fbpx
অন্যান্যকলকাতাহেডলাইন

পরিস্থিতির বিচার করেই লাহাবাড়ির পুজো

সুস্মেলী দত্ত: অনেকে মনে করেন উত্তর কলকাতার লাহা পরিবারের দুর্গাপুজো দীর্ঘ সাড়ে তিনশো বছরের প্রাচীন। বড়সুল নিবাসী বনমালী লাহা এই পুজোর প্রবর্তক। কেউ বলেন, মহানন্দ লাহা কর্জনা নগরে প্রথমে এই পুজোর প্রবর্তন করেছিলেন। সময় কাল নিয়ে নানান মতভেদ থাকায় যেকোনও সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সেভাবে সম্ভব হয়নি। তবে প্রায় আনুমানিক আড়াইশো বছর আগে যে মধুমঙ্গল লাহা চুঁচুড়ায় একচাল চিত্রে দুর্গাপুজো করতেন তার কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এরপর কলকাতায় এসে দুর্গাচরণ, জয় গোবিন্দ, ভগবতীচরণ, দেবীচরণ, রামচরণ প্রথম জ্যাকেরিয়া স্ট্রিটের ওই ভাড়াবাড়িতে পুজো আরম্ভ করেন আনুমানিক ২০০ বছর আগে। পরবর্তীকালে ঠনঠনি যাতের ১৮৫৭ সালে মহারাজা দুর্গাচরণ শ্রীকৃল্লশ্যামাচরণও ভগবতী চরণ লাহা বেচু চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসভবন কিনে দুর্গাপুজো আরম্ভ করেন।

বৈষ্ণম মতে একচালার এই পুজোর বিশেষত্ব হল সন্তান সন্ততি পরিবেষিত হয়ে মা বসেন শিবের কোলে। সামনে থাকেন বংশের কুলদেবী অষ্টধাতু নির্মিত জয় জয় মা সিংহবাহিনী (দেবী দুর্গার অন্যরূপ)|

বংশের তিন কর্তার উত্তর পুরুষেরা পালানুক্রমিকভাবে এই পুজো অত্যন্ত নিষ্ঠা সহকারে করে থাকে। যেন এই বছরে মেজো কর্তার উত্তর পুরুষ অমর লাহার পালা পড়েছে।

আরও পড়ুন:গেরুয়া ঝড় রুখতে রাম-গণেশ বিরোধিতা……. মমতাকে আক্রমণ বঙ্গ বিজেপির

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে পুজো অন্যান্যবারের মতই করা হবে কিন্তু মানুষের আনাগোনা সীমায়িত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া গেছে। আইন বিধিমেনে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখেই ভক্তরা মায়ের দর্শন করতে পারবেন। তবে প্রসাদ হাতে দেওয়ার পরিবর্তে বাক্সের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে তবে সেটা তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি বিচার করে। প্রধান ফটকে প্রবেশ পথে তাপনির্ধারক যন্ত্র ও হ্যান্ডস্যানিটাইজারের ব্যবস্থা থাকবে। রাখা হবে মাস্ক। পুজো প্রাঙ্গণে ঢুকলে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। কোনওভাবেই ভিড় করা যাবে না। প্রয়োজনে লাইন দিয়ে পুজো প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে হবে। এসবই বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close