fbpx
অন্যান্যপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

৪৬ বছর ধরে ব্যাকরণের বইতেই ‘আদর্শ শিক্ষক’ কালীপদ চৌধুরী

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক: অভিনব শিক্ষক তিনি। বাংলা ব্যাকরণের জগতে তিনি অনন্য। টানা ৪৬ বছর ধরে বাঙালির হৃদয়ে তিনি স্থান করে নিয়েছেন ‘বাংলা ব্যকরণ ও রচনা প্রসঙ্গ’ বইয়ের মাধ্যমে। তিনি কালীপদ চৌধুরী। পূর্ব মেদিনীপুরের প্রত্যন্ত হাউরের বাসিন্দা। সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে এখানেই প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘গ্রন্থলোক পাঠাগার’। প্রতি বছর শিক্ষক দিবসের দিন ছাত্র ছাত্রীদের কাছে এটি হয়ে ওঠে তীর্থক্ষেত্র। আসলে ব্যাকরণ পাঠের সাথে সাথে উঠে আসে কেবল তাঁর নাম।

পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার ছাত্র ছাত্রীদের কাছে সমধিক জনপ্রিয় কালীপদ চৌধুরীর বাংলা ব্যাকরণ বই। ব্যাকরণ রচনার জগতের দিকপাল পি আচার্য, বিভূতিভূষণ চৌধুরীদের সঙ্গে সমোচ্চারিত নাম।  ১৯৩৩ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর জন্ম। প্রথমে মহারাজপুর হাইস্কুলে, পরে রাণিচক দেশপ্রাণ হাইস্কুল ও নারায়ণগড় হৃষিকেশ লাহা হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত হাউরের ঘোষপুর হাইস্কুলের বাংলার শিক্ষক রূপে ছিলেন। আজ ৮৮ বছর বয়সেও সমানে চালিয়ে যাচ্ছেন পড়াশোনা, লেখাযোখা এবং গবেষণা।

একসময় তাঁর ব্যাকরণ বই শুধু বড়দের জন্য ছিল। এখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের জন্যেও লিখেছেন ব্যাকরণ। তাঁর মতে, ছোট থেকেই ব্যাকরণের ছোটখাটো ভুলগুলো শুধরে নেওয়া জরুরি। শুধু ব্যাকরণ বই নয়, এই শিক্ষক লিখেছেন উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, অভিধান সহ লিটল ম্যাগাজিন। তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘মরশুমি’। ইতিমধ্যে তিনি লিখেছেন ‘পরাবৃত্ত’, ‘বন্ধ্যা বিভাবরী’, ‘রাক্ষসী সরোবর’ ইত্যাদি। ১৯৭৬ এ প্রতিষ্ঠা করেন ‘হাউর সাহিত্য পাঠচক্র’। আজও সমানভাবে সাবলীল তা।

আরও পড়ুন: অনলাইনে শিক্ষক দিবস পালন তমলুকের গড়কিল্লা হাইস্কুলে

তাঁর প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারে প্রায় ১৬০ টি বিষয়ের ১১ হাজার বইয়ের সম্ভার রয়েছে। শুধুমাত্র ছাত্র ছাত্রীদের জন্য সোমবার বাদে সপ্তাহের বাকি দিনগুলো খোলা। দৃশ্য শ্রাব্য মাধ্যমে নিয়মিত বিনামূল্যে ক্লাস করানোর ব্যাবস্থা করেছেন তিনি। আসলে বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা থেকে অবসর নিলেও আজও তিনি পাশে থাকতে চান ছাত্রছাত্রীদের। তাঁর কাছে প্রতিদিন ছাত্রছাত্রীদের সাথে মিশে থাকাই প্রকৃত ‘শিক্ষক দিবস’।

 

Related Articles

Back to top button
Close