fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বর্ধমানের হিন্দু পরিবারের আতিথেওতায় ঈদ মানালেন দুই কাশ্মীরি মুসলমান যুবক

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: হিন্দুর বাড়িতে থেকে রোজা পালনের পর সেখানেই পবিত্র ইদের নমাজ সারলের দুই কাশ্মীরি মুসলমান যুবক। সোমবার সম্প্রীতির
এমনই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের স্বাক্ষী থাকল শহর বর্ধমান। হিন্দু পরিবারে আতিথেওতায় ঈদ পালন করতে পেরে আপ্লুত কাশ্মীরি যুবকরা। লকডাউন চলায় নিজেদের বাড়ি ফিরতে পারেননি দুই কাশ্মীরি মুসলমান যুবক। তাঁদের আশ্রয় দিয়েছেন বর্ধমানের ভাতছালা বাসিন্দা পল্লব দাসের পরিবার। রোজা শুরুর প্রথম দিন থেকেই তাঁরা পল্লববাবুর বাড়িতে থেকেই রোজা পালন করেছেন। সেখানেই নমাজ পাঠ শেষে রোজা খুলে ইফতারও সারেছেন। যুবকদের রোজাপালন ও ইফতার সারার ব্যাপারে সর্বতভাবে সহযোগিতা করে গেছেন পল্লব দাস ও তার মা রাইমণি দাস।

এদিন কাশ্মীরি মুসলমান যুবকরা ঈদও মানালেন হিন্দু দাস বাড়িতে থেকেই। ঈদের নমাজ পাঠ থেকে শুরু করে সব কিছুই ঠিকঠাক সারতে পেরে খুশি কাশ্মীরি মুসলমান
যুবকরা। এদিন নমাজ পাঠ সেরে কাশ্মীরি যুবক ফৈয়াজ আহমেদ ও মনজুর আহমেদ বলেন, সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করার মহত্মবোধ পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদেরই রয়েছে।

পল্লব দাস ও তার মা রাইমণি দাস এদিন জানালেন , প্রতিবছর শীতের শুরুতে ফৈয়াজ ও তার ভাই মনজুর কাশ্মীর থেকে বর্ধমানে চলে আসে। রাইমণিদেবী বলেন, যুবকরা এবছরও তাঁদের বাড়ি ভাড়া নিয়ে নভেম্বর মাস থেকে থাকতে শুরু করে। তাই দায় বিপদে তিনি তাঁদের পাশে থাকেন। ফৈয়াজ ও মনজুর এপ্রিল মাস পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে শীতবস্ত্র বিক্রি করে। এবছরও নির্দিষ্ট সময়ে ওরা দুই ভাই বর্ধমানে আসে।

কিন্তু করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোখার জন্য লকডাউন চালু হতেই ওরা বিপাকে পড়ে যায়। কাশ্মীরের বাড়িতে আর ফিরতে না পেরে ওরা তাঁদের বর্ধমানের বাড়িতেই আটকে পড়ে। তারই মধ্যে রোজা শুরুর দিনও নির্দিষ্ট হয়ে যায়। রাইমণিদেবী জানালেন, রোজা পালনে ফৈয়াজ ও মনজুরকে যাতে কোনও অসুবিধায় পড়তে না হয় তার জন্য তিনি ও তাঁর ছেলে সর্বতভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।

দুই কাশ্মীরি মুসলান যুবক মানসিক তৃপ্তি নিয়ে যাতে ঈদ পালন করতে পারেন তার আয়োজনে তারা কোনও ত্রুটি রাখতে চাননি। ফৈয়াজ ও মনজুর এদিন বলেন , ‘বাঙালির এই মহানুভবতা চিরদিন মনে রাখব। পল্লববাবু ও তাঁর মায়ের আতিথেওতার কথা কাশ্মীরে ফিরে গিয়ে সবাইকে বলব।’

Related Articles

Back to top button
Close