fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

৮ বিলিয়নের অস্ত্রের অর্ডার! সাংবাদিক খাসোগি হত্যায় সৌদি যুবরাজকে রক্ষা করেন ট্রাম্প: রেইজ

ওয়াশিংটন, (সংবাদ সংস্থা): সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে রক্ষার জন্য ত্রাতা হিসেবে হাজির হয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন লেখক বব উডওয়ার্ডকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তা লিপিবদ্ধ করেছেন তার প্রকাশিত বই ‘রেইজ’ এ।

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর বব উডওয়ার্ডের লেখা বইটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। যেখানে খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি যুবরাজের ভূমিকা ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের নেয়া পদক্ষেপের ব্যাপারে নতুন এ তথ্য তুলে ধরেছেন বব উডওয়ার্ড। জানা যাচ্ছে, সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বড়াই করে বলেছেন, “২০১৮ সালের অক্টোবরে জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ থেকে রক্ষা করেছিলাম আমি। আমি তাকে কংগ্রেসের ধরাছোয়ার বাইরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। আমি তাদের (কংগ্রেস) থামাতে সক্ষম হয়েছিলাম।”

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের প্রাক্তন কলামিস্ট ও রাজপরিবারের কট্টর সমালোচক জামাল খাশোগি যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা-নির্বাসনে ছিলেন। ২০১৮ সালের অক্টোবরে প্রেমিকা হাতিস সেনগিজকে বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি আরবের কনস্যুলেটে যান তিনি। ৫৯ বছর বয়সী এই সাংবাদিক সৌদি কনস্যুলেটে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে বিশ্বজুড়ে সৌদি আরবের সমালোচনা শুরু হয়। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে কনস্যুলেটের ভেতরে খাশোগি হাতাহাতিতে খুন হয়েছেন বলে স্বীকার করে সৌদি আরব। এরপর খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করে তুরস্ক। তবে, উডওয়ার্ডকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, “তিনি বিশ্বাস করেন না, সৌদি যুবরাজ খাশোগিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন।” কিন্তু, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশের গোয়েন্দা সংস্থা এ বিষয়ে একমত, এই হত্যাকাণ্ড যুবরাজের নির্দেশে সম্পন্ন হয়েছে। এমনকি, খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলের আইনপ্রণেতারা সৌদি আরবের তীব্র সমালোচনা করেছেন। কিন্তু, সেই সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব পাশ কাটিয়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কাছে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য উচ্চ-প্রযুক্তির অস্ত্র বিক্রি করেন। শুধু তাই নয়, ইয়েমেনে সৌদি ও আমিরশাহি নেতৃত্বাধীন যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সমর্থনের অবসানে আনা ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’-এর প্রস্তাবনাও আটকে দেন তিনি।

Related Articles

Back to top button
Close