্থা করে দেয় ।

এককথায় অভিনব ঝাড়গ্রাম জেলার মধ্যে অন্যতম এই পুজো কমিটির পুজো। করোনা পরিস্থিতিতে নার্স ডাক্তার পুলিশ সহ করোনা যোদ্ধারা কিভাবে নিজের জীবন বিপন্ন করে করোনা রোগীদের চিকিৎসা করছে তা তারা তুলে ধরেছেন এবং এ ক্ষেত্রে নারীদের অবদান কম নয় তাই করোনাকালীন নারীশক্তির থিম তারা করেছে । সেই সঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকেরা যেভাবে পায়ে হেঁটে অসহায় ভাবে বাড়ি ফিরেছেন তাদের সেই পরিস্থিতির কথা বাস্তবে ফুটিয়ে তুলেছে যা এককথায় বলা যায় অভিনব উদ্যোগ।

তাই করোনা সচেতনতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিশ্ব বাংলার জেলার সেরা পুরস্কার জিতে নিয়েছে রঘুনাথপুর সার্বজনীন পূজা কমিটি। পুজো কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে সারা বছর ধরে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক অনুষ্ঠানের কাজ করা হয়। করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে থেকে অসহায় মানুষের সেবা তারা করেছেন, লকডাউনের সময় পরিযায়ী শ্রমিক ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

আগামী দিনেও তাদের ক্লাব অসহায় মানুষের পাশে থেকে সেবা করবে বলে ক্লাবের উদ্যোক্তারা জানান।

Related Articles

Back to top button
Close