fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

বুধবার যুগশঙ্খ সংবাদপত্রের উল্লেখযোগ্য খবরগুলো পড়ুন (দ্বিতীয় অংশ)

পরিযায়ীদের ফেরাতে গড়িমসি করছেন কেন! মমতাকে রাহুল

রক্তিম দাশ, কলকাতা, ১৯ মে: ‘মুখ্যমন্ত্রী ইচ্ছা করেই পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় ফিরিয়ে আনতে গড়িমসি করছেন।’ মঙ্গলবার এই বিষ্ফারক অভিযোগ করেন রাহুল সিনহা।

বিজেপির এই কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘রাজ্য সরকার পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা গোপন করছেন। এর সঙ্গে রয়েছে ভিনরাজ্যে আটকে পড়া বাংলার পর্যটক, রোগী আর অফিসের কাজে যাওয়া মানুষরা। সবমিলিয়ে সংখ্যাটা ১৮ লাখ হবে। প্রথম দু’টি ট্রেনে তো পরিয়ায়ীদের নামে তীর্থযাত্রীরা এলেন। ১ মাস ধরে ২৩৫টি ট্রেনে কত শ্রমিক ফিরবেন? আসলে উনি জানেন আগামী মাসে সব স্বাভাবিক হবে। তাই দেরি করছেন। রাজ্যের পয়সা নেই রেল ভাড়া দেওয়ার। পরিযায়ীরা যে টাকা পাঠান,  তাঁরা চলে আসলে রাজ্যের ভাড়ারে টান পড়বে। আবার এখানে ফিরে আসলে কাজ চাইবেন। এমনিতেই বেকার তালিকায় বাংলা একনম্বর। তাই এই ছক করা করা হয়েছে।’

করোনা মোকাবিলায় রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলেও এদিন আরও একবার অভিযোগ করেন রাহুল সিনহা। বলেন, ‘দিদি এখন বাংলার মানুষের জন্য হাত ধোয়ার ক্লাস নিচ্ছেন!’ তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে বসে সাংবাদিক সম্মেলন করছেন। সেখানে করোনা মোকাবিলার ব্যর্থতা ঢাকতে বাংলার মানুষকে কীভাবে মাছ কাটবেন, তরকারি ধোবেন এসব বলছেন। সব দেখে শুনে মনে হচ্ছে উনি যেন হাত ধোয়ার ক্লাস নিচ্ছেন। বলছেন, কত করবে, একে করোনা তারওপর এই সাইক্লোন।’ কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে রাহুল বলেন, ‘না করতে পারলে ছেড়ে দিন। আপনি তো স্বেচ্ছায় গদিতে বসেছেন। এখন এত কাজের দোহাই দিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিলেও তো চলবে না। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করুন। করোনার মধ্যে বাঁচার অভ্যেস করুন।’

করোনা নিয়ে রাজ্য সরকারের নয়া নির্দেশে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাহুল। তাঁর দাবি, ‘ফলবাজার, হর্কাস মার্কেট খোলা, জোড়-বিজোড়ের ফরমুলা দিয়ে সংক্রমণ আটকানো যাবে না। আমাদের কাছে সংক্রমণ ঠেকানোর ফরমুলা আছে। মুখ্যমন্ত্রী চাইলে তা জানাতে পারি।’

বাংলায় কার্ফু নয়, মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সমলোচনা করে  রাহুল বলেন, ‘রেড জোনের তিনভাগ তো উনি করেননি। কেন্দ্র সরকার ঠিক করেছে। উনি নিজের নামে চালাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় প্রকল্প যেমন বাংলায় নাম পরিবর্তন হয়ে যায়, সেরকম। তাই কার্ফু শব্দ ঠিক ভালো শোনাচ্ছে না বলে তা বলা হবে না। কিন্তু নিয়ম একই থাকবে।’

এদিন রাহুল সিনহা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আপনার করোনার একনম্বর হাসপাতাল মেডিক্যাল কলেজে নিজে যান। ওখানে যাঁরা ভর্তি আছেন তাঁদের পরিবারের মানুষদের সঙ্গে কথা বলুন। এতদিন তো রাস্তায় অনেক ছক কেটেছেন। গিয়ে দেখুন চিকিৎসার নামে কী চলছে। হাহাকার চলছে। রোগীর পরিবার জানতে পারছেন না, তাঁর রোগী বেঁচে আছেন না মরে গেছেন। খাবার নেই। মৃতদেহ পড়ে আছে। আজও একই দৃশ্য। এরপরেও মুখ্যমন্ত্রী আপনি বলবেন আমরা কিছু বলব না? চুপ করে থাকব? বললে রাজনীতি করা হচ্ছে?’

 

বাসের নামে শুধু ট্রাক্টর, অটো পাঠাচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা

ইন্দ্রাণী দাশগুপ্ত, নিউ দিল্লি: করোনা সংকটকাল পরিযায়ী শ্রমিকদের সাথে ১০০০ টি বাস দেওয়ার নাম করে সস্তার রাজনীতি করলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলে অভিযোগ করছে বিজেপি ।উত্তরপ্রদেশ বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয় শ্রমিক দরদী কংগ্রেস বোঝানোর জন্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে যাওয়ার জন্য যে ১০০০ বাসের নাম্বার পাঠিয়েছেন তার অধিকাংশ অটো এবং ছোট গাড়ির নাম্বার। এমনকি তার মধ্যে বেশ কিছু দু চাকা গাড়ির নাম্বার আছে বলে অভিযোগ করেছে উত্তরপ্রদেশ বিজেপি। যদিও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপিকে সরোজমিনে বাস গুলির পর্যবেক্ষণ করার অনুরোধ করা হয়েছ।

প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদিকা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী পরিযায়ী শ্রমিকদের উত্তর প্রদেশ নিয়ে আসার জন্য কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ১০০০ টি বাসে প্রস্তাব দেয় যোগী সরকার কে। যোগী আদিত্যনাথ করোনা ভাইরাস এর সময় সমস্ত রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বার্থে এই প্রস্তাব মেনে নেন ।এবং সরকারের তরফ থেকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে বাসের নাম্বার এর লিস্ট এবং ড্রাইভার দের নাম্বার দিতে বলা হয় ।ঠিক এখানে থেকে শুরু হয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর । মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য টুইট করে অভিযোগ করেন যে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পাঠানো বাসের লিস্টে আছে অটো এবং মোটরসাইকেলের নাম্বার। তারা অভিযোগ করেন পায়ের তলার মাটি ফিরে পাওয়ার জন্য কংগ্রেস এই মারাত্মক সময়ও পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে রাজনীতি করতে ছাড়ছেনা।

তারা আরও বলেন, যেখানে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক শ-শ কিলোমিটার হেঁটে বাড়ি ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন এবং বহু শ্রমিক সেই রাস্তায়ই মারা যাচ্ছেন সেখানে কংগ্রেসের  এইধরণের কাজ কখনোই মেনে নেবে না উত্তর প্রদেশ সরকার । তারা তীব্র ভাষায় এর বিরোধিতা করে  এবং  কেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী  এই ধরনের  কাজ করলেন  তার জবাব চাওয়া হয়  বিজেপির পক্ষ থেকে ।যদিও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার কে। তারা বলেছে উত্তরপ্রদেশের বর্ডারে ১০০০ বাস দাঁড়িয়ে আছে সরকার চাইলে সরোজমিনে তদন্ত করে দেখতে পারে।

পুরো সংবাদপত্র পড়তে সাবস্ক্রাইব করুন epaper.jugasankha.in

Related Articles

Back to top button
Close