fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কন্যাশ্রী প্রকল্পের টাকা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কাটমানির অভিযোগ

মিল্টন পাল, মালদা: বাংলার গুরুত্বপূর্ণ  প্রকল্প কন্যাশ্রী। আর সেই প্রকল্পের টাকা পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও এক চতুর্থ শ্রেণীর কর্মীর বিরুদ্ধে। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মীর ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল। ঘটনাটি মালদার চাঁচোল ২ নম্বর ব্লকের জালালপুর হাই মাদ্রাসার। বিডিও এবং চাঁচোল মহকুমা শাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের অভিভাবক এবং দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রদের। অভিযোগ অস্বীকার স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাফাজ্জল হোসেনের। ঘটনার তদন্তের নির্দেশ মালদার জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্রের।

জানা গিয়েছে, গ্রামবাংলার ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার জন্য কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই প্রক্লোপ বাংলা নয় বাংলার বাইরেই খ্যাতি অর্জন করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৭ বছর হলেই ছাত্রীদের এককালীন ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয় উচ্চশিক্ষার জন্য। কিন্তু সেই টাকা নিতে ও দিতে হচ্ছে কাটমানি। এবারে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠল স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মীর বিরুদ্ধে। চাঁচোল ২ নম্বর ব্লকের জালালপুর হাই মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাফাজ্জল হোসেন ও স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী মোহাম্মদ হারুনের বিরুদ্ধে ৫হাজার টাকা করে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ। কাটমানি না দিলে মিলবে না কন্যাশ্রীর টাকা বলেও হুমকি দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল। সেই ভিডিও ক্লিপিং জমা দিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মীর বিরুদ্ধে বিডিও মহাকুমা শাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিভাবক ও ওই স্কুলে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রদের একাংশ।

[আরও পড়ুন- মানসিক অবসাদের জেরে আত্মহত্যা প্রাক্তন অধ্যাপকের]

দুই অভিযুক্তের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। এক অভিভাবক সাদ্দাক আলী জানান, কন্যশ্রী প্রক্লপে সব জায়গায় ছাত্রীরা বিনা পয়সায় টাকা পাচ্ছে। অথচ এই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও গ্রুপ ডি কর্মী যোগ সাযোস করে কন্যাশ্রীর জন্য মোটা অঙ্কের টাকা নিচ্ছে। তার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। গোটা ঘটনা আমরা বিডিও ও থেকে জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা যাতে নেওয়া হয় তার দাবি আমরা জানাচ্ছি।

জেলা বিজেপির সহ সভাপতি অজয় গাঙ্গুলী বলেন, বাংলার সমস্ত কিছু নষ্ট করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। কন্যাশ্রী থেকে সমস্ত প্রকল্পে কাটমানি নেওয়ার পথ তৈরী করে দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল। অবিলম্বে বিজেপি এর তদন্তের দাবি জানাচ্ছে। না হলে এলাকার মানুষকে নিয়ে পথে নামবে বিজেপি।

জেলা তৃণমূলের কো-অডিনেটর দুলাল সরকার বলেন, কন্যশ্রী প্রকল্পের টাকার জন্য কোনও টাকা কাউকে দিতে হয় না। যদি কেউ নিয়ে থাকে তার যদি অভিযোগ হয়ে থাকে প্রশাসন রয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। আমরাও চাই এর তদন্ত হোক।

ভাইরাল ভিডিওর বিষয়ে কিছু জানা নেই বলে দাবি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। মালদার জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র জানিয়েছেন ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

Related Articles

Back to top button
Close