fbpx
কলকাতাহেডলাইন

দেশের অখন্ডতা রক্ষায় ইন্দিরার ব্লুস্টার বড় অবদান জয়দীপ মুখোপাধ্যায়

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায় কলকাতা: দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর অপারেশন ব্লু স্টার গুরুত্ব পূর্ণ পদক্ষেপ। চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন অল ইন্ডিয়া লিগ্যাল এইড ফোরামের সাধারণ সম্পাদক তথা সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবি জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। শুক্রবার এক সক্ষাৎকারে তিনি তথ্য সহযোগে আরও দাবি করেন, ‘অপারেশন ব্লু স্টারের পিছনে ব্রিটিশ সরকারের কোন ভূমিকা ছিল না।’ বিস্ফোরক মন্তব্য করে জয়দীপবাবু বলেন, ‘৩৬ বছর পর অপারেশন ব্লু স্টারকে খুঁচিয়ে তুলে শিখ সম্প্রদায়কে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা চলছে।’

উল্লেখ্য ১৯৪৮ সালের পাঞ্জাবের স্বর্ণমন্দিরের খালিস্তান সন্ত্রাসবাদীদের নির্মূল করতে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর অপারেশন ব্লুস্টার চালিয়েছিলেন। তারপর থেকে বছরই প্রায় এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ২০২০ সালেও তার অন্যথা হয়নি। গত ৫ জুন ফের অপারেশন ব্লু স্টারের ৩৬ তম বার্ষিকী উপলক্ষে ব্রিটিশ লেবার পার্টির শিখ সাংসদ তম্মনজিত সিং ধেশি ব্রিটিশ সংসদে দাঁড়িয়ে অপারেশন ব্লু স্টারের পেছনে মার্গারেট থ্যাচারের নেতৃত্বাধীন তদানীন্তন ব্রিটিশ সরকারের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের দাবি জানান। এই শিখ সাংসদ ব্রিটিশ হাউস অব কমেন্সে দাড়িয়ে বলেন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী পাঞ্জাবের অমৃতসরের সবচেয়ে পবিত্র স্থান স্বর্ণমন্দির আক্রমণ করার ঘৃণ্য নির্দেশ জারি করেছিলেন।

এ প্রসঙ্গে জয়দীপ বাবু বলেন, ‘এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। সে সময় ইন্দিরা গান্ধী যা করেছিলেন পুরটাই দেশের অখণ্ডতার স্বার্থে করছিলেন। এখানে থ্যাচারের কোন যোগ সূত্র ছিল না। সাংবাদিক মিলারের তদন্তের আবেদনে গোপন ফাইল ডিক্লসিফায়েড করা হয়েছিল। সেখানে প্রমাণিত মার্গারেট থ্যাচারের কোন যোগসূত্র ছিল না।’

শিখ সাংসদ আরও অভিযোগ করেন, ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে স্বর্ণমন্দিরে অপারেশন ব্লু স্টারের নামে সেনা অভিযান চালিয়ে গণহত্যা করা হয়েছিল। লাইব্রেরী পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল শিখদের পবিত্রতম ধর্মস্থানের। তার দাবি শিখ সম্প্রদায় এই ঘৃণ্য অভিযানকে কোনদিন ক্ষমা করেনি। শিখ সাংসদ আরও বলেন শিখ সম্প্রদায়ের ওপর অপারেশন ব্লুস্টার সংগঠিত করার পেছনে মার্গারেট থ্যাচারের নেতৃত্বাধীন সরকারের একটা ভূমিকা ছিল যা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘ইন্দিরা গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন যে তিনি দেশকে বাইরের এবং অভ্যন্তরীণ আগ্রাসন থেকে বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

আরও পড়ুন: মোদিজির গাইডলাইন মানলে সুপ্রিম কোর্টের কাছে দিদির বাংলাকে ভৎসিত হতে হতো না: সরব দিলীপ, রাহুল

পাঞ্জাব রাজ্য যেখানে পাকিস্তানের মদতে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সন্ত্রাসের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করেছিল, যাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন স্বাধীন খালিস্তান গঠন করা। ভারতের কোন প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের কাজকে সমর্থন করতে পারে না। তাই ইন্দিরাগান্ধী ভারতের অখন্ডতা কায়েম রাখতে স্বর্ণমন্দিরের অপারেশন ব্লুস্টার করে পবিত্র মন্দির চত্বরে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করা ছাড়া অন্য কোন উপায় ছিলোনা। এর ফলে শিখদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগেছিল। তা ঠিক কিন্তু ভীন্দ্রেওয়ালের নেতৃত্বাধীন বিচ্ছিন্নতাবাদীরা স্বর্ণমন্দিরে লুকিয়ে থেকে মন্দিরকে কলুষিত করেছিল। ইন্দিরা গান্ধী দেশের এবং পাঞ্জাবের স্বার্থে অপারেশন ব্লু স্টারের মতো দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। আর তাই আজও দেশের অখন্ডতা বজায় রয়েছে।

জয়দীপ বাবু শিখ সংসদের সমালোচনা করে আরও বলেন, ‘উনি মার্গারেট থ্যাচারের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের দাবি করেছেন। কিন্তু উনি জানেন না অপারেশন ব্লুস্টার সংক্রান্ত কিছু ফাইল ব্রিটিশ সরকার ক্লাসিফাইড গোপন করে রাখলেও ২০১৮ সালে সাংবাদিক মিলরের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত সর্বজনীন করার নির্দেশ দেয়। অর্থাৎ অপারেশন ব্লু স্টারে তথ্য সর্বজনীন করে দেওয়া হয়। সেই ফাইল থেকে দুটি মাত্র চিঠি উদ্ধার হয়। একটিতে

অপারেশন ব্লু স্টারে পেছনে সরকারের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে প্রমাণ হয় ব্রিটিশ সরকার একজন এসএএস অফিসারকে ভারতে পাঠিয়েছিলেন অপারেশন ব্লু স্টারে পরিকল্পনা স্বার্থে। যিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সাহায্য করতে এসেছিলেন। আরেকটি চিঠি পাওয়া যায় যেখানে তদানীন্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে পূর্ণ আস্থা ও অখণ্ডতাকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। এছাড়া আর কোনো ভূমিকা ছিল না মার্গারেট থ্যাচার সরকারের।’
এ প্রসঙ্গে জয়দীপ আরো বলেন, ‘পরবর্তীকালে যখন ডেভিড ক্যামেরন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হন তখন পুরো ঘটনার পূনর্বিবেচনার জন্য হেউড রিভিউ কমিটি গঠন করেন। সেই কমিটিও রিপোর্ট দেয় শুধু একবারই ব্রিটিশ অফিসারকে অপারেশন ব্লু স্টারের আগে ভারতে পাঠানো হয়েছিল। তাছাড়া অপারেশন ব্লু স্টারে পিছনে ব্রিটিশ সরকারের কোন ভূমিকা ছিল না। অপারেশন ব্লু স্টারের জন্য অন্য্ কোনো রকম প্রশিক্ষণ সামরিক সহায়তা বা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেনি বৃটিশ সরকার।’

Related Articles

Back to top button
Close