fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

বুধবার যুগশঙ্খ সংবাদপত্রের উল্লেখযোগ্য খবরগুলো পড়ুন (প্রথম অংশ)

আমফানের মোকাবিলায় রাজ্যের পাশে কেন্দ্র
সংঘাত ভুলে মমতাকে ফোন শাহর

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি, কলকাতা: আমফান মোকাবিলায়  রাজ্যের পাশে থাকার বার্তা দিল কেন্দ্র। সংঘাত ভুলে নিজেই মমতাকে ফোন করে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিলেন অমিত শাহ।

নবান্ন সূত্রে খবর, মঙ্গলবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। ফলে আমফানকে ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের মেঘ আপাতত কাটল। রাজ্যকে না জানিয়ে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় কেন্দ্রের বৈঠক নিয়ে সোমবার নবান্নে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ক্ষোভের প্রশমন ঘটালেন স্বয়ং অমিত শাহ।

করোনার সংকটের মধ্যেই ঘূর্ণিঝড় আমফান নিয়ে চিন্তিত রাজ্য প্রশাসন। এরই মাঝে সোমবার রাজ্য প্রশাসনকে না জানিয়ে কেন্দ্রের বৈঠক নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, প্রোটোকল না মেনেই কেন্দ্র বৈঠক করেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা, আমফান সব একসঙ্গে ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলছে, কত কী দেখব।’ মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশ করা নিয়ে বিরোধীরা মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ লাগেন। এই পরিস্থিতিতেই শান্তির বার্তা দিলেন অমিত শাহ।

প্রসঙ্গত, সপ্তাহখানেক আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীই পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফেরাতে অসহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু এবার সেই তিনিই রাজ্যের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের মধ্যে অশান্তির মেঘ ঘনাবার আগে শান্তিজল ছেটালেন।

আজ বাংলায় প্রবল দুর্যোগের আশঙ্কা, ধেয়ে আসছে ঘূর্ণঝড়, লণ্ডভণ্ড হতে পারে কলকাতা-সহ ৭ জেলা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, ১৯ মে: আশঙ্কাকে সত্যি করে রাজ্যের আরও কাছে চলে এসেছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আমফান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাওয়া খবর অনুযায়ী, আমফান ওড়িশার পারাদ্বীপ থেকে ৪৮০ কিলোমিটার, দিঘা থেকে ৬৩০ কিলোমিটার, বাংলাদেশের খেপুপাড়া থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দূরে। বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যেই সাগরদ্বীপ ও সুন্দরবন অঞ্চলে প্রবল গতিতে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা এই ঘূর্ণিঝড়ের।

স্থলভাগে যখন এই ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়বে ঘূর্ণনের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫৫-১৬০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা হাওয়া অফিসের। কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৈরি প্রশাসন বলে জানিয়েছে নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দুর্যোগে বৃহস্পতিবার সকালের আগে কাউকে বাড়ি থেকে বেরোতে নিষেধ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের নীচু এলাকা থেকে ৩ লক্ষ মানুষকে সরিয়ে আশ্রয় শিবিরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, দিঘা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান  করছে আমফান। তার গতিপথ উত্তর-পূর্ব দিকে। এই গতিপথেই পড়ছে রাজ্যের দিঘা থেকে বাংলাদেশের হাতিয়া দ্বীপ। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে প্রবল ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন আবহবিদরা। আমফানের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সুন্দরবনও। বাদ পড়বে না কলকাতাও। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হতে পারে। সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। তবে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬৫ থেকে ১৭৫ কিলোমিটার থাকবে। সর্বোচ্চ গতিবেগ  ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। দুই ২৪ পরগনায় ৪ থেকে ৫ মিটার পর্যন্ত সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী এলাকায় ৩ থেকে ৪ মিটার পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবই রেডজোন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জ, সাগর, মৌসুমী দ্বীপ, ঘোড়ামারা, বাসন্তী, ক্যানিংয়ে বেশি হতে পারে ক্ষয়ক্ষতি। পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর, খেজুরি, সুতাহাটা, পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন, নারায়ণগড়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির  সম্ভাবনা। সুন্দরবনেও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে আমরা তৈরি। টাস্কফোর্স গড়া হয়েছে। নেতৃত্বে রয়েছেন মুখ্যসচিব। সমস্ত দুর্যোগপ্রবণ জেলার পুলিশ সুপার, জেলাশাসকদের নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে নবান্নে।’

এদিকে রাজ্যের বন্দরগুলিতেও চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কলকাতা বন্দরের সিনিয়র জনসংযোগ আধিকারিক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘বন্দরে নোঙর করে থাকা জাহাজগুলিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে গভীর সমুদ্রে। কলকাতা বন্দরে জাহাজ চলাচল বন্ধ।’ আতঙ্কের প্রহর গোনা শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। অনেকেই মনে করছেন, ২১ বছর আগের ‘১৯৯৯ ওড়িশা সাইক্লোনের’ স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে পারে আমফান।

বিপর্যয় মোকাবিলায় তৈরি নয় রাজ্য! কটাক্ষ দিলীপের

শরণানন্দ দাস, কলকাতা, ১৯ মে: আমফান মোকাবিলায় রাজ্য সরকার আদৌ কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেন দিলীপ ঘোষ। এই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় রাজ্য তেমন ‘সিরিয়াস’ নয় বলেই মনে করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি।

কিন্তু কেন বলছেন এমন কথা? উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আমফান সৃষ্টির শুরুতেই  কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় রাজ্য কতটা তৈরি? ১৫ তারিখের মধ্যে দিল্লিকে তা জানাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার কোনও জবাব দেয়নি। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় নিয়ে রাজ্য কতটা সিরিয়াস ছিল।’

দিলীপ বলেন, ‘বাধ্য হয়েই সোমবার কেন্দ্রীয় বৈঠকে বাংলার রেসিডেন্সিয়াল কমিশনারকে ডাকা হয়। তা নিয়ে অবশ্য দিদির গোঁসা হয়েছে। রাজ্যের জবাবের অপেক্ষায় না থেকে কেন্দ্র ২১টি বিপর্যয় মোকাবিলা দল ইতিমধ্যেই পাঠিয়েছে বাংলা ও ওড়িশায়। অমিতজি নিজে মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।’

রাজ্য বিজেপি সভাপতি আরও বলেন, ‘আজ শুনলাম দিদি নবান্নে দাবি করেছেন ৩ লাখ লোককে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখানেও সংখ্যার গোলমাল। দিদির তো ১ লাখ লোক রাখার জায়গা নেই। কীসের হিসাবে এমন দাবি করেছেন জানি না। ‘তিনি বলেন, ‘দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাজি, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষজির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স হয়েছে। তাঁরা নির্দেশ দিয়েছেন, এই দুর্যোগে মানুষের পাশে থাকতে হবে। সেইমতো আমরা বিজেপি দফতরে কন্ট্রোল রুম খুলছি। হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হচ্ছে। নম্বর টি হল 9727294294।’

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা মুকুল রায়ও বলেছেন, বিজেপি প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে সব ধরণের সহযোগিতা করতে রাজি। তিনি বলেন, ‘রাজ্যের ওপর একটা বড় বিপদ এসেছে। এখন রাজনীতি করার সময় নয়। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে দুর্যোগ মোকাবিলায় রাজ্য বিজেপি কর্মীরা সবরকম সহযোগিতা  করবেন। প্রশাসন সহযোগিতা চাইলে আমরা সহযোগিতা করব।’

পুরো সংবাদপত্র পড়তে সাবস্ক্রাইব করুন epaper.jugasankha.in

Related Articles

Back to top button
Close