fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

‘রাম মন্দিরের ভূমি পুজোর দিন ইচ্ছাকৃতভাবে লকডাউন করে মমতা ব্যানার্জি হিন্দু বিরোধী মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন’

ইন্দ্রাণী দাশগুপ্ত, নয়াদিল্লি: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বুথ স্তর পর্যন্ত বিপুল জনসমর্থন অর্জন করার লক্ষে সব বুথে হোয়্যাটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করে ১৫ দিন ছাড়া ছাড়া কেন্দ্র-রাজ্য এবং আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে নয়া ‘কনটেন্ট’ – আপলোড করে রাজ্য BJP-কে ‘টাস্ক’ দিলেন জেপি নাড্ডা।

একই সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে বিশ্বভারতীতে তৃণমূল তান্ডবকে কটাক্ষ করে নাড্ডা বলেন, বিশ্বভারতীতে যা হয়েছে তাতে চমকে উঠবে রবি ঠাকুরের আত্মাও। তিনি বিশ্বভারতী কাণ্ডে তৃণমূলকে খোঁচা দিয়ে বলেন বাংলার শিক্ষিত সংস্কৃতিবান মানুষ এই ঘটনার জন্য কখনোই ক্ষমা করবেন না। এরপরই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোপ দেগে নাড্ডা বলেন রাম মন্দিরের ভূমি পুজোর দিন ইচ্ছাকৃতভাবে লকডাউন করে মমতা ব্যানার্জি হিন্দু বিরোধী মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখে বিজেপির নতুন রাজ্য কমিটির প্রথম বৈঠকে মূলত ২০২১- এ পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করে ৫০ শতাংশের বেশি জনসমর্থন নিয়ে বাংলায় পদ্ম ফুল ফোটানোর টার্গেট বেঁধে দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। একইসাথে মোদিজীর আত্মনির্ভর এবং উন্নত ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া সকল প্রকল্প গুলির কিভাবে রাজ্য নেতারা সেগুলি সর্বসমক্ষে তুলে ধরবেন তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন নাড্ডা।

বৃহস্পতিবার বসে বিজেপির নবনির্বাচিত রাজ্য কমিটির প্রথম বৈঠক। যেখানে ভার্চুয়াল বৈঠক বক্তব্য রাখেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। প্রথম থেকেই এই দিন মমতা সরকারকে আক্রমণের রাস্তায় হাঁটেন নাডা। সভার শুরুতে নেতাজি রবীন্দ্রনাথ বিবেকানন্দ প্রমূখ বাঙালি মনীষীদের স্মরণ করেন নাড্ডা বলেন সোনার বাংলা পুনরায় গড়ে তুলতে পারে একমাত্র বিজেপি।

তিনি আগামী ২০২১ এর নির্বাচনে রাজ্যের তৃণমূল সরকার উৎখাতের ডাক দিয়ে বলেন যে রাজ্যে বিরোধীদল করলে নেতাকর্মীদের খুন হতে হয় সেই রাজ্যে গণতন্ত্র নামের কোন শব্দ নেই । ১০০-র বেশি বিজেপি নেতা কর্মী এখনো পর্যন্ত খুন হয়ে গেছেন অথচ কেউ একটা শব্দও উল্লেখ করেন না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন মোদিজীর রাজত্বে যখন সারা ভারতবর্ষের গরীব মানুষেরা বিভিন্ন যোজনায় এ টাকা পাচ্ছে তখন শুধুমাত্র ভোটের রাজনীতি করার কারণেই মমতা প্রশাসন বঞ্চিত করছেন গরিব বঙ্গবাসী
কে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান যোজনা ১৭ হাজার কৃষক ইতিমধ্যে দু’বার ২০০০ টাকা করে সরকারের তরফ থেকে অনুদান পেয়েছেন ।কিন্তু তালিকা না পাঠানোর কারণে বাংলা কৃষকরা আজ বঞ্চিত ।

আয়ুষ্মান ভারত যোজনায় গরিব , রোজ আনা রোজ খাওয়া ,মধ্যবিত্ত মানুষদের জন্য যে ৫ লক্ষ টাকা করে স্বাস্থ্য বীমার ব্যবস্থা করেছে প্রধানমন্ত্রী তার থেকেও বঞ্চিত বঙ্গবাসী ।করোনা কালে মৃত করোনা যোদ্ধারা জন্য যে ৫০ লক্ষ টাকা করে এককালীন অনুদান ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বাংলার স্বাস্থ্যকর্মী পুলিশকর্মী সহ সকল করোনা করোনা যোদ্ধারা। একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর গরিব কল্যাণ যোজনা পরিযায়ীয শ্রমিকদের জন্য যে টাকা বরাদ্দ আছে তার সুযোগ বাংলার হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক না পাচ্ছছে না শুধুমাত্র মমতা প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে বলে এই দিন তোপ দাগেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি।

তিনি আরো বলেন, পরিযায়ী শ্রমিকরা যখন আমার অসহায় হয়ে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছিলেন তখন এই মমতা সরকারি মোদিজীর পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য পাঠানো স্পেশাল ট্রেন কে করণা এক্সপ্রেস বলে কটাক্ষ করেছিলেন। তিনি বৈঠকে উপস্থিত সকল রাজ্য নেতৃত্বকে সুস্পষ্ট বার্তা দেন কিভাবে রাজ্যবাসীর কাছে মোদিজীর গঠনমূলক কর্মসূচি গুলি কে তুলে ধরতে হবে ।

তিনি বলেন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিকে নিজের নাম দিয়ে চালাচ্ছে অথচ পশ্চিমবঙ্গের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বহু কাজ করছে। যেমন পশ্চিমবঙ্গ কে অল ইন্ডিয়া মেডিকেল সাইন্স হসপিটাল দেওয়া চিত্তরঞ্জন হসপিটাল থেকে 600 কোটি টাকার অনুদান দেওয়া উজ্জ্বলা যোজনা মাধ্যমে ৭০ হাজার পরিবারে গ্যাসের কানেকশন পৌঁছে দেওয়া , আমফান ঝড়ের সময় রাতারাতি এক হাজার কোটি টাকা দেওয়া, স্বচ্ছ ভারত মিশন প্রত্যেকের বাড়িতে শৌচাগার তৈরি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় প্রত্যেকের জন্য ঘর তৈরি এই সমস্ত প্রকল্পগুলিকে বঙ্গবাসী সামনে তুলে ধরার নির্দেশ দেন জেপি নাড্ডা।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাংলা এই মুহূর্তে যে মারাত্মক অবস্থা চলছে সেটা আমরা বিশ্বভারতী করুন পরিণতি দেখে বুঝতে পারি। বিশ্বভারতীতে যেভাবে তৃণমূলের নেতারা ভাঙচুর চালিয়েছে তার তীব্র নিন্দা করে না বলেন এই অবস্থা দেখে রবীন্দ্রনাথের আতমা ও কাঁদবে। তিনি বলেন বাংলার শিক্ষিত সংস্কৃতিবান মানুষ এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করবেন এবং ক্ষমা করবেন না বলেই আমার বিশ্বাস।

তিনি আরো বলেন, তৃণমূল মানে কাটমানি তৃণমূল মানির সরকার। নারোদা স্ট্রিং অপারেশনে আমরা দেখেছি কিভাবে তৃণমূল নেতারা টাকা নিচ্ছেন। করোনা আমফানের সময় তৃণমূলের তুমুল বিরোধিতা সত্ত্বেও যখন বিজেপি কর্মীরা লোকের বাড়ি বাড়ি খাবার রেশন সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে তখন আমরা দেখেছি তৃণমূল কর্মীদের বেনজির রেশন দুর্নীতি । এমনকি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে পর্যন্ত কাঠ মানি ফেরত দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলতে হয়েছে দলীয় নেতাদের।

তৃণমূলের এই অপশাসন এবং দুর্নীতিতে বাংলার মানুষ বিরক্ত বলে বৃহস্পতিবার মন্তব্য করেন সর্বভারতীয় সভাপতি । তিনি বলেন, ২০২১ সালে যে কোন রাজ্যে বিজেপির ভোট ছিল ২% সেখানে ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০%। তিনি দলের সকল রাজ্য কমিটির নেতাদের নির্দেশ দেন প্রত্যেক বুথে বুথে জনসংযোগ বাড়ানোর জন্য তিনি বলেন নেতাদের গ্রামে গ্রামে যেতে হবে বুথে বুথে ঘুরতে হবে। এক -একজন রাজ্য কমিটির নেতা কে কমপক্ষে পাঁচ থেকে সাতটি মন্ডলের দায়িত্ব নিতে হবে ।

প্রত্যেকটি বুথে একটি করে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করতে হবে। যেখানে প্রতি ১৫ দিন অন্তর মোদিজীর উন্নয়নমূলক কর্মসূচী রাজ্য বিজেপির কর্মসূচির সাথে সাথে আঞ্চলিক সমস্যাগুলো তুলে ধরতে হবে । মূলত কেন্দ্র-রাজ্য এবং আঞ্চলিক এই তিনটে ভাগের কনটেন্ট বুধ ভিত্তিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ গুলিতে নিয়মিত আপলোড নির্দেশ দেন জেপি নাড্ডা । একই সঙ্গে তিনি রাজ্য নেতৃত্ব কে উদ্বুদ্ধ করে দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ৫০ শতাংশের বেশি জনসমর্থন অর্জন করার নির্দেশ এইদিন সুস্পষ্ট করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা।

Related Articles

Back to top button
Close