fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সোয়া ১৯ হাত কালীপুজোকে ঘিরে জোর ব্যস্ততা দিনহাটায়

জেলা প্রতিনিধি, দিনহাটা: করোনা ভাইরাসের কঠিন এই সময়কালে দুর্গাপুজোর পর সোয়া উনিশ হাত কালীপুজোকে ঘিরে জোর ব্যস্ততা শুরু হয়েছে দিনহাটায়। দিনহাটা নাম নেই সংঘেরতান্ত্রিক মতে এই পুজোর আকর্ষণ আজও কমেনি গোটা জেলাজুড়ে। প্রতি বছর তান্ত্রিক মতে এই পুজায় মহকুমার বাইরে থেকেও বহু ভক্ত আসেন মায়ের পুজো দেখতে। কালী প্রতিমা এখানে সোয়া ১৯ হাত। উদ্যোক্তাদের কথায় সোয়া ১৯ হাত কালী প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ২৭ মন পাটকাঠি, প্রায় আড়াই হাজার খড়ের আঁটি , ৭০ কেজির মত দড়ি এবং মাটি লাগে এক ট্রাক। প্রতিমার পাশাপাশি শিব এবং কালীর চুল তৈরিতে লাগে ৭০ কেজির মতো পাঠ। পুজো কমিটির সভাপতি উদয়ন গুহ, সম্পাদক শিবনাথ সাহা প্রমুখ বলেন, তান্ত্রিক মতের এই পুজোয় বাহ্যিক আড়ম্বর তথা সাজ শয্যার পরিবর্তে নিয়ম নিষ্ঠাই তাদের পুজোর মূল বৈশিষ্ট্য। করোনা আবহে এবছর নিয়ম মেনে পুজো হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই হচ্ছে। তবে এবছর বসছে না মেলা। নেওয়া হবে না কোন ভোগ। বিতরণ করা হবে না প্রসাদ। তান্ত্রিক মতে এই পুজোর জন্য মড়ার খুলি, বোয়াল মাছ ইত্যাদি দরকার।

আরও পড়ুন:লকডাউনের আবহ কাটিয়ে আগামী ১ নভেম্বর থেকে খুলে যাচ্ছে সুন্দরবনের সব পর্যটন কেন্দ্র

দিনহাটা নাম নেই সংঘের এই পুজোয় মাতৃমূর্তি গড়া হয় পুরনো কাঠামোতেই। নিয়ম মেনে মণ্ডপে পুজো শুরুর আগে শ্মশানে শিবা ভোগ দিতে যান পুরোহিত। বৈদিক হোম যজ্ঞ থেকে চণ্ডীপাঠ সবই হয় নিষ্ঠা সহকারে। খড়্গ হাতে শ্মশানে হয় নৃত্য।

পুজো উদ্যোক্তাদের বিমল চন্দ রায়, শিবনাথ বোস প্রমুখরা জানান, পুজোয় বৈদিক হোমজজ্ঞ থেকে চন্ডীপাঠ সবই হয় নিষ্ঠা সহকারে। মাতৃ আরাধনায় আসামের ধুবড়ি থেকে আসছেন পূজারি। ওই পুজো আবার দিনহাটার বিধায়কের পুজো বলেও পরিচিত। বিধায়ক বলতে উদয়ন গুহ। পুরসভার নানা কাজ এবং দলীয় নানা কাজের পাশাপাশি পুজোর দিকেও দিনরাত নজরদারি করছেন তিনি। তবে কালীপুজোর দিন অবশ্য কোথাও যাবেন না তিনি। অন্যান্য বছরের মত এবছর পুজো মণ্ডপেই থাকবেন বলে জানান উদয়ন গুহ। পুজো উদ্যোক্তারা জানান, ১৯৭৫ সালে এই পুজো শুরু হলেও প্রথম দিকে প্রতিমার উচ্চতা ছিল সাড়ে ১১ হাত। ধীরে ধীরে তা বাড়ানো হয়। এখন সোওয়া উনিশ হাতের কালীপুজো হয়। ওই উচ্চতা আর বাড়ানো হবে না বলে জানানো হয়েছে। পুজোয় সদানন্দময়ী কালী তথা মহাকালের মনমোহিনী মৃন্ময়ী রূপ ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত শিল্পীরা।

Related Articles

Back to top button
Close