fbpx
অন্যান্যঅফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

স্মার্ট ফোনের অভাবে অনলাইন ক্লাস থেকে বঞ্চিত পড়ুয়াদের বাড়িতে গিয়ে পড়াচ্ছেন কাটোয়ার স্কুল শিক্ষক

দিব্যেন্দু রায়, কাটোয়া: লকডাউনের কারণে বন্ধ স্কুল।এই অবস্থায় পড়ুয়াদের স্বার্থে অনেক স্কুলেই অনলাইন ক্লাস চলছে। পাশাপাশি প্রাইভেট টিউটররা ই-ক্লাস শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু এমন অনেক পড়ুয়া আছে যাদের বাবা-মায়ের স্মার্টফোন কেনার সামর্থ নেই। ফলে ওই সমস্ত দরিদ্র পরিবারের পড়ুয়ারা অনলাইন ক্লাস থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। এই অবস্থায় এগিয়ে এসেছে টোটোন মল্লিক নামে কাটোয়ার এক স্কুল শিক্ষক। তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়ানোর দায়িত্বভার টোটোনবাবু তুলে নিয়েছেন নিজের কাঁধে।

 

তবে তার জন্য তিনি কোনও বেতন নিচ্ছেন না। সম্পূর্ণ বিনা বেতনে পাঠ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি পড়ুয়াদের হাতে মাস্কও তুলে দিচ্ছেন। কাটোয়ার ওই স্কুল শিক্ষকের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন উপকৃত পড়ুয়াদের অবিভাবকসহ এলাকার বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন: লকডাউনে চাকরি হারানোর অবসাদ, হোটেলে উদ্দাম যৌনতা, করোনার গ্রাসে অস্ট্রেলিয়া

কাটোয়া পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা টোটোন মল্লিক কাটোয়ার কাশীরাম দাস ইন্সটিটিউশনের ভুগোল বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। টোটোন মল্লিক বলেন, ” লকডাউনের কারণে অনেক স্কুলেই অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছে। কিন্তু পড়ুয়াদের একটা অংশ দেখছি শুধুমাত্র স্মার্টফোনের অভাবে অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পারছে না। ফলে তারা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে। তখন আমি সিদ্ধান্ত নিই ওই সমস্ত পড়ুয়াদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়ানোর।”

জানা গেছে, কাটোয়া শহরের পাবনা কলোনি, হাজরাপুর কলোনি, সর্দারপাড়া, অজয়পল্লি, ফরিদপুর কলোনি প্রভৃতি এলাকার অনেক দরিদ্র পরিবারের পড়ুয়া কাশীরাম দাস ইন্সটিটিউশনে পড়াশোনা করে। জুনের শেষের দিক থেকে ওই সমস্ত পড়ুয়াদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাঠ দিচ্ছেন টোটোনবাবু। এছাড়া কাটোয়ার শাঁখাই ঘাট থেকে নৌকায় নদী পার হয়ে পড়াতে যাচ্ছেন ভাগীরথীর অপরপ্রান্তের বেগুনকোলা গ্রামে। নিজের স্কুলের পড়ুয়াদের পাশাপাশি অন্যান্য স্কুলের পড়ুয়াদের বাড়ি গিয়ে পড়াচ্ছেন তিনি। টোটোনবাবু জানিয়েছেন, যতদিন না স্কুল খুলছে ততদিন তিনি এইভাবেই পড়ানোর কাজ চালিয়ে যাবেন।

Related Articles

Back to top button
Close