fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

অনুশীলন সমিতির শুরু করা কালী পুজো এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন মেদিনীপুরের লালদীঘি পূর্ব পাড়ের বাসিন্দারা 

সুদর্শন বেরা, পশ্চিম মেদিনীপুর: সালটা ছিল ১৯৩৯। ২০ বিঘার লালদীঘি কানায় কানায় পূর্ণ। চারপাশে ঘন জঙ্গল। এর পূর্ব পাড়ে ছিল উঁচু ঢিবি। লালদীঘির অন্য পাড় ব্যবহার হলেও ভুতের ভয়, বুনো জন্তু ও সাপের ভয় থাকায় পূর্ব পাড়ে কেউ আসতেন না। ঢিবির অন্য পাশে ছিল একটি গুহা। ১৯৩১ সালে খুন হন ব্রিটিশ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পেডি। অভিযুক্ত হন বিপ্লবী বিমল দাশগুপ্ত। গা ঢাকা দেন। লুকিয়ে পড়েন গোপন গুহায়। ব্রিটিশ পুলিশের অত্যাচার কিভাবে ঠেকানো যাবে সেই কৌশল জানতে অনুশীলন সমিতির সদস্যরা এখানে গোপনে রণ কৌশল অভ্যাস করতেন। এরই মধ্যে কালী পুজোর আয়োজন করা হয়। ঢিবির পাশে একটি শ্যাওড়া গাছের নিচে পুজো হয় কালো মৃন্ময়ী মূর্তি রণ চন্ডী।

পুজোতে বাইরের কারুর যাওয়া ছিল নিষিদ্ধ। ব্রিটিশ পুলিশও টের পেত না। প্রদীপ ও মশালের আলোয় পুজো হত। নিষ্ঠা ভরে পুজো হলেও কোনওরকম বাদ্যযন্ত্র, ঘন্টা বাজানো হতো না। রাতের অন্ধকারের মধ্যেই পুজো শেষ করা হত। ভোরের আলো ফুটলে আর পুজো হতো না। মূর্তি সেখানেই গড়া হত। আত্মীয়ের বাড়ি যাবেন বলে বেরিয়ে একদিন আগেই গোপন ডেরায় এসে পৌঁছতেন পুরোহিত। পুজোর পর প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হত না। জঙ্গলের এক প্রান্তে রেখে দেওয়া হত।

১৯৬৩ সাল পর্যন্ত এই পুজো চালিয়ে এসেছেন বিপ্লবী বিমল দাশগুপ্ত, অনাথবন্ধু পাঁজা, কিষাণ সাহারা। এরপর নিতাই দাস(জেলে) এবং চন্দনি নামে এক আদিবাসী মহিলা এই পুজো চালিয়ে যান। ১৯৯৮ থেকে স্পোর্টস ক্লাব এই পুজো চালায়। ২০১৬ সাল থেকে এই পুজো লালদীঘির পূর্ব পাড়ের সর্বজনীন কালী পুজো হয়েছে।

বর্তমান পুজোর উদ্যোক্তা পূর্ণেন্দু জানা, দুর্গাশঙ্কর দাস জানান, বিপ্লবীরা যেখানে পুজো করতেন সেই ঢিবিতেই পুজো হয় এখনও। শ্যাওড়া গাছটিও রয়েছে। এর চারপাশে লোহার রেলিং দেওয়া হয়েছে। পুজোর দিন এখানে বহু মানুষ আসেন। বিপ্লবীদের অনুশীলন সমিতির নিয়ম রীতি মেনেই পুজো হয়। তাই এই কালী পুজোকে কেন্দ্র করে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে যথেষ্ট উৎসাহ রয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close