fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

তৃণমূলকে রাজনীতির মাঠে দৌড় করাতেই বিজেপিতে এসছি! বিস্ফোরক জ্যোর্তিময়ী

রক্তিম দাশ, কলকাতা: স্টেডিয়ামের ট্র্যাকে দৌড়ে হারেন নি কখনও। রাজনীতি মাঠেও ছিলেন সাবলিল। কিছুদিন বিরতী থেকে ফের রাজনীতিতে ফিরলেন দৌড়বিড় জ্যোর্তিময়ী শিকদার গেরুয়া শিবিরের হাত ধরে । বিজেপিতে যোগ দিয়ে যুগশঙ্খকে প্রথম একান্ত সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক বাংলার সোনার মেয়ে জ্য্যোর্তিময়ীর মন্তব্য-‘ তৃণমূলকে রাজনীতির মাঠে দৌড় করাতেই বিজেপিতে এসছি!’

মঙ্গলবার জ্যোর্তিময়ী শিকদার বলেন,‘ খেলাধূলা ছাড়ার পর  রাজনীতিতে এসেছিলাম মানুষের জন্য কাজ করার জন্য। তখন সিপিএমে জ্যোতি বসু,অনিল বিশ্বাস, সুভাষ চক্রবর্তী। সেই পার্টি আজ আর নেই। দলের নির্দেশে সাংসদ হলাম। এরপর আমার ছেলে হল, পারিবারিক কারণেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম না। বেশ কয়েকটা বছর। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ আমার প্রতিবেশি হয়ে এলেন। আলাপ হল। আমি তো তৃণমূলের সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী নই। বিজেপি হলে কথা বলা যাবে না। দেখলাম সাধারণ মানুষ। প্রথম দিনেই আপন করে নিলেন। বললেন আমার ছোট বোন। তারপর  মোদিজির কাজ আমার মনে দাগ কেটেছে। গরীব মহিলাদের জন্য উনি কত কিছু করেছেন। যা আগে কোনও সরকার করেনি। বিনামূল্যে গ্যাস দিয়েছেন। ঘরে ঘরে টয়লেট দিয়েছেন।’

একসময় সিপিএম ছেড়ে তৃণমূল যোগ দিয়েছিলেন। তারপর আবার বিজেপি। এপ্রশ্নের উত্তরে জ্যোর্তিময়ী বলেন,‘ তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলাম এটা ঠিক। কিন্তু সেটুকুই ওঁরা কেন জানি আমার সঙ্গে আর যোগাযোগ করেনি কোনও দিন। আমিও করিনি। আর গত ৯ বছরে তৃণমুল তো ভাঙা হাট। আমফানে ভেঙে যাওয়া গাছের মতো মাটিতে শুয়ে পড়েছে তৃণমূল।’

অভিযোগের সুরে বাংলা এই সোনার মেয়ে বলেন,‘ এ আমরা কোথায় বাস করছি। রেশনের চাল চুরি, ডাল চুরি হচ্ছে। আর অন্যদিকে মোদিজি মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ৫০০ টাকা করে দিয়ে সাহায্য করছেন। এগুলো আমায় খুব কষ্ট দিয়েছে। লোকসভায় বিজেপি ১৮ আসন পাওয়ার পর মনে হয়েছে এরাই পারবে তৃণমূলকে সরাতে। কারণ মানুষ এদের ভরসা করছে। আমি মনে করি মঙ্গলবার অমিত শাহ যে সোনার বাংলা গড়ার ডাক দিয়েছেন তাতে আমার সামিল হওয়া উচিত। আর নয় অন্যায়। আমি সবাইকে বলব অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে বিজেপিকে সমর্থন করুন।’

বিজেপি তাঁকে যেভাবে কাজে লাগবে তাতেই রাজি জানিয়ে জ্যোর্তিময়ী বলেন,‘ আমাকে দিলীপদা বলেছেন ক্রীড়ক্ষেত্রে কাজ করার কথা বলেছেন। সত্যিই আমরা ক্রীড়ায় পিছিয়ে পড়েছি। তৃণমূল সরকার বাংলার ক্লাবগুলোকে লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়েছেন, কিন্তু ক্রীড়ার কি উন্নতি হয়েছে? রাজ্যে প্রতিবছর শিল্প সম্মেলন হয়েছে, অথচ কাজের খোঁজে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক ভিন রাজ্যে চলে গিয়েছেন। লকডাউন না হলেও তো এটা আমরা জানতে পারতাম না। এই শ্রমিকরা ফিরে আসছেন এলাকায়। তাঁদের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা ক্লাবগুলো কেন কোয়ারেন্টাইন করছে না? মাত্র ১৪ দিন রাখতে পারছে না? এত টাকা তাহলে গেল কোথায়? বাম আমলে দিদি ভাষণ দিতেন তিনি ক্ষমতায় আসলে কাউকে কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে যেতে হবে না। তাহলে এত শ্রমিক বাইরে গেল কেন?’

বিজেপি যদি চায় তাহলে তিনি বিধানসভা ভোটে লড়তেও রাজি বলে জানিয়ে জ্যোর্তিময়ী শিকদার বলেন,‘ আমি একথা বলছি না। যদি দল মনে করে তবে অবশ্যই লড়াইয়ে নামব। আমি নদিয়া জেলার দেবগ্রামের মেয়ে কোনও দিন হারতে লড়াইয়ের ময়দান থেকে পালাইনি। লকডাউন উঠে গেলেই আমি বাংলার মাঠে-ঘাটে দৌড়ে বেরাব। বাংলার রাজনীতির ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে তৃণমুলকে দৌড় করাতেই আমি বিজেপিতে এসেছি।’

Related Articles

Back to top button
Close