fbpx
কলকাতাহেডলাইন

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’, মুখ্যসচিব-ডিজিকে তলব নিয়ে পালটা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবকে চিঠি কল্যাণের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার কনভয়ে হামলা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য চাপানউতোর এবার নতুন মাত্রা পেল। শুক্রবার মুখ্যসচিব চিঠি দিয়ে সেই বৈঠক থেকে ‘অব্যাহতির অনুরোধ’ করেন। শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব অজয় ভাল্লাকে এই বিষয়ে একটি চিঠি দিলেন লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নাড্ডার কনভয়ের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল রাজ্য বিজেপি। এ ব্যাপারে রাজ্যপালের কাছেও ওই  হামলা সম্পর্কে রিপোর্ট চাওয়া হয় কেন্দ্রের তরফে। গতকাল সেই রিপোর্ট পাঠিয়েছেন রাজ্যপাল। তার পরেই রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজ্যের ডিজি ও মুখ্যসচিবকে ১৪ তারিখ তলব করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। মন্ত্রকের সচিব অজয় ভাল্লার সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রকে তীব্র নিশানা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের চিফ হুইপ ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

এবার ভাল্লাকেই পাল্টা চিঠিতে বিঁধেছেন কল্যাণ। ছত্রে ছত্রে নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তো তুলেছেন তেমনি প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের দুই পদাধিকারী আধিকারিককে দিল্লিতে ডেকে পাঠানোর সাংবিধানিক এক্তিয়ার নিয়েও। তবে সব থেকে বড় আঘাতটি কল্যাণ হেনেছেন চিঠির একদম শেষ দিকে। সেখানেই তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবকে বিঁধে লিখেছেন, ‘অমিত শাহের চাকর হয়ে থাকবেন না’।কল্যাণ তাঁর চিঠিতে লেখেন, ‘সংবিধান অনুসারে আইন-শৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয়। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনার জন্য কী ভাবে রাজ্যের দুই অফিসারকে তলব করা হল?’এর পর কল্যাণের প্রশ্ন, ‘রাজ্য তালিকাভুক্ত কোনও বিষয়ে ভারতীয় সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী কি হস্তক্ষেপ করা যায়?’ তাঁর কটাক্ষ, ‘মনে হচ্ছে এর পিছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি আছে।’

নড্ডার কনভয়ে হামলার পর যতই রাজ্যকে দুষেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, ততই তৃণমূল নেতারা তার পাল্টা জবাবে সুর চড়িয়েছেন। শুক্রবার কল্যাণ বলেছিলেন,নড্ডার কনভয়ের ‘দুষ্কৃতী’ রাকেশ সিংহের থাকাটাই ইন্ধন জুগিয়েছে। তাঁর দাবি ছিল, ”রাকেশ খিদিরপুরের বাসিন্দা। ওর বিরুদ্ধে ৫৯টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। নড্ডার কনভয়ের সামনের একটি গাড়িতে ও যাচ্ছিল বলে খবর পেয়েছি। রাস্তার ধারে যে সব মানুষ বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তাঁদের প্রতি রাকেশ কুরুচিকর মন্তব্য করে বলেও শুনেছি। এ-ও জেনেছি, রাকেশ কুত্‍সিত ইঙ্গিত করে জনতাকে ক্ষেপিয়ে তুলেছিল। এর আগে বিদ্যাসাগরের যে মূর্তি ভাঙা হয়েছিল, তার নেতৃত্বে রাকেশ এবং ওর দলবল ছিল।” শুক্রবার সন্ধ্যাতেই তিনি ইঙ্গিত দেন, শনিবার একটি ‘বোমা’ ফাটাতে চলেছেন তিনি। এর পরই প্রকাশ্যে এল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবকে লেখা তাঁর ওই চিঠি।কল্যাণ প্রশ্ন করেছেন, ‘প্রশাসনকে না জানিয়ে কী ভাবে ৫০টি মোটরসাইকেল এবং ৩০টি গাড়ি নড্ডার কনভয়ে জুড়ে দেওয়া হল? সেখানে রাকেশ সিংহের মতো দুষ্কৃতীকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরেছেন নড্ডা। যে রাকেশের নামে ৫৯টি মামলা রয়েছে’।

আরও পড়ুন: ৭০-এ পা দিলেন রজনীকান্ত, শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

চিঠিতে কল্যাণ লেখেন, ‘মনে হচ্ছে, এই চিঠি (মুখ্যসচিব এবং ডিজি-কে) লেখা হয়েছে মন্ত্রীর নির্দেশে, যে মন্ত্রী ভারতীয় জনতা পার্টির সদস্য। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনে কর্মরত দুই অফিসারকে জোর করে আলোচনায় বসার জন্য তলব করা হয়েছে’। চিঠির ছত্রেছত্রে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আক্রমণ করেছেন কল্যাণ। শেষ দিকে লিখছেন, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অমিত শাহের কথা মতো আপনারা আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন। এটা খুবই লজ্জাজনক’।      নাড্ডার ঘটনা নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের কোনও গাফিলতির অভিযোগ যদি বিজেপি বা কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে করা হয় তাহলে এই বিষয়গুলি দিয়েই কিন্তু রাজ্য সরকারও যে পাল্টা প্রতিরোধ করবে সেটা এদিন বুঝিয়ে দিয়েছেন কল্যাণ। তৃণমূলের সংসদীয় দলের চিফ হুইপ হিসাবে কল্যাণের এই চিঠি কার্যত কেন্দ্র সরকার ও গেরুয়া ব্রিগেড উভয়ের কাছেই অস্বস্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close