fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রক্ত দিয়ে অসুস্থ বধূর প্রান বাঁচালেন কাটোয়ার এক পুলিশ কর্মী

দিব্যেন্দু রায়,কাটোয়া: চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন দ্রুত রক্ত দিতে না পারলে প্রাণ সংশয় হতে পারে। এদিকে যে গ্রুপের রক্ত দরকার তা ব্লাডব্যাঙ্কে মজুত নেই । ফলে বিপাকে পড়ে গিয়েছিলেন রহিমা বেগম নামে বছর সাতাশের এক বধূর পরিবারের লোকজন। শেষে রক্ত দিয়ে ওই বধূর প্রাণ বাঁচালেন মইনুদ্দিন শেখ নামে কাটোয়া থানার এক পুলিশকর্মী ।

কাটোয়া থানার হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা মইনুদ্দিন বর্তমানে কাটোয়া থানার হোমগার্ড পদে কর্মরত রয়েছেন। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালেই ডিউটি পড়েছিল তাঁর। তিনি যখন জানতে পারেন তাঁর ও রহিমার একই গ্রুপের রক্ত সঙ্গে সঙ্গে তিনি রক্ত দিতে রাজি হয়ে যান। ফলে প্রাণ বাঁচে ওই বধূর। মইনুদ্দিনের এই মানসিকতার প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বধূর পরিবারের লোকজন।

মঙ্গলকোটের নিগনে শ্বশুরবাড়ি রহিমা বেগমের। লকডাউনের আগেই বাপেরবাড়ি কাটোয়া পুর এলাকার বাগানেপাড়ায় আসেন। তারপর থেকে অসুস্থতার কারনে বাপের বড়িতেই ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রহিমাকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ।

বধূর বাবা ফকির শেখ বলেন, ” হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা জানান রহিমার রক্তে হিমোগ্লোবিন অনেক কমে গেছে । অবিলম্বে রক্ত দিতে হবে । তা না হলে প্রান সংশয় পর্যন্ত হতে পারে । চিকিৎসকদের কাছ থেকে এই কথা শোনার পর আমি দ্রুত ব্লাডব্যাঙ্কে যাই । আমার মেয়ের রক্তের গ্রুপ AB+.ব্লাড ব্যাঙ্কে গিয়ে জানতে পারি ওই গ্রুপের রক্ত নেই । তখন নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছিল ।’

জানা গেছে, কাটোয়া হাসপাতালের হেমরাজ ব্লাডব্যাঙ্ক থেকে রক্ত না পেয়ে হাসপাতাল চত্বরে উদভ্রান্তের মত ঘোরাঘুরি করছিলেন ফকির শেখ। তখন মইনুদ্দিনের তাঁকে কাছে ডেকে জিজ্ঞাসা করে বিষয়টি জানেন । তারপর মইনুদ্দিন আশ্বস্ত করলে শান্ত হন বধূর বাবা। স্থানীয়দের পাশাপাশি ওই পুলিশকর্মীর প্রশংসা করেছেন কাটোয়া মহকুমা ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরামের সম্পাদক জয়দেব দত্ত।

Related Articles

Back to top button
Close