fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে রাতারাতি কলকাতায় তলব ফিরহাদের, পিকের উপস্থিতিতে কাল বৈঠক

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: মান ভঞ্জনের ধারাবাহিকতা চলছে তৃণমূলে! চিঠি নিয়ে শোরগোলের মধ্যেই জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে ফোন ফিরহাদ হাকিমের। আসানসোলের মুখ্য পুরপ্রসাসককে মঙ্গলবার কলকাতায় বৈঠকে আমন্ত্রণ জানালেন তিনি। জানা গিয়েছে ওই বৈঠকে হাজির থাকবেন তৃণমূলের ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরও। বিধানসভা ভোটের আগে জিতেন্দ্রর গলায় বিস্ফোরক সুরে, বাড়ছে জল্পনা। তাঁকে চিঠি পাঠানো অত্যন্ত খারাপ হয়েছে বলে মনে করছেন ফিরহাদ হাকিম । তার পাল্টা জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন,’লোকসভা ভোটের পর বিজেপি যখন একের পর এক পার্টি অফিস দখল করছিল, তখন তো ববি হাকিমকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমি ছিলাম।’

জিতেন্দ্র জানিয়েছেন, ক্যামাক স্ট্রিটের একটি অফিসে ডাকা হয়েছে তাঁকে। কালকের বৈঠকে থাকার কথা অভিষেক, পিকে, ফিরাদ হাকিমদের। সোমবার সকাল থেকেই পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে লেখা একটি চিঠি নিয়ে বাংলার রাজনীতি সরগরম। চিঠিতে জিতেন্দ্র লিখেছেন, কেন্দ্রের স্মার্ট সিটি যোজনার আওতায় আসানসোলের ২ হাজার কোটি টাকা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্রেফ রাজনৈতিক কারণে ওই টাকা নিতে দেওয়া হয়নি। বলা হয়েছিল, ওই টাকা রাজ্য দেবে। কিন্তু রাজ্য তা দেয়নি। তার ফলে বঞ্চনা হয়েছে আসানসোলের সঙ্গে। আসানসোল, কুলটি, জামুরিয়া, রানিগঞ্জের বহু রাস্তা খারাপ। কিন্তু আপনার সরকার সেগুলির জন্য কোনও প্রকল্পই অনুমোদন করেনি।

জিতেন্দ্র তিওয়ারি শুধুমাত্র পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যানই নন। তিনি পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক ও জেলা তৃণমূল সভাপতি। তাঁর চিঠির পিছনে বিজেপির হাত আছে বলেই মনে করছেন পুরমন্ত্রী। ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘আমরা কোনটা পারব কোনটা পারব না। সেটা আমার সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। চিঠি দেওয়া অত্যন্ত খারাপ। আমার সঙ্গে কথা বলতে পারতেন। জিতেন আমার ছোট ভাই। আমাদের দলের সৈনিক। বিজেপির কেউ কেউ এসে ভুল বোঝাচ্ছে। এগুলি নিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বললে সমাধান হবে।’

আরও পড়ুন: রাজ্যে আইন শৃঙ্খলার অবনতি, নিরাপত্তা বাড়লো কৈলাসের

মঙ্গলবার ‘সমাধান বৈঠকে’র আগে ফিরহাদকে নিশানা করেছেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। তাঁর কথায়,’আমি যদি ববি হাকিমকে বলি, উনি যা করছেন ওই কী নাম পাকিস্তানের ইমরান খানের পার্টির সঙ্গে কথা বলে আমাকে বলছেন। এরকম হালকা কথা কেউ বলে! লোকসভা ভোটের পর বিজেপি যখন পার্টি একের পর অফিস দখল করছিল তখন তো ববি হাকিমকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমি ছিলাম। বিজেপি মেরে ঘর ঢুকিয়ে দিয়েছিল, তখন আমি ছিলাম।’

চিঠি ফাঁসে ঘুরিয়ে ফিরহাদকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। বলেন,’এটা প্রকাশ করা না হলে কোনও সেলের কাছে যেত না। এটা ববি হাকিমের বুক সেল্ফের কাছে রাখা উচিত ছিল। অন্য সেলের কাছে যাবে কেন?’ তবে আগামিকালের বৈঠকে তিনি থাকবেন বলে জানিয়েছেন।

বিজেপির দাবি, এতদিন যে অভিযোগ তাঁরা জানিয়ে আসছিলেন তা মেনে নিয়েছেন জিতেন তিওয়ারি। এজন্য জিতেন তিওয়ারিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন আসানসোলের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়।

 

Related Articles

Back to top button
Close