fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

ভারতে জেহাদিদের এপিসেন্টার কেরল! বিস্ফোরক অভিযোগ ভিএইচপির

রক্তিম দাশ, কলকাতা: কাশ্মীর নয়, ভারতে জেহাদিদের এপিসেন্টার বাম শাসিত কেরল! এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুরেন্দ্র জৈন। সম্প্রতি এক ধর্মগুরু কেরলকে ইসলামিক রাজ্য করা হবে বলে যে ঘোষণা দিয়েছেন তার জবাবে যুগশঙ্খকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেন তিনি।

এদিন সুরেন্দ্র জৈন বলেন,‘ দক্ষিণ ভারতকে ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদের লঞ্চিং প্যাড বানানো হয়েছে। সবার ধারণা, দেশভাগের পর থেকে কাশ্মীর থেকে দেশে জঙ্গিবাদের উৎপত্তি। এটা ঠিক নয়। ভারতবর্ষে জঙ্গিবাদের ইতিহাস প্রায় ১০০ বছরের পুরনো। ১৯২০ সালে এই দক্ষিণ ভারত থেকে যারা সূত্রপাত। মোপলা জেহাদিরা হিন্দুদের ওপর আক্রমণ নামিয়ে এনেছিল। এধরণের অত্যাচার আর নারী ধর্ষণ দেশভাগের দাঙ্গার সময় ছাড়া আর কোনও সময় হয়নি। তখন থেকে আজ পর্যন্ত এখানে জেহাদি কট্টরপন্থীরা সক্রিয়তা বাড়াচ্ছে। আর কেরল তার হট বেল্ট হয়েছে। যাকে বলতে পারেন জেহাদিদের এপিসেন্টার। কর্ণাটকে যখন হিন্দুদের ওপর হামলা হয়, তখন দেখা যায় কেরল থেকে জেহাদিরা এসে ঘটনা ঘটাচ্ছে।

সম্প্রতি সিএএ নিয়ে ম্যাঙ্গালুরুতে যে এতবড় হামলা হল। এখানেও কেরল থেকে কট্টরপন্থীরা এসেছিল। তার প্রমাণ আছে।’
সুরেন্দ্র জৈন অভিযোগের সুরে বলেন,‘দেশবাসীর দুর্ভাগ্য তথাকথিত সেকুলার সরকার কেরল, তামিলনাড়ু– এবং কর্ণাটকে বেশিরভাগ সময় ছিল। এদের কারণেই জেহাদিরা উৎসাহিত হয়েছে। মদত পেয়েছে। আর এর কারণে উগ্রতা বেড়েছে গোটা দক্ষিণ ভারতজুড়ে। বলা হয়, অর্থনৈতিক কারণে জঙ্গিবাদ বাড়ে। এটা কিন্তু ঠিক নয়। এসব রাজ্যগুলিতে একাংশ ধনীদের দেখা গিয়েছে যারা এর সঙ্গে জড়িত। কেরল এবং তামিলনাড়ু থেকে আরব দেশেগুলোতে যারা চাকরি করে, তারা যে টাকা পাঠায় তার বড় অংশ জেহাদি কার্যকলাপে ব্যয় হয়। তাই ইসলামিক ব্যাংকের শাখা হয় কেরলে। লাভ জেহাদ বেশি হয় কেরল, তামিলনাড়ুতে। এগুলো সবই প্রমাণিত সত্য। এখানে তথাকথিত সেকুলার আর জেহাদিদের একটা অপবিত্র জোট হয়েছে। দেশের পক্ষে যা মারাত্বক।’

আরও পড়ুন:করোনার সময় কেন ‘ আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা বাংলার গরিব মানুষ পেল না: প্রশ্ন রাহুলের 

সুরেন্দ্র জৈনের দাবি,‘ যেখানে ধর্মীয় কট্টারপন্থা বাড়বে, সেখানেই জেহাদিরা সক্রিয় হবে। যা আজ বিশ্ব জুড়ে সমস্যা তৈরি করছে। এই কট্টরপন্থা ইউরোপ, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ সহ প্যালেস্তাইনে ভূমিপুত্রদের নিকেশ করে দিয়েছে। তাঁদের ধর্ম, সংস্কৃতি সব কিছুর বিনাশ করে দেওয়া হয়েছে ধাপে ধাপে অনুপ্রবেশ আর জনসংখ্যা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে। সুইডেনের দিকে তাকিয়ে দেখুন। জার্মানিতে শরিয়ত স্থাপনের দাবি উঠছে। এসব কিসের ইঙ্গিত তা আমাদের বুঝতে হবে।’

বাংলাতেও এই সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন সুরেন্দ্র জৈন। তিনি বলেন,‘ বাম আমলে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য অনুপ্রবেশ আর অনুমোদন বিহীন মাদ্রাসা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। তাঁকে পরের দিনই দলের চাপে বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হয়েছিল। তাঁর ওপর দলের নিয়ন্ত্রণ ছিল। কিন্তু এখন তৃণমূলের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। এরা দিশাহীন। শুধুমাত্র ভোটব্যাংকের জন্য তাঁরা অনুপ্রবেশকে মানছেন না। এর জবাব হিন্দু সংগঠনগুলোই দেবে। ঠিক যেমন দুই বছর আগে রামনবমীতে হিন্দু সংগঠনগুলো তাঁদের শক্তি প্রদর্শন করেছিল। দিদি বলেন, এটা মায়ের দেশ। মাতৃশক্তির আরাধনা হয় বাংলায়। এখানে ভগবান রাম বা হনুমানজীর কোনও স্থান নেই। কিন্তু উনি ভুলে গিয়েছেন, রাম যখন রাবণের সঙ্গে যুদ্ধে গিয়েছিলেন তখন দুর্গাপুজো করেছিলেন। ভগবান রাম এবং মা দূর্গাকে আলাদা করা যায় না।’

Related Articles

Back to top button
Close