fbpx
কলকাতাহেডলাইন

মাছের বাজারের সংক্রমণ এড়াতে এবার এক ফোনেই বাড়িতে মাছ

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: করোনার সংক্রমণ ক্রমশই বাড়ছে এ শহরে, রাজ্যেও। প্রশাসনের পর্যবেক্ষণে মাছের বাজার ও বাজারগুলোয় সংক্রমণ বেশি হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। শনিবারই বন্ধ করে দেওয়া হলো বিক্রমগড় বাজার। করোনা আর লকডাউনের জেরে এমনিতেই মন খারাপ আমবাঙালির। তার উপরে যদি পাত থেকে মাছ উধাও হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয় তাহলেতো মন খারাপ হবেই। এই পরিস্থিতিতে ভরসা দিচ্ছে ‘ মৎস্যমুখ’।

 

শুধু একটা ফোন করতে হবে এই নম্বরে 9051753353, ব্যাস তাহলেই বাড়িতে পৌঁছে যাবে পছন্দের মাছ। শনিবার বিকেলে কথা হচ্ছিল সংস্থার কর্ণধার বুবাই ভট্টাচার্যর সঙ্গে। দীর্ঘ ১২ বছরের হোটেল শিল্পে অভিজ্ঞ মানুষটি বলেন, ‘ দেখুন এই ধরনের অতিমারির সময়ে আমরা গ্রাহকদের কাছে একেবারে স্বাস্থ্য সম্মতভাবে সবধরনের সতর্কতা অবলম্বন করে টাটকা মাছ পৌঁছে দিই। দু’ ধরনের মাছ আমরা সরবরাহ করি। অনেক ক্রেতা বিভিন্ন পদের মাছ চান। যেমন ধরুন কেউ ভেটকি মাছের পাতুরি খেতে চান। আমরা রেসিপি অনুযায়ী লেবুর রস, আদা,রসুনসহ বিভিন্ন উপকরণ, নানা ধরনের মশলা যা লাগে সবকিছু ম্যারিনেট করে প্যাক করে পাঠিয়ে দিই। বাড়িতে শুধু রান্নাটুকু করে নিতে হবে। আর এছাড়া কাঁচা মাছ, আশ ছাড়িয়ে, পিস করে কেটে স্যানিটাইজ করা এয়ার টাইট প্যাকেটে প্যাক করা হয়। ডেলিভারি বয়ের অবশ্যই মাস্ক, গ্লাভস থাকে, তাঁর দেহের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে নেওয়া হয়। অর্থাৎ এই সময়ে যা যা সতর্কতা নেওয়া উচিত সবই করা হয়।’

 

কি কি মাছ পাওয়া যায়? বুবাইবাবু জানালেন, ‘সব ধরনের মাছ যেমন রুই, কাতলা, ভেটকি,তপসে, পারসে,কই, মাগুর, সিঙ্গি, পমফ্রেট সবই পাওয়া যায়। ইলিশের ডেলিভারিটা অবশ্য এখনও শুরু হয়নি। ‘

দাম মোটামুটি সাধ্যের মধ্যেই যেমন প্রতি কেজি হিসাবে রুই ২০০ টাকা, কাতলা ২২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা, পমফ্রেট ৩৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা, আসল ভেটকি ৬০০ টাকা, ভোলা ভেটকি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, দেশি মাগুর ( কালো) ৪৫০ টাকা, সিঙ্গি ৬০০ টাকা। আরও আছে বড় বাটামাছ ২০০, ছোটবাটা ১৬০ টাকা কেজি, পাবদা ৩৮০ টাকা, ছোট চিংড়ি ৩৮০ টাকা , গলদা চিংড়ি ৪৮০ টাকা, বাগদা ৬৫০ টাকা কেজি। বাগদার দাম গলদার চেয়ে বেশি কেন? বুবাইবাবু জানালেন,’ রহস্যটা হলো গলদা চিংড়ির মাথাটা অনেকটাই কাটার সময় বাদ হয়ে যায়। এইজন্যই দামটা কম।’ ম্যারিনেট করা মাছের দাম রেসিপি অনুযায়ী বদল হয়।

 

 

জরুরী তথ্য যেদিন মাছ প্রয়োজন তার আগের দিন দুপুর ১২ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে অর্ডার করতে হবে। প্রথম ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত ডেলিভারি চার্জ লাগবে না। ৩ কিলোমিটারের বেশি হলে দূরত্ব অনুযায়ী চার্জ করা হবে। আপাতত গড়িয়া থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে হোম ডেলিভারি হচ্ছে।
সুতরাং মাছেভাতে বাঙালির আর চিন্তা নেই। করোনার চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে একফোনে বাড়ি পৌঁছে যাবে টাটকা মাছ। তারপর খান না তপসে ফ্রাই, গলদা চিংড়ির মালাইকারি, ফিস কবিরাজি, ভেটকি মাছের পাতুরি যতো খুশি।

Related Articles

Back to top button
Close