fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কালিয়াচকে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কের এটিএম ভেঙে লুট ৮ লক্ষাধিক টাকা

মিল্টন পাল, মালদা: ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন একটি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কের এটিএম ভেঙে লুট। ঘটনাটি ঘটেছে মালদা কালিয়াচক থানার সুজাপুরের স্কুলপাড়া এলাকায়। বৃহস্পতিবার সকালে এলাকাবাসী ঘটনাটি নজরে আসে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে কালিয়াচক থানার পুলিশ।

জানা গিয়েছে, ওই এলাকার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশেই রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এটিএম কাউন্টারটি। এদিন সকালে এটিএম লুটের বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে তদন্তে যায় মালদার পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া সহ কালিয়াচক থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান প্রায় ৮ লক্ষ টাকা ওই এটিএম থেকে লুট করেছে দুষ্কৃতীরা। গ্যাস কাটার মেশিন ব্যবহার করেই এটিএম যন্ত্রটি বিকল করার পর টাকা লুট করা হয়েছে। পুরো ঘটনার বিষয়ে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

এদিকে গত কয়েক মাসের মধ্যে মালদায় পরপর বেশ কয়েকটি এটিএম লুটের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কয়েক মাস আগে মালদা শহরের ফুলবাড়ি, স্টেশন রোড এবং গাজোল এলাকাতেও এটিএম লুটের ঘটনা ঘটেছে। সেইসব ক্ষেত্রে তদন্ত চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ । তবে এই ঘটনার পিছনে একটি বড় দুষ্কৃতীদের চক্র কাজ করছে তা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ।

এদিন সকালে সুজাপুর স্কুলপাড়া এলাকায় এটিএম ভাঙার বিষয়টি স্থানীয় কিছু মানুষ দেখতে পাই। ঘটনার খবর পেয়ে তদন্তে আসে কালিয়াচক থানার পুলিশ। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সুপার ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্তারাও যায়।

পুলিশের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, প্রায় দেড় বছর আগে সুজাপুরের এই এলাকার জাতীয় সড়ক থেকেই ৩৪ লক্ষ টাকা লুট করেছিল দুষ্কৃতীরা। গুলি চালিয়ে একটি গাড়ি থেকেই ওই টাকা লুট করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পর ফের এটিএম লুট হওয়ার খবরে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এটিএম কাউন্টারটি রয়েছে। ঘন জনবসতিপূর্ণ ওই এলাকার এটিএম কাউন্টারের ভেতরেই একটি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। কিন্তু বাইরে কোন ক্যামেরা লাগানো ছিল না। এমনকি ওই এটিএমে কোন নৈশপ্রহরীও ছিল না । গভীর রাতে দিকেই দুষ্কৃতীরা এটিএম লুটের ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশের অনুমান। ওই এটিএম কাউন্টারের সমস্ত মেশিন ভেঙে ফেলা হয়েছে গ্যাস কাটার দিয়ে। টাকা রাখার বাক্সটিও গ্যাস কাটারের মাধ্যমে কেটে নিয়েছে দুষ্কৃতীরা। সিসি টিভির ক্যামেরায় বেশ কয়েকবার ভারি কিছু বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ।

এদিকে এটিএম লুটের ঘটনা প্রসঙ্গে মালদা জেলা ইউনাইটেড ব্যাংকের ম্যানেজার সুশান্ত হালদার জানান, সুজাপুরের স্কুলপাড়া এলাকার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এটিএম থেকে টাকা লুটের ঘটনা ঘটেছে। তবে ওই এটিএমে কত টাকা ছিল তা এখনই বলা যাচ্ছে না। পুরো বিষয়টি পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছি।

পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, এটিএম কাউন্টারে সিসিটিভি ক্যামেরা গোপন রাখার ক্ষেত্রে এর আগেও বিভিন্ন ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকে ঢোকার মুখেই সিসিটিভি বসানোর কথা জানানো হয়েছিল। এই এটিএম এর ক্ষেত্রে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি।তবে টিএমটি লুটের ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজ দেখে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close