fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বাংলার মানুষদের সীমান্ত পারাপারে বাধা সৃষ্টি করছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ, অভিযোগ করে ক্ষোভ প্রকাশ তৃণমূল নেতার

শুভেন্দু বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের রুপনারায়নপুর সংলগ্ন বাংলা – ঝাড়খন্ড সীমান্তে সাধারণ মানুষদের যাতায়াতে ঝাড়খন্ড সরকারের পুলিশ ও প্রশাসনের একরোখা আচরণে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ। রূপনারায়ণপুর চেকপোস্ট সংলগ্ন ঝাড়খন্ড পুলিশের চেকপোস্ট ও হাসিপাহাড়ি রেল টানেলের কাছে ঝাড়খন্ড পুলিশের আউটপোস্টে বাংলার মানুষদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশ ও নিয়ম মতো ঝাড়খন্ড রাজ্য থেকে বাংলায় মানুষেরা যখন ঢুকছেন তখন তাদের সামান্য পরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাংলা থেকে যখন ঝাড়খন্ডে কেউ যেতে চাইছেন তখন কোনভাবেই তাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ীরা। এমনকি তাদেরকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করছেন। গোটা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভের সঙ্গে অভিযোগ করেছেন সালানপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বিজয় সিং।

তিনি বলেন, বুধবার বাংলা থেকে যথাযথভাবে অনুমতি নিয়ে এক ব্যক্তি মিহিজাম যাওয়ার জন্য সীমান্তে আসেন। সেই সময় হাসিপাহাড়িতে ঝাড়খন্ড পুলিশের হাতে তাকে আক্রান্ত হতে হয়। ঐ ব্যক্তি পরিচয়পত্র ও গাড়ির কাগজ দেখালেও ঝাড়খণ্ড পুলিশ তাকে শারীরিক ভাবে নিগ্রহ করে। ঐ ব্যক্তিকে মিহিজাম যেতে না দিয়ে তাকে ঝাড়খণ্ড পুলিশ ফেরত পাঠিয়ে দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে বিজয় সিং আরো বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে একজন রোগী পুলিশের অনুমতি নিয়ে ঝাড়খন্ডে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছিলেন। কিন্তু তারও গাড়ি ঝাড়খন্ড চেকপোষ্টে আটকে দেওয়া হয় ও তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। বিজয়বাবু গোটা বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ঝাড়খন্ড সরকারের উচ্চপদস্থ এক আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঝাড়খন্ড পুলিশের এই ধরনের আচরণের প্রতিবাদ জানান।

আরও পড়ুন: লকডাউনে চরম আর্থিক সংকট, জেলাশাসককে স্মারকলিপি পশ্চিম বর্ধমান জেলা ডেকোরেটার্স সমন্বয় সমিতির

বিজয়বাবু বলেন, জরুরি প্রয়োজনে, রোগী ও যারা যথাযথ অনুমোদন নিয়ে যাচ্ছেন তাদের ছেড়ে দিতে হবে। এছাড়াও যারা নিত্যদিন নানা প্রয়োজনে সীমানা পারাপার করছেন তাদের কোন ভাবেই আটকানো উচিত নয়। বিশেষ করে যেখানে কেন্দ্র সরকার এক রাজ্যে থেকে অন্য এক রাজ্য যাওয়ার ক্ষেত্রে কোন বাধা রাখেনি। সেখানে ঝাড়খন্ড পুলিশের মিহিজাম সীমান্তে এহেন আচরণ সাধারণ মানুষদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরো বলেন, ই- পাস ইস্যু করার বিষয়টিও এখন আর নেই। কিন্তু ঝাড়খন্ড পুলিশ ই-পাস দেখতে চাইছে। যা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না । ওরা করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আটকাতে থার্মাল স্ক্রিনিং করুক। কিন্তু অযথা মানুষজনের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে ঝাড়খন্ড পুলিশ বাংলা ও ঝাড়খণ্ডের মানুষদেরই অসুবিধা তৈরি করছে । দু/একদিনের মধ্যে সীমান্ত পারাপার নিয়মিত না হলে বাংলার দিকে অবরোধ করে ঝাড়খণ্ডের দিক থেকে আসা সমস্ত গাড়ি, মানুষদের আটকে দেওয়া হবে বলে তৃনমুল কংগ্রেসের এই নেতা হুঁশিয়ারী দিয়েছেন। এছাড়াও এই পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে ঝাড়খণ্ড পুলিশের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ করবেন বলেও তিনি এদিন ইঙ্গিত দেন। রাজ্যের শাসক দলের এই অভিযোগ নিয়ে ঝাড়খণ্ড পুলিশ ও সরকারের কোন আধিকারিকরা কোন মন্তব্য করতে চাননি। তবে, আসানসোল দূর্গাপুর পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, অভিযোগ শুনেছি। দেখা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button
Close